নুসরাতের ৩ সঙ্গীকে খুঁজছে পুলিশ

মুনিয়ার মৃত্যুর মামলা নাটকীয় মোড় নিয়েছে। মুনিয়ার মৃত্যুর দুই ঘণ্টা আগে মুনিয়ার বাসায় কারা গিয়েছিল, তাদের পুলিশ খুঁজছে। মুনিয়া মৃত্যুর আগে সর্বশেষ কথা বলেন বড় বোন নুসরাতের সঙ্গে। সেই সময় নুসরাত তাকে বলেন যে, আমি কাছাকাছি চলে এসেছি। তুমি থাকো। মুনিয়া নুসরাতকে তার জন্য কলা আনতে বলেন। এর দু-এক ঘণ্টার মধ্যেই নুসরাত মুনিয়ার বাসায় প্রবেশ করেন এবং তার লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

মুনিয়ার মৃত্যু নিয়ে করা হত্যা-ধর্ষণের মামলায় নুসরাত দাবি করেছেন যে, তার লাশ আত্মহত্যা করলে যেভাবে ঝুলে থাকে, সেভাবে ঝুলে ছিল না। বরং কেউ তাকে মেরে ঝুলিয়ে রেখেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। অর্থাৎ মুনিয়ার মৃত্যু হয়েছে দুই ঘণ্টার মধ্যে। যেই সময় মুনিয়ার সঙ্গে নুসরাত কথা বলেছেন, সেখান থেকে নুসরাতের মুনিয়ার বাসায় যাওয়া, এই সময়টুকুর মধ্যেই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে মামলার এজাহারে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী পুলিশ মনে করছে।

কিন্তু প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে, সেটি যদি হবে, তাহলে সেক্ষেত্রে এই দুই ঘণ্টার মধ্যে কারা মুনিয়ার বাসায় প্রবেশ করল এবং কারা মুনিয়াকে মেরে লাশ ঝুলিয়ে রাখলে।

মুনিয়ার মৃত্যু নিয়ে যে তদন্ত রিপোর্ট দেখা গেছে, সে তদন্ত রিপোর্টে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, শরীরের কয়েকটি জায়গায় আঘাতের চিহ্ন আছে। তবে সেই আঘাতগুলো গুরুতর নয় বলেও পোস্টমর্টেম রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুটি ঘটনা এখানে ঘটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। নুসরাতের সঙ্গে কথোপকথনের পর মুনিয়া আবেগ প্রবণ হয়ে উঠতে পারেন। এ বয়সের মেয়েরা সাধারণত যেটি করেন, সেটি হলো আবেগ প্রবণ হয়ে নিজেকেই নিজে আঘাত করেন।

বাংলাদেশে আত্মহত্যাকারীদের পোসর্টমর্টেম রিপোর্টগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, অধিকাংশ আত্মহত্যাকারী বিশেষ করে যারা কিশোর-কিশোরী, তারা আত্মহত্যার আগে নিজেদেরকে ক্ষত-বিক্ষত করেছেন, আঘাত করেছেন। অর্থাৎ নিজের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেন। এক ধরনের হতাশা থেকে তারা নিজেকে আঘাত করার এক আত্মহননের পথ বেছে নেন।

তাছাড়া অনেক সময় দেখা যায়, কিশোর-কিশোরীরা নানা রকম মান-অভিমান করে নিজের হাত কাটেন। নিজের গা কাটেন। নিজেকে রক্তাক্ত করেন। এ রকম প্রবণতা বাংলাদেশের কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে একটি বড় ধরণের প্রবণতা। সে কারণে এটি আঘাতের চিহ্ন নাকি সত্যি সত্যি কেউ এসে মুনিয়াকে আঘাত করে তাকে হত্যা করেছে?

কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্টে গলায় ফাঁসের যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে তাতে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, মুনিয়াকে যদি কেউ হত্যা করে থাকে তাহলে তাকে ফাঁস দিয়ে ঝুলানো হয়েছে। না হলে প্রশ্ন উঠেছে যে, মুনিয়াকে যদি ফাঁস দিয়ে ঝুলানো হয়, তাহলে ধস্তাধস্তি হবে, চিৎকার-চেঁচামেচি হবে। তাহলে পাশের ফ্ল্যাট বা অন্যান্য ফ্ল্যাট থেকে লোকজন জড়ো হবে। সেই ঘটনা এখানে ঘটেনি কেন? যদি মুনিয়া স্বেচ্ছায় নিজেকে ক্ষত-বিক্ষত করে আত্মহত্যা করতে যান, সেক্ষেত্রে চিৎকার-চেঁচামেচি না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

মুনিয়া যেই ফ্ল্যাটে থাকতেন, সেই ফ্ল্যাটের রেজিস্টারে দেখা গেছে, মুনিয়ার মৃত্যুর দিন তিনজন অপরিচিত ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন নাম দিয়ে ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু পুলিশ এখনো নিশ্চিত না যে ওই তিনজন মুনিয়ার বাসায় না অন্য ফ্ল্যাটে গিয়েছিল। কারণ তারা রেজিস্টারে যে নামগুলো লিপিবদ্ধ করেছিল তার সঙ্গে তাদের চেহারার মিল নেই। অন্তত তিনজনকে পুলিশ পেয়েছে, যে তিনজন মুনিয়ার বাসায় প্রবেশ করেছিলেন নুসরাতের প্রবেশের আগে। পরবর্তীতে তাদেরই আবার নুসরাতের সঙ্গে গুলশান থানায়, আদালতে দেখা গেছে। এ তিনজন কারা, এদেরই খুঁজছে পুলিশ এবং এদের উদ্ধার করতে পারলেই মুনিয়ার মৃত্যুর রহস্য উন্মোচিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।