বিচার না হওয়ায় বারবার হামলা

পটুয়াখালীর দশমিনায় আলীপুর গ্রামের বাসিন্দা বিধবা কানন বালা। ২০১৭ সালের ৮ মে সকালে হাত-পা বেঁধে তাকে নির্যাতন চালায় স্থানীয় আবুল হোসেন প্যাদা ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় কানন বালার ছেলে অসীম চন্দ্র দাশ বাদী হয়ে ওই বছর ১১ মে দশমিনা থানায় ১৪ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার ৯ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক ইউনুচ আলী হাওলাদার। চার বছরেও বিচার পাননি কানন বালা। উল্টো আসামিদের হুমকিতে তটস্থ আছে নির্যাতিত হিন্দু পরিবারটি। শুধু কানন বালা নয়, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে গত ১৯ বছরে সারা দেশে ২৫৩টি মামলা হয়েছে। এসব মামলার একটিতেও রহস্য উদঘাটন হয়নি। যে কারণে বিচারও শেষ হয়নি। ইতিমধ্যে জামিন নিয়ে পালিয়ে গেছে মামলার একাধিক আসামি। আবার কিছু মামলা আছে দিনের পর দিন ধরেই চলছে তদন্ত। ২০০১ সালে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায়ও বিচার হয়নি। তবে সরকারের হাইকমান্ড ২৫৩টি মামলা পুনঃতদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বিশেষজ্ঞরা দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, মামলাগুলো নিষ্পত্তি না হওয়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর বারবার হামলার ঘটনা ঘটছে। দিনের পর দিন মামলাগুলো আদালতে ঝুলে আছে। বিচারহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগীরা। ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত অপরাধীদের দ্রুত ট্রাইব্যুনালের আওতায় এনে বিচার করলে আর কেউ অপরাধ করার সাহস পাবে না। যারা এসব অপকর্ম করছে তারা মানবতার শত্রু। একটি মহল দেশের শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে। এটি রাষ্ট্রকে শক্তভাবে মোকাবিলা করতে হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া যাবে না। অপরাধী যে দলেরই হোক, তাদের আনতে হবে আইনের আওতায়।

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ গতকাল রবিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় যেসব মামলা হয়েছে সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। বিচার যদি না হয় তাহলে তো হামলার ঘটনা ঘটবেই। দুর্বৃত্তরা অপকর্ম করার সাহস পাবে। রাষ্ট্রের উচিত দ্রুত মামলাগুলোর সুরাহা করা। দুর্বৃত্তদের এমনভাবে শাস্তির আওতায় আনতে হবে যাতে আর কেউ কারোর ওপর হামলা চালাতে না পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত কয়েক বছরে এ সংক্রান্ত যেসব মামলা হয়েছে তা দ্রুত তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দিতে হবে। তবে তদন্তে যাতে নিরপরাধ লোক হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। পাশাপাশি কোনো মামলার পুনঃতদন্ত করতে হলে তারও উদ্যোগ নিতে হবে। কঠোর থাকতে হবে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে।’

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। বিচারের দীর্ঘসূত্রতা থাকা কারোরই কাম্য নয়। আমরা চাই যেসব মামলা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি তা করতেই হবে। আইনের আওতায় আনতে হবে প্রকৃত অপরাধীদের। রাষ্ট্রকে দেশের সব নাগরিককে নিরাপত্তা দিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন আগে ঘটে যাওয়া ঘটনার মামলাগুলো দিনের পর দিন বিচারের অপেক্ষায় আছে। আবার পুলিশ অনেক মামলা তদন্ত করছে। এ বিষয়গুলো দ্রুত সুরাহা করতে হবে। যারা রাষ্ট্রীয় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে তাদের চিহ্নিত করতে হবে। ফেইসবুকে যারা গুজব রটাচ্ছে তাদের রুখতে হবে। এসব অপরাধী মানবতার শত্রু।’

পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের স্পর্শকাতর মামলাগুলোর বিচারকাজ দীর্ঘদিনেও শেষ না হওয়ার অন্যতম কারণ হলো ঘটনার রহস্য উদঘাটন না হওয়া। আর রহস্য উদঘাটন না হওয়ার মূল কারণ হলো, পরিকল্পনাকারী বা নেপথ্য নায়করা ধরা না পড়া। যারা গ্রেপ্তার হয় তারা প্রকৃত অপরাধীর নাম বলে না। অনেক সময় দেখা যায়, যাদের নাম বলে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। এছাড়া পরিকল্পনাকারী থেকে বাস্তবায়নকারী পর্যন্ত কয়েকটি স্তর থাকে। যেসব হামলাকারী গ্রেপ্তার হয় তাদের কাছে পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে কোনো তথ্য থাকে না। স্পর্শকাতর এসব মামলায় কেন সমঝোতা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনে বিচারকাজ শেষ হওয়ার কারণে বাদীপক্ষের মধ্যে এক ধরনের হতাশা থাকে। আর আসামিপক্ষ আপসের জন্য চাপ দিতে থাকে। একপর্যায়ে বাদীপক্ষ মনে করে, দীর্ঘদিনেও যেহেতু বিচার হচ্ছে না, কবে বিচার পাব তার ঠিক নেই। যেহেতু এলাকায় থাকতে হবে, তাই আর তিক্ততা না বাড়িয়ে সমঝোতা করে ফেলাই ভালো। এ ধরনের ধারণা থেকে সমঝোতা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক বলেন, ‘দেশকে অস্থিতিশীল করতে একটি চক্র কাজ করছে। তাদের দমন করতে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে হবে না। এতে সাধারণ জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।’

একই কথা বলেছেন মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন। তিনি বলেন, ‘হামলায় পেশিশক্তি যেমন থাকে, রাজনৈতিক শক্তিও থাকে। সাধারণভাবে এমন একটি ধর্মীয় জিকির তোলা হয় তখন অনেক ক্ষেত্রেই সব দল এক হয়ে হামলা চালায়। বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। যারা এসব অপকর্ম করছে তাদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে।’

পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ২০০১ থেকে ২০২১ সালের অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সারা দেশে সংখ্যালঘু, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, পাশবিক নির্যাতন, হত্যাকাণ্ড, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সরকার। দিনের পর দিন কিছু মামলা আদালতে আছে। আবার কিছু মামলার তদন্ত চলছে। গত ১৯ বছরে সারা দেশে হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া ২৫৩টি মামলা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। ওইসব মামলা কী অবস্থায় আছে তা জানতে চেয়েছে সরকারের উচ্চমহল। এসব মামলা পুনরায় তদন্ত করার উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে ২০০১ সালে সংসদ নির্বাচনের পর সারা দেশেই হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ব্যাপক হামলা চালানো হয়। অভিযোগ আছে, তৎকালীন জোট সরকার হামলা করার পর উল্টো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আসামি করে নানাভাবে হয়রানি করা হয়। আবার অনেককে দেশছাড়া করা হয়েছে। ওই সময়ে বসতভিটা পুড়িয়ে লুট করা হয় মালামাল। হত্যা করা হয় ৩৩৫ জনকে। এ নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে কমিশন একাধিক সুপারিশও করেছে।

এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, ২০০৮ সালে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০১ সালের নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার মামলাগুলো সচল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। নৃশংস ঘটনার কারণ উদঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে ‘হিউম্যান রাইট ফর পিস’ নামের একটি মানবাধিকার সংগঠন হাইকোর্টে রিট আবেদন করে। ২০০৯ সালের ৬ মে এসব নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তের জন্য সরকারকে নির্দেশ দেয় আদালত। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ২০১০ সালের ২৭ ডিসেম্বর অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ মুহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন দীর্ঘ সময় তদন্ত করে ২০১১ সালের ২৪ এপ্রিল তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের কাছে একটি রিপোর্ট পেশ করে। তদন্তকালে কমিশন অভিযোগ পেয়েছিল ৫ হাজার ৫৭১টি। রিপোর্টে বলা হয়, বিএনপি ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতাসহ অন্তত ১৮ হাজার নেতাকর্মী জড়িত ছিল ওইসব সহিংসতায়। ২০০১ সালে সাধারণ নির্বাচনের পরপরই বরিশাল বিভাগে ২ হাজার ১৮৯টি, ঢাকায় ১৮৪টি, চট্টগ্রামে ৩৫০টি, রাজশাহীতে ১১৭টি এবং খুলনায় ৪০৫টি হামলার ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে খুলনা বিভাগে ৭৩, ঢাকা বিভাগে ৯২, রাজশাহী বিভাগে ৫৩, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৭, বরিশাল বিভাগে ৩৮ এবং সিলেট বিভাগে দুজনকে হত্যা করা হয়। এর মধ্যে ভোলা, বরিশাল, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, যশোর, নাটোর, রাজবাড়ী, পাবনা, ফেনী, রাজশাহী, ঝিনাহদহ, চট্টগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, দৌলতখান, চরফ্যাশন, লালমোহন, বোরহানউদ্দিন, কুষ্টিয়া, গাজীপুর, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা এবং মৌলভীবাজার জেলায় হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকাণ্ডের বেশি ঘটে। এসব ঘটনায় মামলা হয় ২২১টি। তদন্ত করে চার্জশিট দেওয়া হয় ১৯৪টি। ২৭ মামলায় দেওয়া হয় চূড়ান্ত প্রতিবেদন। গত তিন বছরে ৩২টি মামলা হয়েছে। আমার জানামতে, সবকটি মামলাই পুনঃতদন্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজারের রামুতে ১২টি বৌদ্ধ বিহার ও বৌদ্ধপল্লীতে একযোগে অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনা ঘটে। একই ঘটনার জের ধরে উখিয়া ও টেকনাফে আরও সাতটি বৌদ্ধ বিহার পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এসব ঘটনায় রামু, উখিয়া ও টেকনাফে ১৯টি মামলা হয়। এর মধ্যে রামু থানায় আটটি, উখিয়ায় সাতটি, টেকনাফে দুটি ও কক্সবাজার সদর থানায় দুটি মামলা হয়। এসব মামলার মধ্যে রামু থানায় সুধাংশু বড়ুয়ার করা মামলাটি দুপক্ষের আপস-মীমাংসার ভিত্তিতে খারিজ করে দেয় আদালত। বাকি ১৮টি মামলার অভিযোগপত্রে ১৫ হাজার ১৮২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। কিন্তু এখনো শেষ হয়নি বিচার কার্যক্রম। অন্যদিকে বেশিরভাগ আসামিই ইতিমধ্যে জামিন পেয়েছে। তাদের মধ্যে চার শতাধিক আসামিই পলাতক।

এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম বলেন, ‘যথাসময়ে সাক্ষীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায় বিচার কার্যক্রম পিছিয়ে যাচ্ছে। বেশিরভাগ মামলার সাক্ষীদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। যাদের পাওয়া যায় তাদের অনেকে আবার আসামির পক্ষে কথা বলায় চিহ্নিত হচ্ছেন “বৈরী সাক্ষী” হিসেবে।’

২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের চরকাঁকড়া এলাকার রাধাকৃষ্ণ সেবাশ্রমে কীর্তনানুষ্ঠানে হামলা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তৎকালীন কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই সৈকত দাশ গুপ্ত বাদী হয়ে মামলা করেন। এতে ১৭ জনের নামসহ অজ্ঞাত ৪২ জনকে আসামি করা হয়। মামলাটিতে অভিযোগপত্র দেওয়া হলেও শেষ হয়নি বিচারকাজ। এরই মধ্যে সব আসামি জামিন পেয়ে গেছে।

২০১৫ সালের ৯ আগস্ট নীলফামারীর জলঢাকায় শিক্ষক মাধব চন্দ্রকে ফিল্মি স্টাইলে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতের ভাই রতন লাল জানান, স্পর্শকাতর হত্যাকা- বিবেচনায় সরকার বাদী হয়ে মামলা করেছে। এর তদন্তভার সিআইডির ওপর ন্যস্ত আছে। তদন্তের কোনো আপডেট তাকে জানানো হচ্ছে না।

২০১৬ সালের ২৯ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু বসতিতে হামলার তদন্ত প্রায় পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। ওই সময় যাদের আটক করা হয়েছিল তারাও জামিনে মুক্ত হয়ে গেছে। ২০১৬ সালের ১৬ নভেম্বর স্থানীয় কালীবাড়ি নাট নাট মন্দিরে শ্রী শ্রী কার্তিকপূজা চলাকালে হামলার ঘটনা ঘটে। ২০১৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পুলিশ এ মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়।

২০১৬ সালে ৩০ অক্টোবর ঝালকাঠির নলছিটি থানায় একটি মামলা হয়। এ মামলায় পুলিশ অভিযোগপত্র দিলেও এতে বলা হয়, সমাধিস্থল ভাঙচুরের অভিযোগটি মিথ্যা। জমিজমার বিরোধকে ঘিরে মামলাটি হয়েছিল। ২০১৭ সালের ৩ জুলাই মাধবপুরের কাশিমপুর গ্রামে এক হিন্দু বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বাড়ির মালিক সুনীল চন্দ্র পাল বাদী হয়ে মাধবপুর থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি এখন হবিগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল আদালতে বিচারাধীন।

২০১৭ সালের ১ জুন রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম নয়নের লাশ খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন লাশ নিয়ে লংগদুতে মিছিল বের করা হয়। পরে আশপাশের পাহাড়িদের বাড়িঘরে হামলা ও আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে ২১৮টি বাড়িঘর ভস্মীভূত হয়। এ ঘটনায় তিনটি মামলা হয়। দুটি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষে বাদী হয়ে কিশোর কুমার চাকমার করা মামলার তদন্ত চলছে এখনো।

২০১৮ সালের ১৬ মার্চ কুমিল্লার চান্দিনায় ধর্মপালনে বাধা দেওয়া, মন্দিরে হামলা, মূর্তি চুরি এবং চাঁদা দাবির অভিযোগে চান্দিনা থানায় মামলা হয়। একই বছর রংপুরে মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)কে অবমাননার অভিযোগে ২০১৭ সালের ৬ নভেম্বর টিটু রায় নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার ফাঁসির দাবিতে হিন্দু সম্প্রদারের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়। মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হলেও এখনো বিচারকাজ শেষ হয়নি। ৪০ আসামিই জামিনে কারাগার থেকে বেরিয়ে গেছে।

২০১৫ সালে বগুড়ায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে ভাঙচুর এবং হামলার ঘটনায় তিনটি মামলা হয়। মামলাগুলো বিচারাধীন আদালতে। গত ১৩ অক্টোবর কুমিল্লার একটি মণ্ডপে পবিত্র কোরআন অবমাননার কথিত অভিযোগ তুলে বেশ কয়েকটি মণ্ডপ ও স্থাপনা ভাঙচুর হয়। এর জেরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৭০টি পূজামণ্ডপে হামলা-ভাঙচুর-লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।