‘তার সঙ্গে দেখা করতে ডিআইজিরও নাকি অপেক্ষা করতে হয়’

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার মানিকারচর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বিপাকে পড়েছেন দুইবারের চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ। তার সমর্থক ও নেতাকর্মীদেরও এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

রবিবার সকাল সাড়ে নয়টায় মানিকারচর বাজারে তার নির্বাচনী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

পরে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেন তার সমর্থকরা।

লিখিত বক্তব্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মেঘনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হারুন অর রশিদ বলেন, আমি টানা দুইবারের চেয়ারম্যান। গত বছরও স্বতন্ত্র থেকে জয়লাভ করেছি। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার সমর্থক ও কর্মীদের নানাভাবে হুমকি, ভয়ভীতি দেখাচ্ছে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী  মো. জাকির হোসেন।

‘হামলা-মামলার ভয় দেখি সাধারণ ভোটারদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দিচ্ছে। নির্বাচনী সভাগুলোতে প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছে আমার ও আমার সমর্থকদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেবে। প্রবাসফেরত আমার আপন ভাইদের প্রবাসে ফিরতে দেবে না বলে হুমকি দিচ্ছে। তার গুন্ডাবাহিনীর ভয়ে মানিকারচরবাসী আতঙ্কিত।’

আনারস প্রতীকের এই স্বতন্ত্র প্রার্থী অভিযোগ করেন, নৌকার প্রার্থী তার প্রতিটি নির্বাচনী সভায় প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছে, আইজিপি নাকি তার নৌকা প্রতীক পাওয়ার জন্য মনোনয়ন বোর্ডে সুপারিশ করেছেন।

‘ডিআইজি তার সঙ্গে দেখা করতে আসলে নাকি পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। এসব বলে সাধারণ ভোটারদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দিচ্ছে। নৌকা প্রার্থীর এসব বক্তব্যের ভিডিও রেকর্ডসহ পুলিশ হেডকোয়ার্টারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।’

সংবাদ সম্মেলনে একই অভিযোগ তোলেন এই ইউনিয়নের আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিনের (চশমা প্রতীক) স্বামী মেঘনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, নৌকা প্রতীক পাওয়া জাকির হোসেন ইউনিয়ন যুবলীগের সম্মেলনে প্রার্থী না হয়েও ১ বছর আগে টাকার মাধ্যমে ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি পদ বাগিয়ে নেয়। পরে তৃণমূলের কর্মীদের চাপে তার সেই কমিটি স্থগিত করা হয়।

তার ভয়ে এলাকার মানুষ আতঙ্কিত! সামান্য যে কোনো বিষয় নিয়ে এই জাকির হোসেন মানুষদের মামলার ভয় দেখিয়ে আসছে।

পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন নাকি তার কথায় চলে! এই ধরনের কথাবার্তা বলে একদিকে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে অপরদিকে এলাকার পরিবেশে ভীতি সৃষ্টি করছে। পাঁচ বছর আগের সিএনজি চালক জাকির এখন শত কোটি টাকার মালিক কীভাবে হলো?  কোথায় পেলো সে এতো টাকা তা খতিয়ে দেখার দাবি জানাচ্ছি।

নৌকার প্রার্থী জাকির হোসেন যেভাবে প্রকাশ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে আসছে তার বিরুদ্ধে যদি ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে তার দ্বারা সাধারণ মানুষের প্রতি অত্যাচার বেড়েই যাবে। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন এবং আমাদের পরিবার ও কর্মী সমর্থকদের নিরাপত্তার দাবি জানাচ্ছি।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. জাকির হোসেনকে একাধিকবার ফোন করলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া যায়নি। 

মেঘনা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল মজিদ জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত লিখিত কোনো অভিযোগ পাননি।