বাগেরহাটের মোল্লাহাটে এক গৃহবধূকে গলায় জুতোর মালা পরিয়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। ওই গৃহবধূর সঙ্গে অন্য পুরুষের অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে ইউপি সদস্য কাওসার চৌধুরী এই নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
কাওসার চৌধুরী মোল্লাহাট উপজেলার চুনখোলা ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য। এই ঘটনার পর নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে গেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের দুটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ওই গৃহবধূর গলায় জুতার মালা গলায় পরানো। পাশে উৎসুক জনতা। জুতার মালা গলায় পরিয়ে একজন ঘুরাচ্ছে। একজন লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছেন। লাঠি দিয়ে পেটানো ব্যক্তিকে স্থানীয়রা ইউপি সদস্য কাওসার চৌধুরী বলে চিহ্নিত করেছে।
গত মঙ্গলবার সকালে মোল্লাহাট উপজেলার চুনখোলা ইউনিয়নের সিংগাতি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ওই নারীকে নির্যাতন করার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তা স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে।
বুধবার স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এখনো ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিংগাতি গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, নির্যাতনের শিকার এই গৃহবধূর স্বামী সৌদি প্রবাসী। তিনি তার তিন মেয়েকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে বাস করেন। মঙ্গলবার সকালে ইউপি সদস্য কাওসার চৌধুরী তার লোকজন নিয়ে ওই গৃহবধূর বাড়িতে এসে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। সে সময় তিনি ওই গৃহবধূর সঙ্গে পরপুরুষের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তাদের পায়ের স্যান্ডেল রশি দিয়ে বেঁধে মালা তৈরি করে গলায় ঝুলিয়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে চলে যায়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য কাওসার চৌধুরী বলেন, এই শাস্তি কম হয়েছে। তাকে (নারীকে) আরো বড় শাস্তি দেয়া দরকার ছিল।
মোল্লাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদ হোসেন দুপুরে এই প্রতিবেদককে বলেন, প্রশাসনের কাছে খবরটি আসার পরপরই দুই কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। ওই গৃহবধূর স্বামী সৌদিপ্রবাসী। তার তিনটি মেয়ে নিয়ে তার স্বামীর বাড়িতে বসবাস করেন। তারা ওই গৃহবধূর বাড়ি তালাবদ্ধ দেখতে পেয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলেছে। নির্যাতিত গৃহবধূকে খুঁজে বের করতে পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
গৃহবধূর সঙ্গে যেটি হয়েছি তা ফৌজদারি অপরাধ। এই অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন এই কর্মকর্তা।
মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোমেন দাশ বলেন, বৃহস্পতিবার ওই গৃহবধূর সন্ধান পেয়েছি। তার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। তাকে থানায় আসতে বলেছি। আসলেই ঘটনা শুনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।