নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় আহত মো. শাকিল অ্যাম্বুলেন্সে বসে এইচএসসি পরীক্ষা দিলেন। হামলাকারীরা তা দুই পা ভেঙে দেয়।
আজ বৃহস্পতিবার দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টঞ্জ ড. মোশারফ ফাউন্ডেশন কলেজ থেকে ইলিয়টগঞ্জ রাবি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন।
জানা যায়, গত ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে দাউদকান্দি উপজেলার জিংলাতলী ইউনিয়নের জিংলাতলী গ্রামের শাহজালাল মিয়ার ছেলে শাকিল নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ওমর ফারুক মিয়াজীর পক্ষে কাজ করেন।
নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকের আলমগীর হোসেন মোল্লা বিজয়ী হন।
নির্বাচনের পর পয়লা ডিসেম্বর চিকিৎসার জন্য শাকিল বাড়ি থেকে বের হন। পথিমধ্যে চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের লোকজন শাকিলের উপর হামলা চালায়।
হামলায় শাকিলের দুই পা ভেঙে যায় এবং পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। প্রথমে তাকে গৌরীপুর হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা খারাপ দেখে এবং আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা অংশগ্রহণ করার লক্ষ্যে তাকে ২ ডিসেম্বর কুমিল্লা ট্রমা সেন্টারে অপারেশন করা হয়। তার পায়ের অপারেশনের মাধ্যমে তার চিকিৎসা চলছে।
পরীক্ষার্থী শাকিল কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমি নৌকা সমর্থন করেছি বলে আমাকে এভাবে আলমগীর চেয়ারম্যানের লোকজন লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত আহত করে। পরে পুলিশ এসে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় হাসপাতালে নিয়ে যায়। ভাবছিলাম হয়তো আর বাঁচবো না। আল্লাহ পাক আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন তাই আমি পরীক্ষা অংশগ্রহণ করছি।
শাকিলের মা তাজমেহের বেগম বলেন, আমার নিরপরাধ ছেলেটাকে যারা এভাবে দিনদুপুরে প্রকাশ্যে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে পা ভেঙে দিয়েছে। আমরা অসহায়, তাই কি বিচার পাবো কি না জানি না, আল্লাহ যেন তাদের বিচার করে।
এ ব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, নির্বাচন আসবে জনগণ উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনে কারও না কারও পক্ষে কাজ করবে। এ জন্য একজন শিক্ষার্থীকে এভাবে নির্মমভাবে প্রহার করে তার পা ভেঙে দেবে। এটা কখনোই সমাজ এবং আইন মেনে নেবে না।
তিনি বলেন, আমি চেষ্টা করেছি ওকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করানোর এবং শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার কারণে সে অ্যাম্বুলেন্সে বসে পরীক্ষা দিচ্ছে। আমি তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।