টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গায় স্কুলছাত্রী সুমাইয়া (১৬) হত্যা রহস্য উন্মোচনের দাবি করেছে র্যাব-১২।
ঘটনার ১০ ঘণ্টার মাঝে হত্যার প্রধান সন্দেহভাজন নিহত সুমাইয়ার সাবেক প্রেমিক মনিরকে (১৭) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করেছে বাহিনীটি।
সুমাইয়ার গলাকাটা লাশের পাশে আহতাবস্থায় পড়ে থাকা গুরুতর মনিরই সুমাইয়াকে খুন করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।
মনির কালিহাতী উপজেলার চরভাবলা গ্রামের মেহের আলীর ছেলে।
র্যাব-১২, সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার লে. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গোয়েন্দারা তদন্ত করে জানতে পারে মনির নামে এক বখাটের সঙ্গে সুমাইয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই তথ্যের সূত্র ধরে ছেলেটির পরিচয় বের করে এবং হত্যার সঙ্গে কোন সংশ্লিষ্টতা আছে কি-না অনুসন্ধান করতে থাকে।
মনিরের ঘনিষ্ঠদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তাদের মোবাইলে থাকা ছবি-ভিডিও’র ভিত্তিতে উন্মোচিত হয় হত্যা রহস্য।
সুমাইয়ার সঙ্গে ট্রাকের হেলপার মনিরের ২ বছর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বদমেজাজি ও নেশাগ্রস্ত মনির বিভিন্ন সময়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য সুমাইয়াকে চাপ দিত ও নির্যাতন করত। দুই মাস আগে সুমাইয়া সম্পর্কচ্ছেদ করে অন্য একজনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। এতে মনির ক্ষুব্ধ হয়। সপ্তাখানেক আগে সুমাইয়াকে রাস্তায় একা পেয়ে মারধর করে মনির। এতে তার কান দিয়ে রক্ত চলে আসে এবং চিকিৎসা করাতে হয়।
চড়-থাপ্পড় মারার দৃশ্য মনির ভিডিও করে রেখে বন্ধুদের দেখায়। ২৬ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে ঘনিষ্ঠ ৫-৬ জনকে নিয়ে এলেঙ্গা সামসুল হক কলেজে মিটিং করে মনির। সেখানে সুমাইয়া ও তার নতুন প্রেমিকের ওপর প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করে। মনির পাগলের মতো আচরণ করতে থাকে এবং ২০-৩০ মিনিট পর সবাই যার যার বাড়ি চলে যায়।
আরও জানা যায়, মনির একটি সুইচ গিয়ার সংগ্রহ করে এবং লাইকির জন্য ভিডিও তৈরি করে। ওই সুইচ গিয়ার চাকুর ব্যবহার করে ভিডিও বানায় সে। হত্যাকাণ্ডের স্থানে একই রক্তাক্ত সুইচ গিয়ার পড়ে ছিল।
সুমাইয়াকে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করে মনির। ঘটনাস্থল থেকে তাকে প্রথমে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একটি দল মনিরকে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে সে র্যাব হেফাজতে ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।