বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের ছেলে একটি প্রমোদতরীর পার্টিতে বিনোদনমূলক মাদক খাওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার ১৮ দিন পরেও জামিন পেলেন না। আজ বুধবার শাহরুখ-পুত্রের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় মুম্বাইয়ের এক বিশেষ আদালত।
২৩ বছরের তারকা-সন্তানের সঙ্গে অন্য দুই অভিযুক্ত মুনমুন ধমেচা এবং আরবাজ মার্চেন্টের জামিনের আবেদনও খারিজ হয়ে গিয়েছে। প্রসঙ্গত, আরিয়ানের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার।
জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর আদালতকে থেকে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন শাহরুখপুত্রের আইনজীবী অমিত দেশাই। তিনি জানান, নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বম্বে হাইকোর্টে আবেদন জানানো হবে। অমিতের কথায়, ‘কোন যুক্তিতে আরিয়ান আজ জামিন পেলেন না, সে কথা আমাদের জানানো হয়নি’।
বুধবার জামিনের শুনানির ঘণ্টা খানেক আগেই সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যম দাবি করে, মুম্বাই থেকে গোয়াগামী প্রমোদতরীতে এনসিবি-র কর্মকর্তারা তল্লাশি শুরু করার কিছু আগেই আরিয়ান এক বলিউড অভিনেত্রীর সঙ্গে মাদক বিষয়ে কথা বলেছেন বলে দাবি করেছে এনসিবি। তা ছাড়া এক মাদক পাচারকারীর সঙ্গেও তাঁর কথোপকথনের নথি উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করেছে ভারতের জাতীয় মাদক নিয়ন্ত্রক সংস্থা। শাহরুখ-তনয়ের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে সেই সব তথ্য পাওয়া গেছে বলেই দাবি এনসিবি-র।
অন্য দিকে, আরবাজের আইনজীবী আলি কাসিফ জানিয়েছেন যে তাঁরাও বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মুনমুন ধমেচাও সম্ভবত একই পদক্ষেপ নেবেন বলে জানালেন আলি কাসিফ।
আরিয়ান খানকে গত ২ অক্টোবর মুম্বাই শহর থেকে গোয়াগামী একটি ক্রুজ জাহাজ থেকে আটক করা হয়।
নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি) তার বিরুদ্ধে ‘অবৈধ পদার্থ দখল, ব্যবহার এবং বিক্রয় সম্পর্কিত’ আইনে অভিযোগ আনে।
তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তার আইনজীবী সতীশ মানশিন্ডে আদালতকে বারবার বলেছিলেন যে, অভিনেতার ছেলের দখলে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি, এবং ‘তিনি কোন মাদক সেবন করেছিলেন এমন কোন প্রমাণ নেই’।
কিন্তু বুধবার মুম্বাইয়ের একটি আদালত দ্বিতীয়বার তার জামিন নামঞ্জুর করল। এর আগে গত ৮ অক্টোবর তার জামিন প্রত্যাখ্যান করা হয়। আদালত মামলার অন্য দুই আসামির জামিন আবেদনও খারিজ করে দেয়।
আগের শুনানিতে, আদালত যুক্তি দিয়েছিল যে তরুণদের মধ্যে মাদক ব্যবহার সম্পর্কে ‘গুরুতর দৃষ্টিভঙ্গি’ নেওয়া প্রয়োজন। আদালত আরও যুক্তি দিয়েছিল যে, আরিয়ান খানের সঙ্গে এই মামলার অন্য ১৭ জন আসামির থেকে আলাদা আচরণ করা যাবে না এবং তাই তাদের কাউকেই জামিনে মুক্তি দেওয়া উচিত নয়।
হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যাপকভাবে মাদক ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তদন্তের জন্য গত বছর থেকেই অনেক বলিউড অভিনেতা এবং টিভি ব্যক্তিত্ব নজরদারিতে আছেন। ২০২০ সালে ভারতের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থা দীপিকা পাড়ুকোন সহ কমপক্ষে চারজন অভিনেত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল, কিন্তু কারও বিরুদ্ধে কোনও অন্যায়ের অভিযোগ আন হয়নি।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীকে তার অভিনেতা প্রেমিক সুশান্ত সিং রাজপুতের জন্য মাদক কেনার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
সুশান্ত সিং রাজপুতকে (৩৪) ১৪ জুন তার ফ্ল্যাটে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। সে সময় পুলিশ জানায়, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু মামলাটি অপ্রত্যাশিত মোড় নেয় যখন তার পরিবার রিয়া চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার অভিযোগ করে। রিয়া চক্রবর্তী তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং তাকে গ্রেফতারের এক মাস পর কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।