শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মীর কান্দাপাড়া এলাকা থেকে সেলিনা আক্তার (২২) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের বাবার দাবি, তার মেয়েকে যৌতুকের জন্য খুন করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলেই জানা যাবে, এটি হত্যা না আত্মহত্যা।
সোমবার সকালে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে লাশটি ময়নাতদন্ত শেষ হয়। এর আগে গতকাল রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের মে মাসে নড়িয়া উপজেলার মীর কান্দিপাড়া গ্রামের মৃত আনোয়ার খানের ছেলে হানিফ খানের (২৫) সঙ্গে ডামুড্যা উপজেলার সিড্যা গ্রামের আ. গনি ব্যাপারীর মেয়ে সেলিনা আক্তারের সম্পর্ক করে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্নভাবে সেলিনাকে নির্যাতন করা হতো। তাদের ৭ মাসের সাফরিন নামের এক মেয়ে রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল রবিবার বিকেলে ঘরের আরার সঙ্গে গামছা দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল সেলিনার লাশ। পরে তার স্বামী হানিফ খান গামছা খুলে লাশ খাটে নামান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘর থেকে লাশ উদ্ধার করে। এ সময় গৃহবধূর স্বামী, শাশুড়ি, ননদ ও পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।
সেলিনার বাবা আ. গনি ব্যাপারী বলেন, এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন মেয়ের জামাই হানিফ খান। গতকাল রবিবার সকাল ৮টার দিকে মেয়ে সেলিনা মোবাইল ফোনে ওর মা নাজমা বেগমকে জানান, যৌতুকের জন্য শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে মারধর করছে। টাকা না দিলে রাতে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। একটা ব্যবস্থা করে তাকে বাঁচানোর জন্য আকুতিও জানান সেলিনা।
পরে বিকেলে স্থানীয় ইউপি সদস্য নুর জামাল মাদবর আমার স্ত্রীকে জানান, তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে।
তিনি আরও বলেন, যৌতুকের টাকার জন্য তারা আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে। আমি মেয়ের হত্যার বিচার চাই।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অবনি সংকর কর বলেন, ঘরের মধ্যে গামছা দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশটি ছিল। পরে ওই নারীর স্বামী গামছা খুলে লাশটি খাটে রাখেন। পরে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে। লাশটির ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে মামলা গ্রহণ করা হবে।