নাটোরে জলাশয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ১

নাটোরের লালপুরের ঈশ^রপাড়ায় শুক্রবার সরকারি জলাশয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুপক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ও দুই পায়ের রগ কেটে মোখলেসুর রহমান নামে একজনকে খুন করা হয়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় সাখাওয়াত হোসেন নামে অপর একজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত মোখলেসুর রহমানের স্বজনেরা প্রতিপক্ষের হজরত আলীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে ভাঙচুর শুরু করলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর থেকে ঈশ্বরপাড়া এলাকা পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, লালপুরের ঈশ্বরপাড়ার একটি ১৮ বিঘার সরকারি দিঘী (জলাশয়) এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একই এলাকার বাদশাহ গ্রুপ ও সাহাবুল গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছে।

গত চার বছরে তাদের মধ্যে অনেকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার ভোর পৌনে ছয়টার দিকে পূর্ব বিরোধের জের ধরে হঠাৎ বাদশা গ্রুপের লোকজন সাহাবুল গ্রুপের উপরে হামলা চালায়। এতে ধারালো হাঁসুয়ার আঘাতে মোখলেসুর রহমান (৫১) ও সাখাওয়াত হোসেন সাকাত (৬৬) নামে দুইজন গুরুতরভাবে আহত।

লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মোখলেসুর রহমান মারা যান।

হামলাকারীরা মৃত্যু নিশ্চিত করতে মোখলেসুর রহমানের দুই পায়ের রগ কেটে দেয়। গুরুতরভাবে আহত সাখাওয়াত হোসেন সাকাতকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এসব বিষয়ে জানতে গেলে বাদশাহর স্ত্রী রুমানা বেগম বলেন, প্রতিপক্ষরা তার স্বামীর অনুসারীদের অসংখ্য বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করছে। তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সকল ঘটনার জন্য তিনি প্রতিপক্ষ সাহাবুল ইসলাম সাপুকে দায়ী করেন।

অপরদিকে সাহাবুল গ্রুপের প্রধান সাহাবুল ইসলাম সাপু বলেছেন, কোনো কারণ ছাড়াই বাদশা গ্রুপ লালপুর থানা-পুলিশের সামনেই তাদের উপর হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ও দুই পায়ের রগ কেটে তাদের একজনকে হত্যা করেছে। সব ঘটনার জন্য বাদশাহ দায়ী।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে লালপুর থানার ওসি ফজলুর রহমান জানান, ঈশ্বরপাড়া গ্রামে হামলার ঘটনার সময় ওই পথ দিয়ে তার থানার ওসি (তদন্ত) আবু সিদ্দিক নাটোরে পুলিশ নিয়োগ কার্যক্রমে অংশ নেয়ার জন্য যাচ্ছিলেন। ঘটনাক্রমে বিষয়টি তার সামনে ঘটলেও তার তৎপরতার কারণেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। নইলে আরও বড় ধরনের অঘটন ঘটতে পারতো।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লালপুর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।