গ্রেপ্তার হলে জানা যাবে ইকবাল ‘মাস্টার মাইন্ড কিনা’: পুলিশ

কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনায় ভবঘুরে ইকবালকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। তাকে জানা যাবে এ ঘটনার ‘মাস্টাইর মাইন্ড কিনা’। বৃহস্পতিবার এসব তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।  

সিসিটিভির ফুটেজ অনুসন্ধানের মাধ্যমে ইকবালের পরিচয় শনাক্ত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সে নগরীর সুজানগর এলাকার নূর আহমেদ ওরফে আলমের ছেলে।

পুলিশ বলছে, এ যুবককে গ্রেপ্তার করতে পারলেই বেরিয়ে আসতে পারে ঘটনার নেপথ্যের কাহিনি।

অপরদিকে বিকেলে কুমিল্লার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ সদর দপ্তরের অনুসন্ধান দল।   

গত ১৩ অক্টোবর কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘিপাড় এলাকায় একটি অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জের ধরে দেশজুড়ে চলে ব্যাপক সহিংসতা। এরই মাঝে সিসি টিভির ফুটেজ তদন্ত করে মণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখা ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ইকবাল হোসেনকে চিহ্নিত করা হয়। বুধবার সিসিটিভির ওই ফুটেজ ফেসবুকসহ গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে বেশ তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

এরপর বৃহস্পতিবার বিকেলে নানুয়ার দিঘিপাড় এলাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের গঠিত অনুসন্ধান দল। অনুসন্ধান দলের সভাপতি ও বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) ওয়াই এম বেলালুর রহমানের নেতৃত্বে ওই এলাকা পরিদর্শন করা হয়।

এ সময় পূজামণ্ডপের লোকজনসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তির সঙ্গে করেন তারা।

পুলিশ জানায়, অনুসন্ধান দলটি শুক্রবার চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ এবং শনিবার নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ এলাকা পরিদর্শন করবেন। সেখানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করবে অনুসন্ধান দল। এরপরই তারা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে প্রতিবেদন দাখিল করবে।

ইকবালের মা আমেনা বিবি জানান, সে (ইকবাল) গত ১০ বছর যাবৎ স্বাভাবিক মানুষের মতো চলাফেরা করে না।

তিনি বলেন, ‘সে একটা পাগল, নেশাগ্রস্ত, দুটি বিয়ে করেছে। সবাই তাকে ছেড়ে চলে গেছে। সে আমার পরিবারের জন্য অভিশাপ। তার ফাঁসি হলে আমি খুশি হব। এ সন্তান আমার পরিবারটাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এ ঘটনায় যদি সে জড়িত থাকে তাহলে তার ফাঁসি হওয়া দরকার, আমি তার বিচার চাই’।

এ বিষয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, পূজামণ্ডপে যে ব্যক্তি পবিত্র কোরআন রেখেছে তাকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এখনই তার বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে না। তাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। সে ঘটনার মাস্টার মাইন্ড কিনা গ্রেপ্তারের আগ পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না।