বিপিন রাওয়াতের অ্যাম্বুলেন্সও দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল!

তামিলনাড়ুর নীলগিরি পাহাড়ে হেলিকপ্টার ভেঙে নিহত ভারতের সেনা সর্বাধিনায়ক বিপিন রাওয়াত এবং তাঁর সঙ্গীদের দেহ নিয়ে যাওয়ার সময় অ্যাম্বুলেন্সও দুর্ঘটনার মুখে পড়েছিল। যদিও তার ফলে বড় ধরনের কোনও বিপত্তি হয়নি বলেই জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কুন্নুরের ওয়েলিংটনের ‘ডিফেন্স সার্ভিসেস স্টাফ কলেজ’-এ মাদ্রাজ রেজিমেন্টাল সেন্টার হাসপাতাল থেকে জেনারেল রাওয়ত, তাঁর স্ত্রী মধুলিকা-সহ ১৩ জনের দেহ সুলুরের বিমান ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেখানে থেকে বিমান বাহিনীর বিশেষ বিমানে দিল্লিতে দেহগুলো পাঠানোর ব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।

পথিমধ্যে কোয়েম্বাটুরের অদূরে মেট্টুপলায়মের কাছে কনভয়ের একটি অ্যাম্বুলেন্স ‘ছোট দুর্ঘটনার’ কবলে পড়ে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ের দেওয়ালে ধাক্কা মারেন চালক। জখম হন রাস্তার নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকা পুলিশকর্মী-সহ কয়েক জন।

দ্রুত দুর্ঘটনাগ্রস্ত অ্যাম্বুলেন্স থেকে দেহগুলো অন্য একটি গাড়িতে তোলা হয়। শুক্রবার প্রচারিত একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, যাত্রাপথের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয়েরা ফুল নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁরা রাওয়ত-সহ মৃত সেনানীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন।

জেনারেল বিপিন রাওয়াত ছিলেন ভারতের প্রথম চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ। সেনা, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সম্মিলিত প্রধান। সাবেক সেনা প্রধান রাওয়াতকে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে এই নতুন দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। তিনি ১৯৭৮ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। জম্মু ও কাশ্মীর এবং চীনের সঙ্গে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখাতেও তিনি সেনার কম্যান্ডিং অফিসার ছিলেন।

বুধবার হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় তিনি ও তার স্ত্রী মারা যান। তাদের সঙ্গে মারা গেছেন আরো ১১ জন।

বৃহস্পতিবার রাতে বিপিন রাওয়াত ও তার স্ত্রীর মরদেহ দিল্লি নিয়ে আসা হয়।

শুক্রবার বিপিন রাওয়াতের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের শ্মশানে।