করোনা মহামারীর ধাক্কা কাটিয়ে দেশে স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ বিরাজ করছে। এর ফলে দেশে সার্বিক বিনিয়োগ প্রস্তাব বেড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ২০ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধিত হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৬ শতাংশ বেশি। এই বিনিয়োগ প্রস্তাবের প্রায় ৯১ শতাংশ এসেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে বিডা।
বিডা জানিয়েছে, দেশি-বিদেশি এই বিনিয়োগ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশে নতুন করে ২৮ হাজার ৮৫০ মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
প্রতিষ্ঠানটিতে নিবন্ধিত শিল্পের ত্রৈমাসিক পরিসংখ্যান অনুসারে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে ১৮৯টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিডার কাছে বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে, যাদের প্রস্তাবিত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা। গত বছরের এই সময়ে ২১৬টি শিল্প ইউনিটের মোট বিনিয়োগ প্রস্তাব ছিল ১৩ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকার।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, চলতি জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। উল্লিখিত সময়ে স্থানীয় ১৭৭টি প্রতিষ্ঠান ১৮ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রস্তাব দিয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা বেশি। সে অনুযায়ী এ বছর স্থানীয় পর্যায়ে বিনিয়োগ প্রস্তাব বৃদ্ধি পেয়েছে ৪৬ শতাংশ। ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে স্থানীয় ১৯৬টি শিল্প ইউনিটের ১২ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা বিনিয়োগের জন্য নিবন্ধিত হয়েছিল।
স্থানীয় পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে রাসায়নিক শিল্প খাতে। এ ছাড়া সেবা, প্রকৌশল ও বস্ত্র খাতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়া গেছে।
বিনিয়োগ নিবন্ধন প্রায় একই হারে প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে বিদেশিদের ক্ষেত্রেও। চলতি জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে বিদেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব ৪৬ শতাংশ বেড়েছে। বিডার তথ্যানুসারে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে সাতটি শতভাগ বিদেশি ও পাঁচটি যৌথ মালিকানার প্রতিষ্ঠান মোট ১ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রস্তাব দিয়েছে। গত অর্থবছরে শতভাগ বিদেশি ও যৌথ মালিকানা মিলিয়ে ২০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ১ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার প্রস্তাব দিয়েছিল।
চলতি বছর বিদেশিরা সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করতে চেয়েছেন কৃষি খাতে। এ ছাড়া বস্ত্র, সেবা ও প্রকৌশল খাতে বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব এসেছে।