কিডনি রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে দিন দিন বাড়ছেই অথচ মানুষের দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হচ্ছে কিডনি। কিছু কিছু কিডনি রোগ আছে, যথাসময়ে চিকিৎসা না করালে সেটি তার স্বাভাবিক কাজ করতে পারে না। একটা সময় মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
কারণসমূহ
কিডনি রোগের অন্যতম কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস। ওষুধ বা অন্য চিকিৎসার পাশাপাশি কিডনি ফেইলিওরে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সাধারণত পাঁচটি ধাপে কিডনি বিকলতার দিকে অগ্রসর হয়। প্রথম চারটি ধাপ চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময় বা যে গতিতে কিডনি ক্ষয় হচ্ছে, তা কমিয়ে আনা সম্ভব। কিন্তু পাঁচ নম্বর ধাপ বা শেষ ধাপে চলে গেলে তখন রোগীর জন্য আর কিছুই করার থাকে না।
সাবধানতা
বেঁচে থাকার উপায় হলো ডায়ালাইসিস অথবা কিডনি সংযোজন। এসব পদ্ধতি এতই ব্যয়বহুল, দেশের ১০ শতাংশ লোকেরও এ ধরনের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন। তাই এ ঘাতক ব্যাধি থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় হলো কিডনি বিকলতা প্রতিরোধ করা।
কিডনি ভালো রাখার উপায়
০০০ যারা ডায়বেটিকসে আক্রান্ত তাদের উচিত নিয়মিত রক্তের শর্করা এবং প্রস্রাবের অ্যালবুমিন পরীক্ষা করা। এছাড়া রক্তের হিমোগ্লোবিন এওয়ানসি (HbA1C) নিয়ন্ত্রণে রাখা।
উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা। (১৩০/৮০-এর নিচে যাদের প্রস্রাবে অ্যালবুমিন থাকে, তাদের ১২০/৭০-এর নিচে রাখা)। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীর কিডনির কার্যকারিতা প্রতি ৬ মাস পর পর পরীক্ষা করা।
শিশুর গলাব্যথা, জ্বর ও ত্বকে খোস-পাচড়ার দ্রুত সঠিক চিকিৎসা করা উচিত। কারণ এসব থেকে কিডনি প্রদাহ বা নেফ্রাইটিস রোগ দেখা দিতে পারে।
ডায়রিয়া, বমি ও রক্ত আমাশয়ের কারণে রক্ত পড়ে ও লবণশূন্য হয়ে কিডনি বিকল হতে পারে। তাই দ্রুত খাবার স্যালাইন খেতে হবে। প্রয়োজনে শিরায় স্যালাইন দিতে হবে।
চর্বি জাতীয় খাবার ও লবণ কম খাওয়া এবং পরিমিত পানি পান করা।
সতর্কতা
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োাটিক ও তীব্র ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা যাবে না। প্রস্রাবের ঘন ঘন ইনফেকশনের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে।
পরীক্ষা ও চিকিৎসা
মাত্র দুটি পরীক্ষায় জানা যায় কিডনি রোগ আছে কি না। একটি সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় কিডনি সমস্যা আছে কি না। এবং কিডনি শত ভাগের কত ভাগ কাজ করছে। একটি হলো প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা মাইক্রো অ্যালবুমিন যায় কি না এবং অন্যটি রক্তের ক্রিয়েটিনিন। একটু সচেতন হলেই এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ জন্য জীবনযাত্রা প্রণালি বদলে ফেলতে হবে। মেনে চলতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। তবেই কিডনি বিকল হওয়া থেকে আমরা নিজেকে দূরে রাখতে সক্ষম হব। তাই দেরি না করে যথাযথ চিকিৎসকের পরামর্শে থাকা ভালো।