লোকদেখানো আমল নয়

মহান আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তার ইবাদতের উদ্দেশ্যে, তাকে খুশি করার নিমিত্তে। কোরআনে কারিমে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আমি মানবদানবকে সৃষ্টি করেছি কেবলমাত্র আমার ইবাদতের জন্য।’  সুরা আয যারিয়াত : ৫৬

এই ইবাদত-আরাধনা হতে হবে কেবলমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে। কেননা তিনি ছাড়া আর কেউ ইবাদতের উদ্দিষ্ট হওয়ার যোগ্যতা রাখে না। কালেমা তাইয়্যিবার মর্মার্থও তাই। এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা একনিষ্ঠ মনে আল্লাহকে ডাকো, যদিও কাফেররা সেটা অপছন্দ করে।’ সুরা গাফির : ১৪

কোরআনে কারিমে বলা হয়েছে, মুনাফিকরা হবে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরের অধিবাসী। ইসলামের রিয়া নিষিদ্ধ, রিয়া তথা লোকদেখানো আমলের অনেক ক্ষতি। এর উল্লেখযোগ্য কিছু হলো

১. রিয়া তথা লৌকিকতাকে কোরআনে কারিমে মুনাফিকদের গুণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয় মুনাফিকরা আল্লাহর সঙ্গে প্রতারণা করে, আর আল্লাহও তাদের সমুচিত জবাব দেন। যখন তারা নামাজে দাঁড়ায় তো অলসভাবে দাঁড়ায়। এতটুকু করে মানুষকে দেখানোর জন্য। আর তারা খুব কমই আল্লাহকে স্মরণ রাখে।’ সুরা আন নিসা : ১৪২

২. লৌকিকতার কারণে আমলের সওয়াব নষ্ট হয়ে যায়। কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ইমানদাররা! তোমরা দান গ্রহীতাকে খোঁটা মেরে কষ্ট দিয়ে লোকদেখানো দানশীলদের মতো নিজেদের দানের সওয়াব নষ্ট করে দিয়ো না।’ সুরা আল বাকারা : ২৬৪

৩. লোকদেখানো আমলকে হাদিসে শিরকতুল্য গণ্য করা হয়েছে। বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি মানুষকে দেখাতে নামাজ পড়ল অথবা রোজা রাখল কিংবা দান-সদকা করল সে মূলত শিরক করল। -তারগিব : ১/৫১

অন্য হাদিসে এসেছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমি তোমাদের ব্যাপারে ছোট শিরকে লিপ্ত হওয়ার সবচেয়ে বেশি ভয় করছি। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, ছোট শিরক কী? উত্তরে বললেন, সেটা হলো- রিয়া।

৪. লৌকিকতাপূর্ণ আমলকারী ধ্বংস হবে। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা নামাজে অমনোযোগী থাকে এবং লোক দেখাতে নামাজ পড়ে তাদের জন্য ধ্বংস অনিবার্য।’ সুরা মাঊন : ৪-৬

জাহান্নামে সর্বপ্রথম নিক্ষেপ করা হবে লোকদেখানো আমলকারীকে। রিয়ার কারণে মানুষের মধ্যে অহংকার তৈরি হয়। কারণ, মানুষকে দেখিয়ে আমল করার পেছনে অন্যতম উদ্দেশ্য থাকে, তাদের কাছে নিজেকে বড় করে তোলা। সবাই যেন তাকে পরহেজগার, মোত্তাকি মনে করে। এভাবে তার মধ্যে অহংকার আসে। আর অহংকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না বলে হাদিসে এসেছে। ইরশাদ হয়েছে, যার অন্তরে সরিষা দানা পরিমাণ অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। সুনানে আবু দাউদ : ৪০৯১

রিয়া থেকে বাঁচার উপায় : ইসলামি স্কলাররা রিয়া থেকে বাঁচার উপায় হিসেবে বলেছেন

ক. মৃত্যুর কথা বেশি স্মরণ করা। দুনিয়ার নশ্বরতাকে সবসময় মনে জাগ্রত রাখা। কেননা, যশ, খ্যাতির মোহই মূলত রিয়া তথা লৌকিকতায় উদ্বুদ্ধ করে। এই মোহ দূর করতে পারলে রিয়া দূর করা সম্ভব। দুনিয়ার যশ, খ্যাতির মোহ ছাড়তে পারলেই এটা দূর হবে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘দুনিয়ার মোহ সব পাপের উৎস।’ মুখতাসারারুল মাকাসিদ : ৩৫৯

খ. নিভৃত বাসে চলে যাওয়া। এতে করে আল্লাহর প্রতি একাগ্রতা বাড়বে। মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক কমে যাবে। তাদের কাছে নিজেকে বড় দেখানোর খায়েশ আর জাগবে না।