১৯৬১ থেকে ১৯৭১ সালের মধ্যে ভারতে হাজারেরও বেশি ভাষা বিলুপ্ত হয়ে যায়। পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়ার আগে গণেশ এন দেবী সেগুলো পুনরুদ্ধারের কথা ভাবলেন। কীভাবে এসব
ভাষা সংরক্ষণ করা হচ্ছে তা নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা
বিলুপ্ত ভাষার সন্ধানে
২০১০ সালে গণেশ এন দেবী ভারতের মাতৃভাষা নিয়ে কিছু কাজ করছিলেন। খেয়াল করলেন আগের তুলনায় ভাষার সংখ্যা অনেক কমে গিয়েছে। ১৯৬১ সালে যেখানে ভারতীয় আদমশুমারি অনুযায়ী ১৬৫২টি মাতৃভাষা ছিল সেখানে ১৯৭১ সাল নাগাদ ভাষার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৯-এ। ক্রমান্বয়ে কমতে থাকা এ সংখ্যা নিয়ে খুব মন খারাপ হচ্ছিল গণেশের। সিদ্ধান্ত নিলেন কেন এমন ঘটনা ঘটছে তার পেছনের কারণ নিজেই খুঁজে বের করবেন।
ভারত বিশ্বের অন্যতম ভাষাগত বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ। পেনসিলভানিয়ার সোয়ার্থমোর কলেজের ভাষাবিদ কে ডেভিড হ্যারিসনের মতে, ‘ভারতকে বলা যায় ভাষার হটস্পট। এখানে ভাষাগত বৈচিত্র্য যত বেশি, তত বেশি আশঙ্কা রয়েছে ভাষা বিপন্ন হওয়ার। আবার এটাও সত্যি, এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে সবচেয়ে কম। কোনো ধরনের ডকুমেন্টও বানানো নেই এগুলো নিয়ে।’
গুজরাটের বারোদার মহারাজা সায়াজিরাও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রফেসর গণেশ এন দেবী। গণেশের ভাষার প্রতি সব সময় আগ্রহ ছিল। ভাষা নিয়ে লেখাপড়া করে, ডকুমেন্ট বানায় ও সংরক্ষণ করে এমন বেশ কিছু সংস্থার খোঁজ পেলেন গণেশ। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল বারোদার ভাষা রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিকেশন সেন্টার, তেজগাড়ের আদিবাসী অ্যাকাডেমি, ডিএনটি-রাইটস অ্যাকশন গ্রুপ ইত্যাদি।
বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ করার জন্য তাকে নৃগোষ্টীগুলোর গ্রামে যেতে হতো। সেখানে গিয়ে গবেষণার জন্য বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতেন তিনি। কাজ করতে গিয়ে দেখলেন, এই নৃগোষ্ঠীগুলোর নিজস্ব ভাষা আছে। এসব ভাষার কোনোটির তথ্যই সরকারি আদমশুমারিতে উল্লেখ করা নেই। গণেশ বলেন, ‘আমি ধারণা করেছিলাম, এসব ভাষায় যারা কথা বলে তাদের সংখ্যা খুব কম। এরা হয় অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত সম্প্রদায় অথবা যাযাবর। এসব কারণে তাদের নিজস্ব ভাষাগুলো সরকারি পরিসংখ্যানে গোপন করা হচ্ছে।’
ভাষা জরিপ
গণেশ বুঝতে পেরেছিলেন এ কাজে বেশ সময় লেগে যাবে। সত্যি বলতে সময়ের চেয়ে জরুরি বিষয়, এতগুলো ভাষাকে একত্রিত করার কাজটি করাই অনেক কঠিন। তাই এ কাজ তিনি একা করতে চাইলেন না। সিদ্ধান্ত নিলেন অন্যদেরও সাহায্য নেবেন। ২০১০ সালে ভারতীয় জনগণের ভাষাগত জরিপ শুরু করলেন। এ কাজে সঙ্গে পেলেন দেশজুড়ে প্রায় তিন হাজার স্বেচ্ছাসেবক। এদের মধ্যে তেমন কেউ গবেষণার কাজ করতেন না। বেশিরভাগই ছিলেন লেখক, স্কুল শিক্ষক অথবা অন্য পেশার। এরা সবাই মাতৃভাষার সঙ্গে যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখেছিলেন তা দেখে গণেশ মুগ্ধ হন।
২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে গণেশ তার দলের সঙ্গে মিলে দেশজুড়ে ৭৮০টি ভাষা এবং ৬৮টি স্ক্রিপ্ট রেকর্ড করেন। এলাকার দূরত্ব অথবা দ্বন্দ্বের কারণে প্রায় ১০০টির বেশি ভাষা সম্পর্কে তারা কোনো ধরনের ডকুমেন্ট তৈরি করতে পারেননি। গণেশের মতে, ভারতে যত ভাষা আছে তার সঠিক সংখ্যা এখনো অজানা।
২০১৩ সাল থেকে People’s Linguistic Survey of India এখন পর্যন্ত ৬৮টি ভলিউম প্রকাশ করেছে। এছাড়া গণেশ যতগুলো ভাষা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন তার সবগুলো নিয়ে বিস্তারিত ফিচারও করা হয়েছে। বাকি যে ভলিউম আছে সেগুলো ২০২৫ সালে প্রকাশ করা হবে।
ওড়িশার রাজ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নৃগোষ্ঠীগুলোর বাস। গণেশ সব সময় জানতেন এই জায়গাটি তার জন্য ভাষার স্বর্ণখনি হতে পারে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে দূরের এই এলাকায় কাজ করার জন্য কোনো ভাষাবিদ তিনি পাননি।
সাধারণ মানুষের ভাষা সংগ্রহ
কাজ করতে গিয়ে গণেশের একজন ট্যাক্সিচালকের সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি ওড়িশার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের জন্য কাজ করতেন। যখনই জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজের জন্য কোনো গ্রামে যেতেন তখন চালকের দায়িত্ব থাকত গ্রামের মানুষদের সঙ্গে কথা বলার।
গণেশ বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে এই চালক চার ভাষায় কথা বলে গিয়েছেন। পরিস্থিতি এমন ছিল যে এই চার ভাষার সব ব্যাকরণ তিনি শিখে গিয়েছিলেন। এমনকি সেসব এলাকার লোকগীতি ও গল্পও তিনি সংগ্রহ করেন। তিনি ভাষা নিয়ে এত তথ্য সংগ্রহ করেছেন যে, তাকে অনায়াসে দুটো ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়ে দেওয়া যায়।’
এরকম আরও বেশ কয়েকজন মানুষের সঙ্গে গণেশের পরিচয় হয়েছে। এর মধ্যে একজন ছিলেন গুজরাটের স্কুল শিক্ষক। রাজস্থানের বিভিন্ন ভাষা নিয়ে তিনি পুরো একটি ডকুমেন্টারি বানিয়েছিলেন। পুরো ২০ বছর ধরে এই ডকুমেন্ট বানিয়েছেন তিনি। ডকুমেন্টারি বানানোর পুরো অর্থায়ন নিজেই করেছেন।
গণেশ বলেন, ‘ভাষা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দারুণ কিছু বিষয় আমার সামনে এসেছে। আমি দেখেছি, মানুষ সব সময় টাকার জন্য সবকিছু করে না। ভাষার প্রতি ভালোলাগা ও ভালোবাসা থেকেই তারা কাজগুলো করেছে। আমি সব সময় ভাবতাম শুধু গবেষকরাই ভাষা পছন্দ করেন। কারণ তারা অনুদান বা তহবিল সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানেন। কাজের পেছনে অর্থও অনেক বড় একটি বিষয়। আমি কখনো ভাবিনি এতজন ভাষাবিদ আমি খুঁজে পাব। বিশেষ করে এমন কিছু মানুষ যাদের আনুষ্ঠানিক কোনো লেখাপড়াও নেই। এ মানুষদের জানা ভাষাগুলোই ভাষা জরিপে সবচেয়ে বেশি কাজে লেগেছিল।’
সাধারণ মানুষদের ভাষার প্রতি ভালোবাসা অমূল্য এটা স্বীকার করেন গণেশ নিজেও। তিনি খুব কাছ থেকে এই মানুষদের দীর্ঘদিন ধরে করে আসা কাজগুলো দেখেছেন। এতকিছুর পরও কয়েক বছর ধরে অনেক ভাষা হারিয়ে গিয়েছে বলে জানান গণেশ। তার ধারণা হারিয়ে যাওয়া এবং একদম কোনো ধরনের সন্ধান না পাওয়া ভাষার সংখ্যা এখনো প্রায় ২২০টি। ভাষাবিদদের কাছ থেকে জানা যায়, উত্তর-পূর্ব এবং আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের প্রত্যন্ত সম্প্রদায়ের দ্বারা কথিত ভাষাগুলো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এগুলোও যে কোনো সময় হারিয়ে যেতে পারে।
গ্রেট আন্দামানিজ
২০০৩ সালে কানাডার সাইমন ফ্রেজার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতীয় বিভাগের ভিজিটিং প্রফেসর আনভিতা আবি ‘Vanishing Voices of the Great Andamanese (Voga)’ নামে একটি ডকুমেন্টের প্রজেক্ট হাতে নিয়েছিলেন। আন্দামান দ্বীপে বাস করা আদিবাসীরা নিজস্ব যে ভাষায় কথা বলে সেটি গ্রেট আন্দামানিজ নামে পরিচিত। ভারতে এই ভাষাটি ষষ্ঠ। আনভিতার গবেষণা ছিল এই ভাষা নিয়েই। গ্রেট আন্দামানিজসহ সেয়ার, বো, খোরা ও জেরু ভাষা নিয়েও কাজ করেছেন তিনি।
২০১০ সালে আন্দামান দ্বীপে বো ভাষায় কথা বলা সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি বোয়া সিনিয়র মারা যান। এই ভাষায় একমাত্র তিনিই সাবলীলভাবে কথা বলতে পারতেন। প্রাক-নিওলিথিক সময়ে এই বোয়া ভাষায় কথা বলা হতো। এটিকে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ভাষাও বলা হয়। আনভিতা বলেন, ‘বোয়া সিনিয়র মারা যাওয়ার পর বো ভাষা বিলুপ্ত হয়ে যায়। এরপর সেয়ার ও খোরা ভাষায় কথা বলা শেষ ব্যক্তি দুজনও মারা যান। সত্যি বলতে তাদের মৃত্যুর কারণে অসহায়ত্ব এখন ঘিরে ধরেছে। আমরা যারা ভাষা উন্মুক্ত করে প্রচারের চেষ্টা করছি তাদের জন্য কাজ করা খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’ ভাষা নিয়ে যেন কাজ আরও সম্প্রসারিত করা যায়, সেজন্য আনভিতা সাহায্য চেয়ে রাজনীতিবদদের কাছে অনেক চিঠি লিখেছেন। কিন্তু কেউ তার কথা শোনেনি। এমনকি তাকে সাহায্য করার জন্য কেউ এগিয়েও আসেনি। তবে নিজের কাজের জন্য ২০১৩ সালে আনভিতা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেসামরিক অবদানের জন্য ভারত সরকার কর্র্তৃক প্রদত্ত পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত হন। গ্রেট আন্দামানিজ নিয়ে চর্চা ও ডকুমেন্ট তৈরি করায় এ পুরস্কার পান তিনি।
নিজ সম্প্রদায়ের দায়িত্ব
কখনো কখনো বিপন্ন ভাষাগুলো সংরক্ষণ করার জন্য নিজেদের সম্প্রদায়ের ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া হয়। সম্প্রতি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশের গ্রামের কৃষক ওয়াংলুং মোসাং এইরকম একটি প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছিলেন। উত্তর-পূর্ব ভারতের তাংসা জনগণ তাংসা ভাষায় কথা বলে। এটি আবার চীন-তিব্বতি ভাষার একটি সংমিশ্রণ। অরুণাচল প্রদেশের তাংসা নৃগোষ্ঠীর মধ্যে ৪০টি উপ-নৃগোষ্ঠী আছে। এদের প্রত্যেকের আছে উপভাষা। তাংসা সম্প্রদায়ে প্রায় এক লাখ মানুষের বাস। উপভাষার সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে এগুলো বিলুপ্তির সম্ভাবনাও বেশি।
মোসাং বলেন, ‘এসব সম্প্রদায়ের বড়দের সঙ্গে বসে যখন আমি কথা বলতাম, তখন নতুন নতুন অনেক শব্দ শিখেছি যেগুলোর নাম আমি আগে জানতাম না। এসব শব্দের ইংরেজি আমি লিখে রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু শব্দবিন্যাসের বেশি পার্থক্য হওয়ার কারণে লিখে রাখা সম্ভব হয়নি।’
ভাষা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে মোসাং-এর পরিচয় হয় লাখুম মোসাং নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে। নামের মিল থাকলেও তাদের মধ্যে আগে থেকে কোনো পরিচয় ছিল না। লাখুম মোসাং ১৯৯০ সালে তাংসা সম্প্রদায়ের সব নৃগোষ্ঠীগুলোর ব্যবহার করা ভাষা নিয়ে একটি স্ক্রিপ্ট বানিয়েছিলেন। ২০২০ সালে তার মৃত্যু হয়। এরপর ওয়াংলুং মোসাং তাংসা ভাষা সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নেন।
তাংসা স্ক্রিপ্ট লেখার জন্য ৪৮টি স্বরবর্ণ এবং ৩১টি ব্যাঞ্জনবর্ণ ব্যবহার করা হয়েছে। স্ক্রিপ্টের চারটি ভিন্ন ধরনের ধ্বনি রয়েছে। প্রতিটি ধ্বনির রয়েছে আলাদা আলাদা অর্থ।
চলতি বছরের শুরুর দিকে, ছুটির দিনে কলেজ শিক্ষার্থীদের দুই সপ্তাহ করে সন্ধ্যায় তাংসা ভাষা শেখাতেন মোসাং। ভাষাকে সংরক্ষণ করার জন্য এটা মোসাং-এর কাজের এটি একটি অংশ ছিল। তিনি বলেন, ‘তাংসা স্ক্রিপ্ট সংরক্ষণের জন্য ২০১৯ সালে আমরা একটি স্ক্রিপ্ট ডেভেলপমেন্ট কমিটি তৈরি করেছি। কমিটি থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে সাধারণ তাংসা বর্ণমালা চালু করার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করেছিল। আনন্দের বিষয় হচ্ছে তারা আমাদের প্রস্তাব গ্রহণ করেছিলেন।’
অরুণাচল প্রদেশের প্রধানমন্ত্রী শিক্ষক দিবসে তাংসা স্ক্রিপ্ট নিয়ে একটি বইয়ের মোড়ক উদ্বোধন করেন। এটা সত্যি যে, ভাষা সংরক্ষণের জন্য চেষ্টা হচ্ছে। তবে এখনো অনেক ভাষা ঝুঁকিতে রয়েছে।
কেন নৃগোষ্ঠীগুলোর এসব ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে তা নিয়ে মোসাং বলেন, ‘এর প্রধান কারণ হচ্ছে ভাষার সংরক্ষণ নিয়ে সচেতনতা না থাকা। নিজ সম্প্রদায় ছেড়ে অনেকেই চলে যাচ্ছে। এছাড়া শিশুদের নিজ নিজ মাতৃভাষা শেখানো হচ্ছে না। স্কুল থেকে তারা যে ভাষা শিখে আসে সেগুলো শিখতেই তাদের আগ্রহ বেশি। আবার অভিভাবকরাও ভবিষ্যতের কথা ভেবে মাতৃভাষা শেখাতে চান না। তাদের মধ্যে নিজস্ব ঐতিহ্য বা সংস্কৃতির সৌন্দর্য বোঝার খুব বেশি ক্ষমতা নেই। আমাদের এসব নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য নৃগোষ্ঠীর মানুষদের ক্যাম্পেইন ও ওয়ার্কশপ করানো উচিত। কিন্তু এগুলো আমরা নিজ থেকে করতে পারব না। আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির উন্নয়নে আর্থিক ও সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।’
বিপন্ন ভাষাকে সংরক্ষণের জন্য সিকিম বিশ্ববিদ্যালয় ‘Sikkim Darjeeling Himalayas Endangered Language Archive (Sidhela)’ নামে একটি আর্কাইভ তৈরি করেছে। সিকিমেও কয়েক ধরনের নৃগোষ্ঠী এবং ভাষার সম্মিলিত গ্রাম আছে। এদের মধ্যে প্রভাবশালী রাজ্য নেপালি অথবা গোরখালি। তাদের নিজস্ব রীতি ও খাবার রয়েছে।
২০১৭ সালে সিধেলার গবেষকরা রাই-রকডাং নামে একটি সম্প্রদায়ের খোঁজ পান। এ সম্প্রদায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী তাদের জানান। রকডাং রাই সম্প্রদায়সহ বানতাওয়া বংশের একটি পাচা (বিভাগ)। রকডাং নৃগোষ্ঠীগুলোর বাস পূর্ব সিকিমে। তাদের ভাষা নিয়ে ইতিহাসে খুব বেশি আলোচনা নেই। যার কারণে তেমন কোনো তথ্যও জানা যায় না এ ভাষা নিয়ে। এ সম্প্রদায়ে মাত্র ২০০ মানুষের বাস।
সিধেলার ভাষাবিদ হিমা টিয়েন বলেন, ‘এ ভাষায় কথা বলে এমন মাত্র ২০ জন মানুষকে খুঁজে পেয়েছি আমরা। যদি কোনো ভাষা স্কুলে না পড়ানো হয়, তাহলে ভাষার ব্যবহার হবে না। সমাজে যে ভাষার মানুষের সংখ্যা বেশি, তাদের উচিত বিপন্ন এসব ভাষা সংরক্ষণে এগিয়ে আসা।’