উম্মতে মুহাম্মদির শ্রেষ্ঠত্ব

নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মর্যাদা ও সম্মানের দিক থেকে ছিলেন অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তখন কী অবস্থা হবে, যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং এই লোকদের বিরুদ্ধে আপনাকে সাক্ষীরূপে উপস্থিত করব।’ সুরা আন নিসা : ৪১

বর্ণিত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইসলামি স্কলাররা বলেছেন, বিগত উম্মতসমূহের নবী-রাসুলরা নিজ নিজ উম্মতের সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হবেন এবং স্বয়ং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় উম্মতের কৃতকর্মের সাক্ষ্য দান করবেন।

নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক হাদিসে ইরশাদ করেন, অন্য সব নবীদের চাইতে আমাকে ছয়টি বিশেষ মর্যাদা দান করা হয়েছে। আমাকে সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক কথা বলার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আমাকে অত্যন্ত প্রভাব দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে। আমার জন্য গনিমতের (যুদ্ধলব্ধ) অর্থ হালাল করা হয়েছে। আমার জন্য গোটা পৃথিবীর ভূমি বা মাটি পবিত্রতা হাসিলকারক এবং মসজিদ করা হয়েছে। আমাকে সমগ্র সৃষ্টির জন্য (নবী করে) পাঠানো হয়েছে। আর আমাকে দিয়ে নবীদের আগমন-ধারা সমাপ্ত করা হয়েছে। সহিহ্ মুসলিম : ১০৫৪

সাহাবি হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ‘আমিই হলাম সর্বপ্রথম ব্যক্তি কিয়ামতের দিন যার মাথার ওপর থেকে মাটি সরে যাবে (অর্থাৎ কবর থেকে সর্বপ্রথম হাশরের মাঠে উঠব) কিন্তু এতে কোনো অহংকার নেই। আর আমাকে প্রশংসার পতাকা দেওয়া হবে, তাতেও কোনো অহংকার নেই। কিয়ামতের দিন আমিই হব মানবজাতির নেতা, এতেও আমার কোনো অহংকার নেই। কিয়ামতের দিন আমিই হব জান্নাতে প্রবেশকারী সর্বপ্রথম ব্যক্তি, এতেও কোনো অহংকার নেই। দারেমি : ৫৮

উম্মতে মুহাম্মদিকে এমন কিছু সম্মাননা আল্লাহ দিয়েছেন, যা অন্য কোনো উম্মতকে দেননি। আল্লাহতায়ালা এই উম্মতকে শ্রেষ্ঠ উম্মত ঘোষণা দিয়েছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে যত জাতির আবির্ভাব হয়েছে, এর মধ্যে  উম্মতে মুহাম্মদিই শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত। তোমাদের আবির্ভাব হয়েছে মানবজাতির জন্য।’ সুরা আলে ইমরান : ১১০

সপ্তাহের দিনগুলোর মধ্যে জুমাবার হলো শ্রেষ্ঠতম দিন। আগেকার উম্মত এই দিনের ফজিলত থেকে বঞ্চিত হয়। এ বিষয়ে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমরা শেষ উম্মত। তবে কিয়ামতের দিন আমরা সবার অগ্রগামী হব। কারণ আগের লোকদের কিতাব দেওয়া হয় এবং এক পবিত্র দিনে ইবাদত করা তাদের ওপর ফরজ করা হয়। কিন্তু তারা তাতে মতভেদ করে। অবশেষে আল্লাহ আমাদের এ দিনটির সন্ধান দেন। এ ব্যাপারে সব উম্মত আমাদের অনুগামী। ইহুদিরা পরের দিন তথা শনিবার এবং খ্রিস্টানরা এর পরের দিন তথা রবিবারকে মর্যাদার দিন হিসেবে সাব্যস্ত করে।’ সহিহ্ মুসলিম : ৮৫৫

মহান আল্লাহ এই উম্মতের ভুল-ত্রুটি ও গোনাহের পরিকল্পনা ক্ষমা করে দেবেন। আল্লাহ বান্দাদের দোয়া করতে শিখিয়ে দিয়ে বলেন, ‘পরওয়ারদেগার, আমরা যদি বিস্মৃত হই কিংবা ভুল করে ফেলি, তাহলে তুমি আমাদের পাকড়াও করো না।’ সুরা বাকারা : ১৮৬

সুতরাং শ্রেষ্ঠ নবীর শ্রেষ্ঠ উম্মতের সম্মান আমাদের বজায় রাখতে হবে। রাসুলের সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে সমাজে শান্তিও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা পালন করতে হবে। সেই সঙ্গে দ্বীনের ব্যাপারে অবিচল ও সুদৃঢ় থাকতে হবে।

দ্বীনের ব্যাপারে ইস্তিকামাত তথা অবিচল ও সুদৃঢ় থাকা, দ্বীনি সফলতার চাবিকাঠি। দুনিয়ার যত ধরনের পথ ভ্রষ্টতা ও পাপাচার দেখা যায়, তা সবই দৃঢ়তা থেকে সরে যাওয়ার ফল। ধর্মীয় বিশ্বাসের ক্ষেত্রে দৃঢ়তা থাকা আবশ্যক। আল্লাহতায়ালা এ প্রসঙ্গে ইরশাদ করেন, ‘আপনি দ্বীনের পথে দৃঢ়ভাবে সোজা চলতে থাকুন যেভাবে আপনি আদিষ্ট হয়েছেন।’ সুরা হুদ : ১১২