প্রসব-পরবর্তী বিষণ্ণতা

প্রসব-পরবর্তী অনেক মা বিষণ্ণতা বা অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডারে ভোগেন। যা চিকিৎসা ছাড়া জটিল আকার ধারণ করে। এর প্রভাব ফেলতে পারে মা, বাচ্চা ও বাবার ওপর। বাবা-মায়ের বৈবাহিক সম্পর্কে আনতে পারে বিচ্ছেদ। বাচ্চার কথা বলা, খাওয়া, ঘুম হতে পারে ব্যাহত। বাচ্চা নিজেও ভবিষ্যতে বিষণ্ণতায় ভুগতে পারে। শুরুতেই চিকিৎসা নিলে এ সমস্যা সমাধানযোগ্য। বাচ্চার জন্মের পর থেকে পরবর্তী এক মাস যেকোনো সময় এ সমস্যা শুরু হতে পারে।

লক্ষণ

সহজেই বিরক্ত হওয়া বা অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা বা মনঃসংযোগ করতে না পারা।

দুশ্চিন্তা করা, কান্না করা বা রেগে যাওয়া।

ঘুমাতে সমস্যা বা বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া বা ঘুম না আসা।

অবসাদগ্রস্ততা।

খাবারে অনীহা, মাথাব্যথা, পেটব্যথা বা পেশিতে ব্যথা ও পিঠব্যথা।

সহিংস চিন্তায় আক্রান্ত হওয়া বা সহিংস ছবি চোখে ভেসে ওঠা।

বাচ্চাকে শারীরিকভাবে আঘাত করার প্রবণতা তৈরি হওয়া।

কারা বেশি আক্রান্ত হয়

গর্ভাবস্থায় দুশ্চিন্তায় ভোগা, পারিবারিকভাবেই বিষণ্ণতা বা দুশ্চিন্তায় ভোগা, দাম্পত্য সমস্যা, আর্থিক সমস্যা, বাচ্চা পালনের মানসিক চাপ, পারিবারিক ও সামাজিক সহায়তা না পাওয়া।

প্রতিকার

ডাক্তারি পরামর্শ বা ওষুধের পাশাপাশি নিজের প্রতি যত্নবান হওয়া ও মৌলিক প্রয়োজন মিটছে এটা নিশ্চিত করা। পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার গ্রহণ ও ঘুমানো। প্রসব-পরবর্তী বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হওয়া মানেই আপনি ব্যর্থ মা বা বাচ্চাকে ভালোবাসেন না এমনটা না। খারাপ অনুভূতি চলে যাওয়ার পর দেখবেন সব ঠিক হয়ে গেছে। নিজের কাছ থেকে অতিরিক্ত আশা না করা। নিজের যতœ নিন। দরকার হলে পরিজনদের সাহায্য নিন। অন্যের সহায়তা নেওয়া মানে এই না যে আপনি ব্যর্থ মা। পছন্দের কাউকে মনের কথা ও সমস্যাগুলো বলুন। এতে মন হালকা হবে, হয়তো শ্রোতা এমন কোনো সমাধান দিতে পারেন, যা আপনার মনকে শান্ত করবে। সমমনা মানুষ বা আপনার মতো সদ্য মা হওয়া কারও সঙ্গে কথা বললে দেখবেন আপনি একা নন, এ রকম সমস্যায় অনেকেই আছে। অনেক সময় একটু পরিচ্ছন্ন থাকা, হালকা সাজ মনকে প্রফুল্ল করতে পারে। তাই বাহ্যিকভাবে সুন্দর থাকাকেও গুরুত্ব দিন।  ২৪ ঘণ্টা বাচ্চার দেখাশোনা করা সত্যিই কষ্টদায়ক। বিষণ্ণতায় আক্রান্ত মায়ের যখন বিশ্রামের দরকার হয়, তখনো হয়তো তিনি তা করতে পারেন না, বাচ্চার দেখভাল করতে গিয়ে। অথচ এ সময় বিশ্রাম খুবই জরুরি। প্রতিদিনই নিজের জন্য কিছু সময় বের করার চেষ্টা করুন। ঘুমান, টিভি দেখুন বা একটা ম্যাগাজিন পড়ুন। বিশ্রামের সময় বাচ্চাকে দেখার জন্য শাশুড়ি বা অন্যের সাহায্য নিন। সুযোগ থাকলে বিকেলে বাচ্চাকে নিয়ে বের হন। বাইরের খোলা বাতাস, সূর্যের আলো এসবই আপনার ও বাচ্চার জন্য ভালো। বাইরে যাওয়া কঠিন কলে বাসার বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ান, গভীরভাবে শ্বাস নিন, সূর্যালোক উপভোগ করুন। এগুলো আপনার মনকে হালকা করবে। বাচ্চা ঘুমালেই হালকা কাজগুলো ধীরে ধীরে করতে থাকুন। ঘুমানোর সময় ফোনের রিংটোন কমিয়ে রাখুন বা ফোন বন্ধ রাখুন। বেশির ভাগ সময় বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানো মা ও বাচ্চা দুজনের জন্যই উপকারী।