স্কটল্যান্ড প্রস্তুতি ম্যাচের দুটিতেই জিতেছে। নেদারল্যান্ডস ও নামিবিয়ার সঙ্গে দুই ম্যাচেই জয় তাদের। বাংলাদেশ দুই প্রস্তুতি ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে হারে। নিজেদের জয় আর বাংলাদেশের হার দেখে স্কটিশদের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। দলের কোচ শেন বার্গার এখন সরাসরি বাংলাদেশকে ‘গোনায় ধরছি না’ বলে দিচ্ছেন! কিন্তু বাংলাদেশ বড় দলের পরিচয় দিয়ে থাকছে নিশ্চুপ। প্রতিপক্ষকে সম্মান জানিয়ে বিনয়ের সঙ্গেই মাঠে নামার ঘোষণা দিলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। তাই বলে নিজেদের ক্রিকেটটা কি খেলবে না বাংলাদেশ! অবশ্যই খেলবে। বিপক্ষকে সম্মান দিয়েই প্রয়োজন মতো সবচেয়ে হার্ড ক্রিকেট খেলবে টাইগাররা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সপ্তম আসরে মাহমুদউল্লাহর লক্ষ্য সত্যি হোক। প্রস্তুতি ম্যাচের হার ভুলে জয়ে শুরু হোক বাংলাদেশের পথচলা।
টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে মাত্র একবার হারিয়েছিল স্কটল্যান্ড। এই ফরম্যাটে দুই দলের দেখাও ওই একবারই। ২০১২ সালে নেদারল্যান্ডসের দি হেগের ওই ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৬২ রান তোলে স্কটল্যান্ড। জবাবে বাংলাদেশ ১২৮ রান তুলেই অলআউট ১৮ ওভারে। তবে ২০১২ ও ২০২১ সালে তফাত অনেক। সময়ের সঙ্গে দুই দলের পারফরম্যান্সেও বদল এসেছে অনেক। আর ওই টি-টোয়েন্টির সঙ্গে বিশ্বকাপ ম্যাচের তুলনাও চলে না। তবুও আত্মবিশ্বাসী স্কটিশ কোচ বার্গার। ওমানে গত কিছুদিনে একটানা খেলা ও প্রস্তুতি ম্যাচের দুই জয়ে ভালো কিছুর সম্ভাবনা দেখছেন তারা। তাই বাংলাদেশকে প্রথম পর্বে নিজেদের গ্রুপের বাকি দলগুলোর মতোই দেখছেন। বার্গার বলেন, ‘সংক্ষিপ্ত ফরম্যাট সব দলকেই কাছাকাছি নিয়ে আসে। আমরা নির্দিষ্ট দিনে ভালো খেললে সব দলকেই হারাতে পারব। যেকোনো দলকে হারাতে পারি আমরা সে বাংলাদেশ, ওমান বা পিএনজি যেই হোক না কেন। গ্রুপ ম্যাচগুলোয় আমরা বাংলাদেশকে পিএনজি বা ওমানের চেয়ে ওপরে দেখি না।’
কোচের হুঙ্কার প্রি-ম্যাচ সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদউল্লাহ শুনলেন। কিন্তু তিনি নির্বিকার। করোনার পর এই প্রথম ওপেন কনফারেন্সে হাস্যোজ্জ্বল অধিনায়ক বলেন, ‘উনি কী বলেছেন এটা নিয়ে আমি খুব একটা ভাবছি না। আমরা আমাদের সামর্থ্য সম্পর্কে জানি। আশা করি দল হিসেবে আমরা সেরাটাই মাঠে দেব। আমাদের সামর্থ্যরে মধ্যে যতটুকু থাকবে আমরা ততটুকু মাঠে দেবই। প্রতিটি দলকেই সমানভাবে সম্মান করি। আমরা বিনয়ী থাকতে চাই। প্রয়োজনে আমরাও হার্ড ক্রিকেট খেলব।’
ওমান ক্রিকেট অ্যাকাডেমি মাঠের পিচ একদম সবুজ। পিচের ওপর যে ঘাস তার রং একটু উজ্জ্বল আর মাঠের ঘাস গাঢ় সবুজ। মাঠ ও পিচের পার্থক্য এটুকুই। তবে এ পিচেও রান হবে। আইসিসি টুর্নামেন্ট বরাবরই স্পোর্টিং। ওমান ‘এ’ দলের বিপক্ষে এ পিচেই খেলেছে বাংলাদেশ। সেখানে স্পোর্টিং উইকেটে ২০০ ছাড়ানো সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। তবে রাতে শিশিরের কারণে পরে বল করলে গ্রিপ করা কঠিন। তাই পরে ব্যাট করার সুবিধা বেশি। মাহমুদউল্লাহও ওই ম্যাচের মতো কন্ডিশন আশা করছেন, ‘পিচ কন্ডিশন প্রস্তুতি ম্যাচে যেমন ছিল ভালো ছিল তেমনই থাকবে। স্পোর্টিং। তবে আমাদের মেন্টালি যেকোনো উইকেটের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।’ প্রস্তুত থাকতেই হবে। কারণ ভয়টা এখানেই। স্কটিশরা এমন সবুজ উইকেটে খেলেই সিদ্ধহস্ত। তাদের জন্য পিচ পরিচিত হবে। তবুও বড় টুর্নামেন্ট বলে স্পোর্টিং উইকেট ভরসা দিচ্ছে সবদিক থেকে।
মাহমুদউল্লাহদের জন্য কিছুটা চিন্তা প্রস্তুতি ম্যাচ দুটি। সেরা তারকাদের কয়েকজনের অনুপস্থিতিতে দুই ম্যাচেই হতাশ করেছে বাংলাদেশ। তবে এসব চিন্তা নাড়া দিচ্ছে না মাহমুদউল্লাহকে। উল্টো প্রস্তুতি ম্যাচকে তিনি দেখছেন ভুল হলে শোধরানোর। এই হারগুলোয় সতর্কবার্তার কিছু নেই। ভুল শুধরে আজ সঠিক হয়ে ফিরতে চায় বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের মূল পর্বে চোখ রেখে আগে পার করতে চান প্রথম রাউন্ড। মাহমুদউল্লাহ তাই এখনো পরের রাউন্ড নিয়ে ভাবছেন না। একে একে লক্ষ্য ঠিক করে এগোতে চান। প্রথম পর্বের বাধা পেরিয়ে চোখ রাখবেন মূল পর্বে।
টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের মূল সমস্যা পাওয়ার হিটারে। দলে নেই পরীক্ষিত এমন ব্যাটসম্যান। তাই প্রতি ম্যাচেই বড় রান অধরা হয়ে থাকে বাংলাদেশের। মাহমুদউল্লাহ ব্যাপারটিকে অন্যভাবে দেখছেন। তার চোখে দলে পাওয়ার হিটারের অভাব আছে সত্যি, কিন্তু স্কিল হিটারের অভাব নেই। এই স্কিল হিটারের ক্ষমতা বিশ্বকাপে দেখাতে চান। এটাই বাংলাদেশের সফলতা হবে বলে বিশ্বাসও করেন, ‘আপনি যদি পাওয়ার হিটার চিন্তা করেন, কাকে বলবেন? ক্রিস গেইল, কাইরন পোলার্ড, আন্দ্রে রাসেল তাদের বলা যায় পাওয়ার হিটার। কেন উইলিয়ামসনকে কি আপনি পাওয়ার হিটার বলবেন? সে স্কিলফুল হিটার, স্কিলফুল ব্যাটসম্যান। ঠিক না? আমাদের ব্যাটিংয়ের মূল শক্তি স্কিল হিটিং পারফরম্যান্স। আমার মনে হয় দল হিসেবে আমাদের সেই সামর্থ্য আছে। তাই পাওয়ারফুল হিটার না হয়ে আমরা স্কিলফুল হিটার হলেই ভালো। এটা নিয়ে কমবেশি সবাই কথা বলেছি। মাঠে কাজে লাগাতে পারলে ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে ভালো কিছু আশা করতে পারি।’
মাহমুদউল্লাহর মতো পুরো দেশ ভালো কিছুর আশায়। মূল পর্বে উঠলেও না জেতার গ্লানি এবার ভোলাতে শুরু থেকেই প্রস্তুত হতে চায় বাংলাদেশ। অধিনায়ক প্রথম বল থেকেই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান। শুরুটা করতে চান জয়ে, এরপর পরের ধাপ।