সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসর্বস্ব ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দিয়ে দ্রুত সম্মেলন দাবি করছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতাদের অধিকাংশ। আগামী বছরের জানুয়ারি মাসের মধ্যে সম্মেলনের দাবিতে এরই মধ্যে আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা। তারা বলছেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী গত বছর জুলাই মাসে বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। বর্তমানে সংগঠন চলছে কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের ইচ্ছেমাফিক। ফলে গতিশীলতা হারিয়েছে সংগঠন। সংগঠন পরিচালনার ক্ষেত্রে তারা কেন্দ্রীয় অন্য কোনো নেতার পরামর্শ নেন না। ফোনেও ঠিকমতো পাওয়া যায় না তাদের। এমনকি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত মধুর ক্যান্টিনেও খুব একটা দেখা যায় না সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে। শুধু সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রেখেছেন। তাও আবার সেসব বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে না পাঠিয়ে শুধু সংগঠনের ফেইসবুক পেজে তুলে দিয়ে দায় সারেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে শুধু কেন্দ্রীয় কমিটিই নয়, ছাত্রলীগের ১১১টি সাংগঠনিক ইউনিটের (জেলা, মহানগর, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ) মধ্যে ১০৪টি কমিটিই বর্তমানে মেয়াদোত্তীর্ণ। বাকি সাতটির মধ্যে কোনো সম্মেলন ছাড়াই প্রেস রিলিজের মাধ্যমে নড়াইল, চাঁদপুর, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও সিলেট জেলা কমিটি ঘোষণা করেন জয়-লেখক। আবার অনেক সাংগঠনিক কমিটি গঠনে পদ বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে তাদের (জয়-লেখক) বিরুদ্ধে। কমিটি না থাকায় নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। সব মিলিয়ে সংগঠনটির কেন্দ্র থেকে তৃণমূল সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের এখন ‘বুক ফাটছে, কিন্তু মুখ ফুটছে না’ এমন এক অবস্থা দাঁড়িয়েছে। কারণ প্রকাশ্যে মুখ খুললে বর্তমান পদ বা সংগঠন থেকে বহিষ্কার অথবা আগামীতে কমিটি হলে সেখানে ‘পদবঞ্চিত’ হওয়ার ভয় রয়েছে।

২০১৮ সালের ১১ মে ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের প্রায় দুই মাস পর ৩১ জুলাই রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন সভাপতি ও গোলাম রাব্বানী সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। দায়িত্ব পাওয়ার এক বছর পর ২০১৯ সালের ১৩ মে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করেন শোভন-রাব্বানী। সংগঠনবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর শোভন-রাব্বানীকে পদচ্যুত করা হয়। তখন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান আল নাহিয়ান খান জয় ও লেখক ভট্টাচার্য। এরপর ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জয়-লেখককে ছাত্রলীগের পূর্ণ দায়িত্ব দেন। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ১১ (খ) ও (গ) ধারায় বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের কার্যকাল দুই বছর। এর মধ্যে সম্মেলন না হলে সংসদের কার্যকারিতা থাকবে না। বিশেষ বা জরুরি পরিস্থিতিতে বর্ধিত সভায় অনুমোদনের মাধ্যমে কমিটি তিন মাসের জন্য সময় বাড়াতে পারে। সেই হিসাবে ২০২০ সালের ৩১ জুলাই বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে।

কেন্দ্রীয় অনেক নেতা বলছেন, জয়-লেখক পূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার পর শোভন-রাব্বানীর থেকেও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। সংগঠন পরিচালনার ক্ষেত্রে তারা কোনো কেন্দ্রীয় নেতার পরামর্শ নেন না। তাদের ফোনে ঠিকমতো পাওয়া যায় না। মধুর ক্যান্টিনে তেমনটা দেখা যায় না। শুধু সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রেখেছেন। এসব বিজ্ঞপ্তিতে ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক’ উল্লেখ করা হলেও সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা কিছুই অবগত থাকেন না। তাদের দুজনের সিদ্ধান্তকে দলীয় সিদ্ধান্ত বলে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রীয় অনেক নেতা।

এমন পরিস্থিতিতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বড় একটি অংশ সম্মেলনের দাবিতে একজোট হয়ে থাকছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে। এদের মধ্যে রয়েছেন সংগঠনটির সহসভাপতি শওকতুজ্জামান সৈকত, সোহান খান, ইয়াজ আল রিয়াদ, মাজহারুল ইসলাম শামীম, সৈয়দ মো. আরিফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আল ইমরান, সাংগঠনিক সম্পাদক সাবরিনা ইতি, উপ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক মেশকাত হোসেন প্রমুখ।

সম্মেলন চাওয়ায় সিলেটের এক ছাত্রলীগ নেতাকে পেটানোরও অভিযোগ রয়েছে জয়-লেখকের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। গত ২৯ অক্টোবর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত হন সিলেটের কানাইঘাট সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল্লাহ আল হাদী। হামলায় তার মাথা ফেটে যায়।

জানা গেছে, আহত আবদুল্লাহ আল হাদী সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ছিলেন। ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী সংগঠনের ৩০তম কেন্দ্রীয় সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছিল। এমন পরিস্থিতিতে সিলেটে থেকে ঢাকায় এসে সম্মেলন দাবি করা নেতাকর্মীদের সঙ্গে যুক্ত হন হাদী। এজন্য তিনি কিছুদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিলেন।

জানা গেছে, ছাত্রলীগের ১১১টি সাংগঠনিক ইউনিটের মধ্যে ১০৪টি কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ। বাকি সাতটির মধ্যে জয়-লেখক কোনো সম্মেলন ছাড়াই প্রেস রিলিজের মাধ্যমে নড়াইল, চাঁদপুর, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও সিলেট জেলা কমিটি ঘোষণা করেন। সিলেটের কমিটি নিয়ে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তারা গত অক্টোবরে সিলেটে ছাত্রলীগের শীর্ষ চার পদ ৩০ লাখ টাকা করে বিক্রি করেছিলেন বলে তখন অভিযোগ উঠেছিল। প্রায় চার বছর কমিটিবিহীন থাকার পর সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। উভয় শাখায় শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সেই কমিটি প্রত্যাখ্যান করে সেদিন বিক্ষোভ হয়েছিল সিলেটে।

তাছাড়া রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণার আগে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে কমিটির কোনো সদস্যের নাম ঘোষণা না করে ঢাকায় চলে আসেন জয়-লেখক। সেখানকার স্থানীয় নেতাদের মতামত না নিয়ে ঢাকায় বসে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের কমিটিতে স্থান দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে।

কয়েক মাস আগেই নাটোর জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি করার কথা থাকলেও তা এখনো করা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেখানকার এক সভাপতি প্রার্থী গতকাল বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ প্রার্থীদের জীবন বৃত্তান্ত সংগ্রহ করে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও সাংসদগণের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে কমিটি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো খোঁজখবর নেই সে বিষয়ে। এভাবে যদি মাসের পর মাস বছরের পর বছর কমিটি না হয় তাহলে অনেকের বয়স চলে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন কেন্দ্রীয় কমিটি এটি বাস্তবায়ন করে খুব দ্রুত জেলা কমিটি ঘোষণা করা দরকার। তাহলে আমরা বর্তমানে জেলার ইউপি ও পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের সক্রিয় সহযোগিতা করতে পারব।’

মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির কারণে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করার পাশাপাশি সংঘাতময় পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হচ্ছে। ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ ছাত্রলীগ ইউনিটকে জেলার অধীনে ঘোষণা করাকে কেন্দ্র করে গত শনিবার আনন্দ মোহন কলেজ ও জেলা ছাত্রলীগের অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য আনন্দ মোহন কলেজের হল বন্ধ ঘোষণা করে কলেজ কর্র্তৃপক্ষ।

ছাত্রলীগের একজন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। তাদের (জয়-লেখক) আর এই পদে থাকার কোনো বৈধতা নেই। আমরা জানুয়ারি মাসের মধ্যে সম্মেলন চাই। যদি এর মধ্যে সম্মেলনের ব্যবস্থা না করা হয় তাহলে নেতাকর্মীদের নিয়ে সম্মেলনের দাবিতে আন্দোলনে যাব।’

২৯তম সম্মেলনের জন্য আন্দোলন করেছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় উপ-প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক মেশকাত হোসেন। ৩০তম সম্মেলনের জন্যও আন্দোলন করবেন জানিয়ে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ দুই বছর। এরপর এক দিনও কমিটি চালিয়ে যাওয়ার অধিকার কারও নেই। আগেও যথাসময়ে সম্মেলনের জন্য আন্দোলন করেছি, ভবিষ্যতেও করব। বর্তমান কমিটি এক বছর বেশি সময় কাটিয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে সম্মেলন দিতে তাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

একই দাবি জানিয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সৈয়দ আরিফ হোসেন বলেন, ‘সম্মেলনের দাবি তো আজকের নয়। আমি মনে করি নিয়মতান্ত্রিকভাবে সম্মেলন দেওয়া উচিত। সবকিছুর ওপর আমাদের নেত্রী (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) রয়েছেন, আমরা তার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।’

সম্মেলেন হওয়ার পরও কমিটি না থাকায় অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে ছাত্রলীগের অন্যতম তিনটি সাংগঠনিক ইউনিট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ শাখার কার্যক্রম। এছাড়া ইডেন মহিলা কলেজ ও ঢাকা কলেজসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় কমিটি না থাকায় অনেকটা স্থবির হয়েছে সেখানকার ছাত্র রাজনীতি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কবি নজরুল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের এক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখন এমন অবস্থা হয়ে গেছে যে, কোনো কিছু বলতেও পারছি না। বললে আবার যদি কমিটি হয় তাহলে সেখানে পদও পাব না। কারণ ভাইয়ের (শীর্ষ নেতারা) লোক না হলে কমিটিতে স্থান পাওয়া যায় না। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপা আমাদের অভিভাবক। তিনি আমাদের বিষয়টি দেখলে কমিটি দ্রুত হয়ে যাবে।’

কেন্দ্রীয় নেতাদের সম্মেলন দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের কাছে সম্মেলন দাবি করে লাভ নেই। যারা সম্মেলন দাবি করছেন, তারা যদি কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা হয়ে থাকেন, তাহলে তাদের ছাত্রলীগের সম্মেলন নিয়ে ধারণা আছে। ধারণা থাকার পরও যদি তারা এগুলো বলেন, তাহলে তারা না জেনে এগুলো বলছেন।’

এ বিষয়ে কথা বলতে গতকাল সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

ছাত্রলীগ নেতাদের মতো আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও ছাত্রলীগের সম্মেলনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের দিকে চেয়ে আছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য আবদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা করা হয়নি। ছাত্রলীগের অভিভাবক আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশনা এলেই কমিটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।’