অচেনা প্রাণীর আক্রমণে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হরিণাথপুর ইউনিয়নে একজনের মৃত্যু ও সাতজন আহত হওয়ার ঘটনার পর প্রাণীটিকে শিয়ালের কোনো এক উপপ্রজাতি বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। এরপরও ওই ইউনিয়নের চার গ্রামে এখনো আতঙ্ক কাটেনি। যেখানেই যাচ্ছেন সেখানেই হাতে বল্লম ও লাঠি নিয়ে চলাফেরা করছেন গ্রামবাসীরা। সন্তানকে বিদ্যালয়ে যেতে দিচ্ছেন না অভিভাবকেরা।
সরেজমিনে রবিবার বিকেল তিনটায় হরিণাথপুর ও তালুক কেঁওয়াবাড়ী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মানুষ এখনো হাতে বল্লম ও লাঠি নিয়ে চলাফেরা করছেন। যেখানেই যাচ্ছেন একা না গিয়ে যাচ্ছেন দল বেঁধে। শিশুরা যেখানে আছে সেখানে আশপাশে অভিভাবক পাহারা দিচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছে শিয়াল আক্রমণের আতঙ্ক।
গ্রামবাসী জানান, গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া অচেনা প্রাণীটি হরিণাথপুর গ্রামে ইমাম ফেরদৌস রহমান রুকু, আমিরুল চৌধুরী ও সুমি বেগম, তালুক কেঁওয়াবাড়ী গ্রামের রাব্বি মিয়া ও পারভীন বেগম, কিশামত কেঁওয়াবাড়ী গ্রামের আফছার আলী ও খামার বালুয়া গ্রামের হামিদ মিয়াকে আক্রমণ করে আহত করে। প্রাণীটি তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশের মাংস ছিঁড়ে নেয়। পরে আহতরা হাসপাতালে গিয়ে জলাতঙ্কের টিকা নেন। এর মধ্যে ফেরদৌস রহমান রুকু মারা যান গত ১৮ অক্টোবর। লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় আশপাশে দুইটি শিয়াল পিটিয়ে মেরে ফেলেছে গ্রামবাসী।
এদিকে অচেনা প্রাণীকে দেখা ব্যক্তিরা বলছেন, প্রাণীটি দেখতে অনেকটা কুকুর বা শিয়ালের মতো। শরীর মোটা। গায়ের রং লাল, সাদা, কালো ও ধূসর রঙের। লেজ ও মুখ লম্বা।
হরিণাথপুর গ্রামের জিয়ারুল চৌধুরী বলেন, ছেলে-মেয়েরা যখন খেলতে যায় তখন লাঠি হাতে অভিভাবকেরা আশপাশেই থাকেন। খেলা শেষে তাদেরকে ঘরে রেখে আসি। তারা থাকতে চায় না, চিৎকার করে। ভয়ে বাচ্চাদের বাইরে যেতে দিচ্ছি না। খুবই আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।
তালুক কেঁওয়াবাড়ী গ্রামের এননাহার বেগম বলেন, বিকেলে বাড়ির সামনে এক প্রাণী দেখতে পেয়েছি। সেটির মুখ কালো। দেখতে অনেকটা কুকুরের মতো। পরে আমার ভাশুর (স্বামীর বড় ভাই) সেটিকে তাড়িয়ে দিলে প্রাণীটি ধানখেতে চলে যায়। সন্ধ্যার পর ঘরে উঠলে ভয়ে রাতে আর বের হই না। আতঙ্কের মধ্যে আছি।
একই গ্রামের সাইদুর রহমান বলেন, এখানে সবাই ভয়, আতঙ্কের মধ্যে আছি। আতঙ্ক এখনো কাটেনি। সবাই বিপদের মধ্যে আছি। যেখানে যাচ্ছি দুই-তিনজন একসাথে যাচ্ছি। কেননা যখন-তখন রাস্তায়, বাড়ির পাশে দেখা মিলছে শিয়ালের।
তালুক কেঁওয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনারুল ইসলাম বলেন, অচেনা প্রাণীর আক্রমণ শুরুর পর থেকে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ৫০ শতাংশ কমে গেছে। আমরা অভিভাবককে ছেলে-মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে দলবদ্ধভাবে আসা-যাওয়া করতে বলছি। কিন্তু তাতেও তেমন সাড়া মিলছে না। কোনোভাবেই আতঙ্ক কমছে না।
গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মাছুদার রহমান সরকার বলেন, অচেনা প্রাণীটি শিয়ালের একটি উপপ্রজাতি। মানুষকে যাতে আক্রমণ করতে না পারে সে জন্য সবাইকে সতর্ক হয়ে চলতে হবে। এটি যদি মানুষকে কামড়ায় তাহলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে জলাতঙ্কের টিকা নিতে হবে ও যদি পশুকে কামড়ায় তাহলে সেই পশুকে প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে টিকা দেওয়াতে হবে।