আপনার জিজ্ঞাসা

কসম বিষয়ক প্রশ্নোত্তর

মো. আবদুল্লাহ, রামু, কক্সবাজার

প্রশ্ন : পান খাওয়া আমার নেশা হয়ে গেছে। আব্বু-আম্মু দুজনই এটা খুব অপছন্দ করেন। একদিন আব্বু আমাকে বললেন, ‘তোর মায়ের মাথা ছুঁয়ে কসম কর যে, তুই আর পান খাবি না।’ তখন বাধ্য হয়ে আমি আম্মার মাথা ছুঁয়ে বলি, ‘কসম করছি, আর পান খাব না।’ কিন্তু কয়েক দিন পর আমি আবার পান খেয়ে ফেলি। এখন আমার করণীয় কী?

উত্তর : প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ‘কসম করছি, আর পান খাব না।’ এ কথা বলার দ্বারা কসম সংঘটিত হয়ে গেছে। পরবর্তী সময়ে আপনি পান খাওয়ার দ্বারা সেই কসম ভেঙে গেছে। এখন আপনাকে এর কাফফারা আদায় করতে হবে। কসমের কাফফারা হলো দশজন মিসকিনকে দুই বেলা তৃপ্তি সহকারে খাওয়ানো অথবা তাদের এক জোড়া করে কাপড় দেওয়া। আর এতে সক্ষম না হলে লাগাতার তিন দিন রোজা রাখা।

উল্লেখ্য, কসম একমাত্র আল্লাহর নামে করতে হয়। আল্লাহ ছাড়া কারও নামে অথবা কারও মাথা ছুঁয়ে কসম করা গোনাহ। বাদায়েউস সানায়ে : ৩/৩৬

মুহাম্মদ আবদুল বারী, কেন্দুয়া, নেত্রকোনা

প্রশ্ন : যদি কোনো ব্যক্তি কোরআন মজিদের ওপর হাত রেখে কোনো কাজ করার কসম করে তাহলে কি কসম হয়ে যাবে? ওই কাজ না করতে পারলে কী কাফফারা দিতে হবে?

উত্তর : কোরআন মজিদের ওপর হাত রেখে কসম করলে কসম হয়ে যায়। যে বিষয়ের কসম করা হয়েছে তা শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ হলে কৃত কসম পূরণ করা জরুরি। কসম ভঙ্গ করলে কাফফারা দিতে হবে। হেদায়া : ২/৪৭৯

নুর মুহাম্মাদ, মতিঝিল, ঢাকা

প্রশ্ন : দুবছর আগে চাচাত ভাইদের সঙ্গে ঝগড়া হওয়ায় কোরআন শরিফ হাতে নিয়ে বলেছিলাম, কোরআনের কসম, আমি চাচাত ভাইদের বাড়িতে আর যাব না। এখন তাদের সঙ্গে ঝগড়া মিটে গেছে। জানার বিষয় হলো, কোরআন মজিদের নামে কসম করলে তা কার্যকর হয় কি না এবং তাদের বাড়িতে গেলে আমার কসম ভাঙবে কী না?

উত্তর : জি, কোরআন মজিদের কসম করলে কসম সংঘটিত হয়ে যায়। তাই আপনি চাচাত ভাইদের বাড়ি গেলে কসম ভেঙে যাবে এবং কাফফারা আদায় করা ফরজ হবে। উল্লেখ্য, কোরআন মজিদের কসম করা নিষিদ্ধ। বাদায়েউস সানায়ে : ৩/৬৩

মুহাম্মাদ আরাফাত, চাঁদপুর

প্রশ্ন : অনেকে কসম করে এভাবে, আমি আল্লাহর কালাম কোরআন মজিদের কসম করে বলছি, আমি অমুক কাজ করব না। অনেকে আবার কোরআন শরিফ মাথায় নিয়ে কিংবা হাতে ধরে, ওপরে হাত রেখে বলে, অমুক কাজ করব না। এভাবে কোরআন শরিফের কসম করা শরিয়তের দৃষ্টিতে কেমন?

উত্তর : কোরআন শরিফের কসম করা জায়েজ নয়। হজরত সাহাম ইবনে মিনজাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি কোরআন শরিফের কোনো একটি সুরার কসম করবে সে ওই সুরার প্রত্যেকটি আয়াতের বদলায় একটি করে গোনাহ নিয়ে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে। মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ১২৩৬০

নাজায়েজ হলেও কেউ যদি বলে, আমি কোরআন শরিফের কসম করে বলছি, তাহলে এর দ্বারা কসম সংঘটিত হয়ে যাবে। এ শপথ ভঙ্গ করলে কাফফারা ওয়াজিব হবে। আর যদি কসম শব্দ না বলে শুধু বলে যে, কোরআন শরিফ ছুঁয়ে কিংবা মাথায় নিয়ে বলছি, তবে এর দ্বারা কসম সংঘটিত হবে না। ফাতহুল কাদির : ৪/৩৫৬

মুহাম্মদ আবদুল্লাহ, বসুন্ধরা, বারিধারা, ঢাকা

প্রশ্ন : রফিক তার দুই ছেলের মাথায় হাত রেখে কসম করছে, জুয়া না খেলার। পরবর্তীতে সে জুয়া খেলেছে। কসম ভাঙার কারণে কী তার ওপর কাফফারা ওয়াজিব হয়েছে?

উত্তর : হ্যাঁ, উক্ত কসম ভাঙার কারণে তার ওপর কাফফারা ওয়াজিব হয়েছে। উল্লেখ্য, কসম কেবলমাত্র আল্লাহর নামে করা জায়েজ। আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর নামে  কসম করা জায়েজ নয়। তদ্রƒপ সন্তান বা কোনো মানুষের নামে বা মাথা ছুঁয়ে কসম করা গোনাহ। অবশ্য এ ধরনের কসম করা অন্যায় হলেও তা অনেক ক্ষেত্রে সংগঠিত হয়ে যায় এবং ভেঙে ফেললে কাফফারা দিতে হয়। আল মুহিতুল বুরহানি : ৬/৬৫