আগাম জামিন পেলেন মিথিলা ও ফারিয়া

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির এক গ্রাহকের করা প্রতারণার মামলায় অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা ও শবনম ফারিয়াকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছে উচ্চ আদালত। গতকাল সোমবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাদের জামিন মঞ্জুর করে।

গত রবিবার মিথিলা ও ফারিয়া হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আগাম জামিনের আবেদন করেন। গতকাল তাদের পৃথক আবেদনের ওপর শুনানি হয়।

আদালতে মিথিলার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইমতিয়াজ ফারুক ও নিয়াজ মোর্শেদ। ফারিয়ার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও জেসমিন সুলতানা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুজনকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, জামিনের মেয়াদ শেষে দুজনকে সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এছাড়া জামিনের এ সময়ের মধ্যে দুজনকে যেন কোনো হয়রানি না করা হয় সেটিও আদেশে বলা হয়েছে।’

গত ৪ ডিসেম্বর ইভ্যালির গ্রাহক সাদ স্যাম রহমান রাজধানীর ধানম-ি থানায় গায়ক ও অভিনেতা তাহসান খান, অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা ও শবনম ফারিয়াসহ নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকেও আসামি করা হয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্রতারণামূলকভাবে গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ ও সহায়তা করেছেন অভিযুক্তরা। তাহসান খান ইভ্যালিতে শুভেচ্ছাদূত হিসেবে যুক্ত ছিলেন। আর মিথিলা ‘ইভ্যালি’র ‘ফেস অব ইভ্যালি লাইফস্টাইল’-এ শুভেচ্ছাদূত হিসেবে ছিলেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন শবনম ফারিয়া।

তিন বছর আগে দেশে ইভ্যালির কার্যক্রম শুরু হয়। গাড়ি, মোটরসাইকেল, স্মার্ট টিভি, এয়ারকুলার, ফ্রিজ, গৃহস্থালির আসবাবপত্র, ওয়াশিং মেশিনসহ বিভিন্ন পণ্য অর্ধেক দামে বিক্রির লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে গ্রাহকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের এ বিজ্ঞাপনে অনেকেই আকৃষ্ট হয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা অগ্রিম দিয়ে পণ্যের অর্ডার করেন। অনেকে ব্যাংক ঋণ, ধারদেনা, জমি বিক্রি করে ইভ্যালিতে বিনিয়োগ করেছিলেন বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে আসে। কিন্তু মাসের পর মাস পার হলেও পণ্য বুঝে না পেয়ে অনেকেই বিপাকে পড়েন এবং গ্রাহক ঠকানো অভিযোগ উঠতে থাকে ইভ্যালির বিরুদ্ধে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশান থানায় ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেন প্রতারিত একজন গ্রাহক। ওইদিন মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে রাসেল ও শামীমা নাসরিনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।