টাকা আর ক্ষমতার অহংকারের কারণে মানুষের হাঁটা-চলার ধরনও পরিবর্তন হয়ে যায়। নিজের চোখে সবাইকে একটু ছোট ছোট মনে হয়। মনে হয়, দুনিয়ার সবকিছু তার হাতের মুঠোয়। এমন অভ্যাস যদিও ইসলাম পছন্দ করে না। দম্ভভরে জমিনে চলা হারাম, মহান আল্লাহ সর্বদা বিনয় ও নম্রতা পছন্দ করেন। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা ঘোষণা করেছেন। ‘পৃথিবীতে অহংকারের সঙ্গে পদচারণা করো না। নিশ্চয় তুমি তো জমিনকে কখনোই বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় তুমি কখনোই পর্বত হতে পারবে না।’ সুরা বনি ইসরাইল : ৩৭
বর্ণিত আয়াতে অহংকারের অর্থ হচ্ছে, নিজেকে অন্যের চেয়ে উত্তম ও শ্রেষ্ঠ এবং অন্যকে নিজের তুলনায় হেয় ও ঘৃণ্য মনে করা। হাদিসে এজন্য কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়েছে। হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আল্লাহতায়ালা অহির মাধ্যমে আমার কাছে নির্দেশ পাঠিয়েছেন যে, নম্রতা অবলম্বন করো। কেউ যেন অন্যের ওপর গর্ব ও অহংকারের পথ অবলম্বন না করে এবং কেউ যেন কারও ওপর জুলুম না করে।’ সহিহ মুসলিম : ২৮৬৫
অন্য হাদিসে এসেছে, তোমাদের পূর্বেকার জাতিদের মধ্যে কোনো এক লোক দু-খানা চাদর নিয়ে গর্বভরে চলছিল। এমতাবস্থায় জমিন তাকে নিয়ে ধসে গেল, সে এভাবে কেয়ামত পর্যন্ত এর মধ্যে ঢুকতে থাকবে। সহিহ বোখারি : ৫৭৮৯
বস্তুত অহংকার ও দাম্ভিকতার সঙ্গে চলা আল্লাহর কাছে অতীব অপছন্দনীয়। এই অপরাধের কারণে কারুনকে তার প্রাসাদ ও ধন-ভা-ারসমেত জমিনে ধসিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুরা কাসাস : ৮১
বিনয়ী হওয়া : মহান রবের নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দা এবং যাদের হৃদয়ে আল্লাহতায়ালার ভয় আছে, তারা দুনিয়ায় খুবই বিনয়ের সঙ্গে চলাফেরা করে এবং তারা মূর্খদের সঙ্গে কখনো অনর্থক অযাচিত তর্কে লিপ্ত হয় না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে, ‘রহমানের বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং তাদের সঙ্গে যখন মূর্খরা কথা বলতে থাকে, তখন তারা বলে, সালাম (শান্তি, অথবা তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়)। সুরা আল ফুরকান : ৬৩
অহংকার নয় : শুধু চলার পথে অহংকার নয়, জীবনের সব ক্ষেত্রে অহংকার না করা। কারণ অহংকারকে পৃথিবীতে কেউ পছন্দ করে না, তেমনি আল্লাহতায়ালা পছন্দ করেন না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা ঘোষণা করেছেন, ‘অহংকারবশে তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করো না এবং পৃথিবীতে গর্বভরে পদচারণ করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা কোনো দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন না।’ সুরা লোকমান : ১৮
মধ্যমপন্থা অবলম্বন : জীবনের সব ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বনই উত্তমপন্থা। তাই আল্লাহতায়ালা হাঁটা-চলার ক্ষেত্রেও মধ্যমপন্থা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, ‘পদচারণায় মধ্যবর্তিতা অবলম্বন করো এবং কণ্ঠস্বর নিচু করো। নিঃসন্দেহে গাধার স্বরই সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর।’ সুরা লোকমান : ১৯
বর্ণিত আয়াতে তাফসিরে বলা হয়েছে, মানুষের চলন যেন এমন ধীরগতির না হয়, যাতে দেখে অসুস্থ মনে হয় এবং এমন দ্রুতগতিরও না হয়, যা সম্ভ্রম ও গাম্ভীর্যের পরিপন্থী। এ কথাকে অন্য জায়গায় এভাবে বলা হয়েছে, ‘(আল্লাহর বান্দারা) পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে।’ সুরা ফুরকান : ৬৩
আরেকটি বিষয়, উচ্চৈঃস্বরে (চিৎকার করে) কথা না বলা। কারণ বেশি চিৎকার করে কথা বলা যদি পছন্দনীয় হতো, তাহলে গাধার আওয়াজ সব থেকে উত্তম গণ্য হতো। কিন্তু তা হয় না, বরং গাধার আওয়াজ সর্বনিকৃষ্ট ও সবার কাছে অপছন্দনীয়। এজন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘গাধার চিৎকার শুনলে শয়তান থেকে (আল্লাহর কাছে) আশ্রয় প্রার্থনা করো।’ সহিহ বোখারি