প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করতে রাজবাড়ীর বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বছর দুয়েক আগে বায়োমেট্রিক ডিভাইস বা ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কেনা হলেও সেগুলো এখনো চালু করা হয়নি। কিন্তু এরই মধ্যে শেষ হয়েছে মেশিনগুলোর ওয়ারেন্টির মেয়াদ। অনেক বিদ্যালয়ের মেশিন এরই মধ্যে নষ্ট হয়েছে।
স্লিপ (স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান) ফান্ডের অর্থ দিয়ে জেলায় বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই মেশিন কেনা শুরু হয় ২০১৯ সালের মাঝামঝি সময় থেকে। এর উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষকদের ঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা। এই মেশিনের সঙ্গে যুক্ত থাকবে উপজেলা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। কোনো বিদ্যালয়ের শিক্ষক কখন বিদ্যালয়ে হাজির হলেন সেটি তারা অফিসে বসেই জানতে পারবে।
জেলায় পাঁচ উপজেলায় মোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৪৮১টি। বিভিন্ন উপজেলার বেশ কয়েক শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে বালিয়াকান্দি, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ী সদর ও পাংশা উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এই মেশিন কেনা হয়েছে। তবে পাংশা উপজেলার শতভাগ বিদ্যালয়ে এখনো এই মেশিন কেনা হয়নি। কালুখালী উপজেলার ৭৬টি বিদ্যালয়ের কোনোটিতেই তা কেনা হয়নি। জেলার ৪৮১টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৭৬টি বিদ্যালয়ে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কেনা সম্পন্ন হয় ২০১৯ সালের শেষের দিকে। প্রতিটি মেশিন ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে কেনা হয়। সেই হিসাবে জেলায় প্রায় কোটি টাকার মেশিন কেনা হয়েছে। সে সময় বাজারদরের বেশি দামে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব মেশিন কেনা হয়েছে বলে অভিযোগও ওঠে।
এসব মেশিনের সার্ভিসিং এবং ওয়ারেন্টির মেয়াদ ছিল এক বছর। তবে চালুর আগেই এরই মধ্যে দুই বছর পার হয়েছে। গত ২০১৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এক চিঠিতে চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচির আওতায় স্লিপ (স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান) ফান্ডের অর্থ দিয়ে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিদ্যালয়ে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন না কেনার করা জন্য অনুরোধ করা হয়।
পাংশা উপজেলার সরিষা প্রেমটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফুল হুদা সাগর বলেন, দুই বছর আগে শিক্ষা অফিস থেকে জানানো হলো দ্রুত সময়ের মধ্যে হাজিরা মেশিন কিনতে হবে। তখন আমরা কিনতে বাধ্য হলাম। আমার বিদ্যালয়ের মেশিনটি এরই মধ্যে নষ্টও হয়ে গেছে। এখন উপর থেকে যে নির্দেশনা আসে আমরা সেগুলো পালন করতে বাধ্য হই। আর কবে চালু হবে অথবা চালু হলে নতুন মেশিন কিনব কীভাবে এসব কিছুই জানি না।
বালিয়াকান্দি উপজেলার স্বাবলম্বী ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, দুই বছর আগে যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কেনা হয় সেটি শতভাগ ব্যর্থ। আমাদের মেশিনটি এখনো ভালো আছে। তবে সার্ভিসিং ও ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসনে ইয়াসমীন করিমী বলেন, জেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই হাজিরা মেশিন কেনা সম্ভব হয়নি। এর কারণ হলো পরবর্তীকালে নির্দেশনা আসে সিøপ ফান্ডের টাকা দিয়ে মেশিন কেনা যাবে না। কিন্তু কোন টাকা দিয়ে কেনা হবে সেটিও জানানো হয়নি। আবার এরই মধ্যে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বিদ্যালয় দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। সবমিলিয়ে মেশিনগুলো এখন ওভাবেই পড়ে আছে।