পটুয়াখালীর কলাপাড়া মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র বিতরণে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা হারে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রবেশপত্র বিতরণে কোনো টাকা আদায়ের সুযোগ না থাকলেও অধ্যক্ষের নির্দেশে কোনো রসিদ ছাড়াই এ টাকা আদায় করা হয়। এ বিষয়ে অভিভাবকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফেরত দিতে অধ্যক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা, বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক।
জানা যায়, গত ২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া ২০২১ সালের কলা, বাণিজ্য ও বিজ্ঞান অনুষদের তিনটি বিষয়ের ১৫৯ জন এইচএসসি পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা হারে ১ লাখ ৯০ হাজার ৮০০ টাকা আদায় করা হয়। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন ফারুকের নির্দেশে এ টাকা আদায় করেন বলে জানান করনিক জসিম উদ্দীন।
অভিযোগ রয়েছে, আদায়কৃত টাকার সিংহভাগ কলেজ অধ্যক্ষ নিয়ে বাকিটা ভাগাভাগি করে দেন কয়েকজন প্রভাবশালী শিক্ষকের মধ্যে, যারা প্রতিবছর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটিসহ কলেজের সকল কমিটিতে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ উঠলে গত শুক্রবার বিকেলে জরুরি বৈঠকে বসেন কলেজ অধ্যক্ষ। এরপর বৈঠক করে কলেজ পরিচালনা পরিষদ। কিন্তু কোরাম সংকটে সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় ওই বৈঠক। আগামীকাল রবিবার এ নিয়ে পুনরায় বৈঠক রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েক শিক্ষক জানান, কলা অনুষদের পরীক্ষার্থী মোসা. জান্নাতুল শিফা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাবার বিষয়টি তুলে ধরে বিনা ফিতে প্রবেশপত্র দেওয়ার অনুরোধ জানান কলেজ অধ্যক্ষকে। কিন্তু অধ্যক্ষের সাফ কথা প্রবেশপত্র নিতে হলে ১২শ টাকা দিতে হবে। এ ঘটনায় কলেজ ক্যাম্পাসেই কান্না জুড়ে দেন ওই শিক্ষার্থী। ওই শিক্ষার্থীর কান্নার দৃশ্য দেখে কয়েক শিক্ষক তার প্রবেশপত্র বিনামূল্যে দিতে অধ্যক্ষকে অনুরোধ জানান। কিন্তু উল্টো ওই শিক্ষকদের ধমক দেন অধ্যক্ষ ফারুক।
কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মো. বাহাউদ্দিন বলেন, ‘প্রবেশপত্র বিতরণে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের বিষয়টি অভিভাবকদের অভিযোগের পর জেনেছি।’
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি অবগত হওয়ার পর কলেজ অধ্যক্ষকে শিক্ষার্থীদের টাকা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন ফারুক বলেন, ‘মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা, বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক মহোদয়ের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত নিতে বলা হয়েছে। নাম, মোবাইল নম্বরসহ স্বাক্ষর রেখে শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে।’
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. ইউনুস আলী বলেন, ‘পরীক্ষার প্রবেশপত্র বিতরণে কোনো টাকা নেওয়া যাবে না। তারপরও যদি কলেজ অধ্যক্ষ টাকা আদায় করেছেন বলে প্রমাণ হয়, তবে ওই কলেজের এমপিও বাতিলের সুপারিশ করা হবে।’