হেডের দ্রুততম সেঞ্চুরিতে স্বস্তিতে দিন পার অস্ট্রেলিয়ার

ডেভিড ওয়ার্নারের নার্ভাস নাইন্টিতে ফেরা, ট্রাভিস হেডের দ্রুততম সেঞ্চুরি এবং ওলি রবিনসনের হ্যাটট্রিকের সুযোগ সত্ত্বেও গ্যাবা টেস্টের দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় ‘নো-বল’ বিতর্ক।

অবশ্য প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনও শাসন করল অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৪৩ রান নিয়ে দিন পার করেছে স্বাগতিকেরা। অজিরা লিড নিয়েছে ১৮৬ রানের। এর আগে অ্যাশেজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে থামে ১৪৭ রানে।

দিনের শুরুতে ওপেনার মার্কাস হ্যারিসকে (৩) হারালে ধাক্কা সামাল দেন ওয়ার্নার ও মার্নাস লাবুশানে। দুজনে গড়েন ১৫৬ রানের জুটি। লাবুশানে ফেরেন ব্যক্তিগত ৭৪ রানে। ক্রিজে বেশিক্ষণ দাঁড়াতে পারেননি স্টিভেন স্মিথ (১২)।

এরপর রবিনসনের সামনে আসে হ্যাটট্রিকের সুযোগ। ইনিংসের ৫৬তম ইনিংসে এসে দ্বিতীয় বলে নড়বড়ে নব্বইয়ে থাকা ওয়ার্নারকে (৯৪) ফেরানোর পরের বলে ক্যামরুন গ্রিনকে (০) বোল্ড করেন ইংলিশ পেসার।

তবে ইংলিশ বোলারদের পাল্টা জবাব দেন হেড। উইকেটরক্ষক অ্যালেক্স ক্যারি (১২) ও অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের (১২) সঙ্গে ছোট ছোট জুটি গড়ে দিনের শেষদিকে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় ও অ্যাশেজের প্রথম সেঞ্চুরি উদ্‌যাপন করেন তিনি। ৮৬ বলে তিন অঙ্কের ঘরে পা রাখেন হেড।

তার ৯৫ বলে ১১২ রানের ইনিংসটি সাজানো ১২ চার ও ২ ছয়ে। আগামীকাল ব্রিসবেনে মিচেল স্টার্ককে (১০) নিয়ে তৃতীয়দিন শুরু করবেন হেড।

তবে গ্যাবা টেস্টের দ্বিতীয়দিন আলোচনায় ‘নো-বল’কে কেন্দ্র করে। ইনিংসের ১৩তম ওভারে বেন স্টোকসের বলে ওয়ার্নারের আউট হওয়ার বলটিতে ‘নো বল’ ডাকেন আম্পায়ার। এই ঘটনায়, অন-ফিল্ড আম্পায়ার সাহায্য চান তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে। টিভি আম্পায়ার রায় দেন, স্টোকস ‘ওভারস্টেপ’ করেছেন।

পরে এই টেস্ট সম্প্রচার করা চ্যানেল সেভেন জানায়, দ্বিতীয় দিনে নিজের প্রথম ৫ ওভারে স্টোকস ১৪টি নো-বল করেন! তার মধ্যে কেবল দুটি বলকে নো-বল ডাকেন আম্পায়ার।

পরে নিশ্চিত হয়, গ্যাবা টেস্ট চলছে অচল নো-বল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি নিয়ে। যার কারণে মনিটরে ধরা পড়েনি বোলারের সামনের পায়ের ল্যান্ডমার্ক বা বোলিং ক্রিজের দাগ পেরোনোর বিষয়টি। এর ফলে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে গ্যাবা টেস্ট নিয়ে। সাবেক ক্রিকেটাররাও এর সমালোচনাও করেছেন।

এই ঘটনায় প্রমাণ করে, গ্যাবা টেস্ট খেলা হচ্ছে পুরোনো কন্ডিশনে। অর্থাৎ এই টেস্টে যে প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে তাতে শুধু উইকেট নেওয়ার ডেলিভারিতে দেখা হচ্ছে বোলারের পা বোলিং ক্রিজের দাগ পেরিয়েছে কিনা তা।’

এমন ভুলের কারণ অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, ম্যাচ শুরুর আগেই নাকি গ্যাবা টেস্টের জন্য বরাদ্দকৃত নো-বল শনাক্তকরণ প্রযুক্তিটিতে সমস্যা দেখা গিয়েছিল।

‘নো বল’ প্রযুক্তি অচল, বিতর্কে অ্যাশেজের প্রথম টেস্ট