যে জনপদে কোনো ভেদাভেদ নেই

মানবতাকে সর্বাগ্রে স্থান দিয়ে ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-সম্প্রদায়-জাতীয়তার পরিচয়কে অতিক্রম করে পারস্পরিক সহাবস্থানের অনন্য দৃষ্টান্ত গড়েছে ভারতের আরুভেল্লি শহর। যখন পৃথিবী জুড়ে নানা বিভেদ মানুষকে নাজেহাল করে তুলছে তখন এ শহর হয়ে উঠেছে সম্প্রীতির অনন্য নজির। লিখেছেন বিপুল জামান

ভিলুপ্পুরাম বিভাগের একটি পরীক্ষামূলক জনপদ আরুভেল্লিযার অধিকাংশ অংশ ভারতের তামিলনাড়ু প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত। বাকি অংশ পন্ডিচেরি অঞ্চলে পড়েছে। ১৯৬৪ সালে মিরা আলফাসসা নামে একজন ফরাসি নারী এই জনপদ প্রতিষ্ঠা করেন। মিরা আলফাসসা এই জনপদের অধিবাসীদের কাছে ‘জননী’ নামেই পরিচিত। শহরটির নকশা করেছেন স্থপতি রজার অ্যাংগার। আরুভেল্লি জনপদ নিয়ে মিরা আলফাসসার আশা-আকাক্সক্ষার কথা ফুটে উঠেছে ১৯৬৫ সালে তার প্রথম ইশতেহারেই। তিনি বলেন, ‘আরুভেল্লি সকল ধর্ম, রাজনীতি ও জাতীয়তার ঊর্ধ্বে উঠে সব দেশের নারী-পুরুষের জন্য বাসযোগ্য এক বৈশ্বিক শহর হয়ে উঠতে চায়। আরুভেল্লির উদ্দেশ্য হলো মানুষের মধ্যে মানব ঐক্য উপলব্ধির গোড়াপত্তন।’

ফরাসি শব্দ ‘Aurore’ অর্থ ভোর আর ‘Ville’ অর্থ শহর। আরুভেল্লি শব্দের অর্থ হলো ভোরের শহর। এই শহরটি শ্রী অরবিন্দের নামে নামকরণ করা হয়েছে।

শ্রী অরবিন্দ

শ্রী অরবিন্দের জন্মনাম অরবিন্দ ঘোষ। তিনি ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা, তাত্ত্বিক, সাংবাদিক, লেখক। আলিপুর ষড়যন্ত্রের অন্যতম এই আসামি ছিলেন উগ্রবাদী সংগঠন অনুশীলন সমিতির সদস্য। সহিংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনি গ্রেপ্তার হলেও সে বিষয়ে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি তৎকালীন সরকার। পরে তাকে ব্রিটিশ উপনিবেশবিরোধী লেখালেখির অপরাধে জেলে প্রেরণ করা হয়। জেলে রহস্যাবৃত আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা লাভের পরিপ্রক্ষিতে তিনি রাজনীতি ত্যাগ করে আধ্যাত্মিকচর্চায় মনোনিবেশের সিদ্ধান্ত নেন। অরবিন্দ তার লেখাতে উল্লেখ করেছেন, জেলে তিনি এক পক্ষকাল যাবৎ স্বামী বিবেকানন্দের কণ্ঠস্বর শুনতে পেয়েছেন। যখনই তিনি ধ্যানস্থ হয়েছেন, তখনই বিবেকানন্দের বাণী তার কাছে এসেছে। তিনি তখনই সিদ্ধান্ত নেন পূর্বজীবন ত্যাগ করে নিজেকে আধ্যাত্মিক সাধনায় উৎসর্গ করবেন। জেল থেকে বের হয়ে অ্যাধাত্মিক সাধনায় পূর্ণ মনোযোগ দিতে তিনি কলকাতা ত্যাগ করে পন্ডিচেরিতে বসবাস শুরু করেন।

পন্ডিচেরিতে বসবাসকালে প্রচলিত যোগে তিনি এক নতুন মাত্রা যোগ করেন। যোগাভ্যাসের এই নতুন প্রক্রিয়ার নাম দেন সার্বিক যোগ। যোগ শুধু শারীরিক কসরত নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িত থাকে ব্যক্তির দর্শন, একে জীবনদর্শনও বলা হয়ে থাকে। তার সার্বিক যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো, জৈবিক জীবনকে আত্মিক জীবনে উন্নত করা এবং তার প্রস্তুতিস্বরূপ দেহাধারকে আধ্যাত্মিক আধার হিসেবে গড়ে তোলা। তিনি বিশ্বাস করতেন, আধ্যাত্মিক উপলব্ধির দ্বারা ব্যক্তি শুধু বস্তুগত বন্ধন থেকে মুক্ত হয় না, বরং প্রকৃতির সঙ্গে সৃষ্টি করে ঐক্যতানযার ফলে মর্ত্যইে যাপন করা সম্ভব পরমজীবন। তার সাধনসঙ্গী মিরা আলফাসসা ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন শ্রী অরবিন্দ আশ্রম। আশ্রমে শিষ্যদের মধ্যে আমৃত্যু তার দর্শন ও যোগাভ্যাসের চর্চা করে গেছেন।

শহরের গোড়াপত্তন

১৯৬৪ সালে শ্রী অরবিন্দ সমিতির বার্ষিক সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী সভাপতি মিরা আলফাসসা শ্রী অরবিন্দের আদর্শ বাস্তবায়নে একটি পরীক্ষামূলক জনপদ গড়ার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। আলফাসসা ছিলেন শ্রী অরবিন্দের সাধনসঙ্গী। তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষ পরিবর্তনশীল। তিনি আশা ব্যক্ত করেন, শ্রী অরবিন্দের আদর্শে পরিচালিত প্রতিষ্ঠিতব্য এ জনপদ শুভ ইচ্ছা ও আকাক্সক্ষার মানুষদের একত্রিত করার মাধ্যমে মানবতার অভূতপূর্ব ভবিষ্যৎ যাত্রায় ব্যাপক অবদান রাখবে। তিনি আরও আশা ব্যক্ত করেন, এমন বৈশ্বিক জনপদ ভারতীয় নবজাগরণেও ব্যাপক অবদান রাখবে।

পন্ডিচেরির দশ কিলোমিটার উত্তরে এবং সৈকত থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে একটি অনুর্বর পরিত্যক্ত জায়গার বিশ বর্গকিলোমিটার জায়গা এই পরীক্ষামূলক জনপদের জন্য বেছে নেওয়া হয়।

উদ্বোধন

১৯৬৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার ১২৪ দেশের প্রতিনিধির অংশগ্রহণে এই জনপদের উদ্বোধন করা হয়। মিরা আলফাসসার হাতে লিখিত ফ্রেঞ্চ ভাষায় একটি ঘোষণাপত্র সেদিন প্রকাশিত হয়। সেখানে আরুভেল্লি শহরের অধিবাসীদের জন্য চারটি নীতিমালা তুলে ধরা হয়।

১. আরুভেল্লি কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি নয়। আরুভেল্লি সমগ্র মানবসভ্যতার। কিন্তু আরুভেল্লিতে বসবাসের জন্য ব্যক্তিকে অবশ্যই পরমসত্তার সেবক হতে হবে।

২. আরুভেল্লি হবে নিরন্তর শিক্ষা, ধ্রুব উন্নয়ন এবং বার্ধক্য স্পর্শ করতে পারবে না এমন তারুণ্যের তীর্থস্থান হবে।

৩. আরুভেল্লি হতে চায় অতীত ও ভবিষ্যতের মধ্যকার সাঁকো। সকল আবিষ্কারের ইতিবাচক দিক গ্রহণ করে আরুভেল্লি ভবিষ্যতের বাস্তবতাকে দ্বিধাহীনভাবে স্পর্শ করতে চায়।

৪. আরুভেল্লি হবে মানব ঐক্য অনুসন্ধানসংক্রান্ত বস্তুগত এবং আত্মিক গবেষণার ক্ষেত্র।

মাতৃমন্দির

শহরে বসবাসকারী কোনো ধর্মের মানুষের জন্য নির্দিষ্ট কোনো উপাসনালয় নেই। তবে একটি স্থাপনা আছে যেটি শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত। এই স্থানটি সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের জন্য উন্মুক্ত। সোনালি বর্ণের গোলাকার এই স্থাপত্যকে আলফাসসা অভিহিত করেছেন, ‘মানুষের পরিপূর্ণতার আকাক্সক্ষার প্রতি পরমাত্মার উত্তর’ হিসেবে। এই স্থানটিকে বলা হয় শান্তিভূমি। স্থানটিতে শান্তির মগ্ন আবহ বজায় রাখতে নীরবতা মেনে চলা হয়। মাতৃমন্দিরের ভেতরে একটি সর্পিল পথ চলে গেছে একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের দিকে। ঘরটি সাদা মর্মর পাথরের তৈরি। এ স্থানকে বলা হয় ‘আত্মোপলব্ধির স্থান’।

মাতৃমন্দিরে ব্যবহার করা হয়েছে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা। এর চারিদিকে রয়েছে নিয়ন্ত্রিত বাগান। গোলকের ওপর সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়ে চারিদিক আলোকিত করে তোলে। যখন সূর্যের আলো থাকে না, তখন গোলকের ওপর সৌরবিদ্যুতের সাহায্যে আলোকচ্ছটার ব্যবস্থা করা হয়।

এই মাতৃমন্দিরের চারিদিকে রয়েছে শহরটির চারটি অঞ্চল। আবাসিক এলাকা, শিল্প এলাকা, সংস্কৃতি (ও শিক্ষা) এলাকা এবং আন্তর্জাতিক এলাকা। শহরের চারিদিকে এবং শহরের অভ্যন্তর সবুজ দিয়ে ঘেরা। এ সবুজায়ন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে খামার ও বনভূমি, উদ্ভিদাঞ্চল, বীজ সংগ্রহশালা, ঔষধি গাছের সংগ্রহ, জলাধার, বাঁধ।

আইনি ভিত্তি এবং সরকারব্যবস্থা

১৯৮০ সালের পূর্বে এই শহরের সব সম্পত্তির আইনগত হকদার ছিল শ্রী অরবিন্দ সমিতি, পন্ডিচেরি। ১৯৮০ সালে ভারত সরকার আরুভেল্লি জরুরি অধ্যাদেশ আইন ১৯৮০ পাস করে। এর মাধ্যমে শহরের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেয় ভারত সরকার। এই প্রক্রিয়া শুরু হয় আরও আগে। ১৯৭৩ সালে মিরা আলফাসসার মৃত্যুর পর শ্রী অরবিন্দ সমিতি এবং শহরের বাসিন্দাদের মধ্যকার ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার প্রয়োজন দেখা দেয়। শহরের অধিবাসীরা এ ব্যাপারে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এদিকে শ্রী অরবিন্দ সমিতি সরকারের কার্যাবলি নিয়ে ভারতীয় সর্বোচ্চ আদালতে প্রশ্ন তোলেন। আদালত চূড়ান্ত রায়ে সরকারের কাজকে বৈধ বলে জানায়। এই রায়ের পর ১৯৮৮ সালে আরুভেল্লির জন্য একটি পোক্ত ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সে বছর ভারতীয় সংসদে ‘আরুভেল্লি ফাউন্ডেশন অ্যাক্ট ১৯৮৮’ পাস করা হয়। এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী এই জনপদ তিনস্তরের পর্ষদ দ্বারা পরিচালিত হবে। তা হলোসরকারপক্ষ, অধিবাসীর প্রতিনিধিত্বকারী সমিতি এবং আন্তর্জাতিক আরুভেল্লি পরামর্শক সমিতি। ভারতীয় সরকার নির্বাচিত কর্র্তৃপক্ষ এই তিন স্তরবিশিষ্ট পর্ষদের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী।

আরুভেল্লির কার্যাবলি

আরুভেল্লির অধিবাসীরা বিভিন্ন কর্মকান্ডে নিজেদের যুক্ত রাখেন। এসব কর্মকা-ের উদ্দেশ্য নিজেদের আত্মিক উপলব্ধির উন্মোচন, মানুষের কল্যাণ ও সেবা। এ জনপদের অধিবাসীরা সবাই কোনো না কোনো কর্মে নিজেদের নিয়োজিত রাখে। তাদের এসব কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত আশেপাশের গ্রামের গ্রামবাসীরাও। আরুভেল্লি ভিলেজ অ্যাকশন ট্রাস্টের আওতায় গ্রামবাসীর জীবনযাত্রা উন্নয়নে কাজ হয়ে থাকে। সবচেয়ে বড় কাজটি হয়ে থাকে আরুভেল্লি ভিলেজ অ্যাকশন ট্রাস্টের অধীনে। এ কার্যক্রমের আওতায় অধিবাসীরা পার্শ্ববর্তী গ্রামের নারীদের মধ্যে শিক্ষার বিস্তার ও নারী স্বনির্ভরতার জন্য কাজ করে থাকে। তারা সামাজিক উদ্যোক্তা তৈরির প্রকল্পের অধীনে এইসব নারী এবং অধিবাসীদের তৈরি পণ্যও বিক্রি করে থাকে। আরুভেল্লি  শহরে শিক্ষা একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া। এর জন্য রয়েছে আজীবন শিক্ষাকেন্দ্র। শহরের শিল্পকারখানায় কর্মরত ব্যক্তিরা যেন সঠিক প্রশিক্ষণ লাভ করতে পারে সেজন্য রয়েছে আরুভেল্লি যন্ত্রশিল্প শিক্ষালয়। আত্মিক ও সাংস্কৃতিক উন্নতির জন্যে রয়েছে মহানাম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। শহরে বসবাসকারী ব্যক্তিদের ও আশপাশের গ্রামে বসবাসরত অধিবাসীদের চিকিৎসা সেবাদানের জন্য রয়েছে আরুভেল্লি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। এই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে আধুনিক চিকিৎসা ছাড়াও আয়ুর্বেদিক পদ্ধতির ব্যবহার রয়েছে।  বিশেষ শিশুদের জন্য রয়েছে দীপম শিক্ষালয়। শহরবাসীর জমায়েতের জন্য রয়েছে থামারাই কমিউনিটি সেন্টার। প্রকৃতির মাঝে নিরাময় লাভের জন্য রয়েছে মাতরুভাম হিলিং ফরেস্ট। আরুভেল্লির আরেকটি চমৎকার কার্যক্রম হলো ‘রিচ ফর দ্য স্টারস!’ প্রোগ্রাম। এই প্রকল্পের আওতায় হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা লাভে সার্বিক সহায়তা করা হয়।

অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা

এ শহরে কোনো কাজকেই ছোট করে দেখা হয় না। সব কাজ সমান গুরুত্ব লাভ করে থাকে। শুধু সম্মানের দিক থেকেই নয়। বরং সম্মানীর দিক থেকেও। চিকিৎসক বা শিক্ষক যে সম্মানী লাভ করেন, বর্জ্য পরিষ্কারকও একই সম্মানী লাভ করেন। ব্যতিক্রম রয়েছে মুদ্রাব্যবস্থাতেও। কাগজ বা ধাতব মুদ্রার ব্যবহার এ শহরে নেই। কাগজ ও ধাতব মুদ্রার পরিবর্তে অধিবাসীদের দেওয়া হয় একটি অ্যাকাউন্ট নাম্বারযা শহরের কেন্দ্রীয় অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। অ্যাকাউন্টে পয়েন্ট জমা হয় এবং মুদ্রা হিসেবে এই পয়েন্টই ব্যবহৃত হয়। এই পয়েন্ট ব্যবহার করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সংগ্রহ করা যায়।

দর্শনার্থীদেরও অনুরোধ করা হয় অস্থায়ী অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য। দর্শনার্থীরা এবং শহরের অধিবাসীদের উৎসাহিত করা হয় আরুভেল্লির বাজেটে দান করার জন্য। এই বাজেটের অর্থ আরুভেল্লির সার্বিক ব্যবস্থাপনার কাজে ব্যবহৃত হয়। শহর পরিচালনায় অধিবাসীরা বিভিন্নভাবে অবদান রাখতে পারে। মাসিক অর্থ সাহায্যের পাশাপাশি কাজের মাধ্যমে এমনকি সহমর্মিতা প্রকাশের মাধ্যমেও তারা সামষ্টিক অবদান রাখতে পারেন।

ভারত সরকার আরুভেল্লি বাজেটের একটি নির্দিষ্ট অর্থ দিয়ে থাকে। শহরের অধিবাসীরা স্বনির্ভরায়ন প্রকল্পের আওতায় যেসব ব্যবসা পরিচালনা করে, সেগুলো থেকে যে মুনাফা হয় তার ৩৩ শতাংশ আরুভেল্লির কেন্দ্রীয় তহবিলে জমা করে। এ সব ব্যবসার মধ্যে অতিথিশালা নির্মাণ ও পরিচালনা, আগরবাতি তৈরি, জৈব খাদ্য তৈরি, হাতে তৈরি কাগজ উৎপাদন ইত্যাদি অন্যতম। অনলাইনের মাধ্যমে এসব পণ্য ভারতের অভ্যন্তরে এবং অন্যান্য দেশেও পাওয়া যায়। শহরের অধিবাসীরা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী গ্রামে বসবাসকারী প্রায় ৫০০০ মানুষ এসব আর্থিক কর্মযজ্ঞে নিয়োজিত আছে।

তাছাড়াও বনায়ন, জৈব কৃষি, প্রাথমিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, গ্রাম উন্নয়ন, যথাযথ প্রযুক্তি, নগর পরিকল্পনা, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও সামাজিক কার্যক্রমের নানা প্রকল্প ও গবেষণার কার্যক্রম চলমান থাকে আরুভেল্লি শহরে সবসময়। 

সুবর্ণজয়ন্তী

পরীক্ষামূলক এ শহরের পঞ্চাশ বছরপূর্তি হয় ২০১৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। এ উপলক্ষে ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দ প্রেরিত এক বার্তায় শ্রী অরবিন্দকে আধুনিক ভারতের শ্রেষ্ঠ ঋষি বলে সম্বোধন করেন। তিনি আরুভেল্লিকে মানবসভ্যতার শান্তি ও শুভ ইচ্ছার প্রতিভূ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আরুভেল্লি মানব ঐক্যের অপূর্ব দৃষ্টান্ত।

বিশ্বের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এ ব্যতিক্রমী জনপদ বিভিন্ন সময় স্থান করে নিয়েছে এর ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্যগুণে। এ জনপদ নিয়ে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছে।

এই জনপদে ৫৪টি দেশের প্রায় ৩০০০ অধিবাসী বসবাস করে। এর মধ্যে ২১২৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ৬৮৭ জন শিশু। ভিন্ন ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সহিষ্ণুপূর্ণ সহাবস্থান আরুভেল্লিকে দিয়েছে অনন্যতা।