সংবাদ সম্মেলনে মেজাজ হারিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছেন পাকিস্তানের পেসার হাসান আলি। দেশটির সাবেক অধিনায়ক সালমান বাট তো বেশ ক্ষুব্ধই তার ওপর। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না করেন, হাসানকে সে পরামর্শও দিয়েছেন বাট।
ঘটনা রবিবারের। পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) খেলোয়াড় ড্রাফটের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে পাকিস্তান ফাস্ট বোলার হাসান আলি এক সাংবাদিকের সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন। অবশেষে হাসানের ফ্র্যাঞ্চাইজি ইসলামাবাদের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
আসলে কী ঘটেছিল সেখানে? সংবাদ সম্মেলন চলাকালীনই এক সাংবাদিকের প্রশ্ন মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে হাসান আলি উপস্থিত বাকি সাংবাদিকদের প্রশ্ন করতে বলেন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ম্যাথু ওয়েডের সহজ ক্যাচ ফেলেছিলেন হাসান আলি। সে বিষয়েই প্রশ্ন করা হয়েছিল তাকে।
কিন্তু প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই তাকে মাঝপথে থামিয়ে দেন হাসান আলি। সে নিয়ে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। হাসান আলিকে সাংবাদিক বলেন, ‘আপনি এ ভাবে আমাকে থামাতে পারেন না…।’
হাসান আলি সঙ্গে সঙ্গে বলেন, ‘আগে টুইটারে ভালো লেখা পোস্ট করুন। তার পর আপনার প্রশ্নের উত্তর দেব। কাউকেই ব্যক্তিগত আক্রমণ করা উচিত নয়। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড তো আর আপনাদের প্রশ্ন করা থেকে আটকাতে পারবে না, কিন্তু আমাদের সেই অধিকার আছে।’
এই ঘটনা নিয়ে বেশ হইচই পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কেউ হাসানকে সঠিক বলছেন, কারো মতে তিনি একটু বাড়াবাড়ি করে ফেলেছেন।
পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক বাটও শেষের তালিকায় পড়েন। হাসানের এমন আচরণ একেবারেই পছন্দ হয়নি বাটের। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এই বিষয়ে নিজের মতামত জানাতে গিয়ে বাট বলেন, ‘আশা করছি ও আর কখনো এমন করবে না। প্রশ্ন করা তো একজন সাংবাদিকের অধিকার এবং তুমি তাকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পার না।’
বাট আরো বলেন, ‘ওর উচিত ছিল পুরো প্রশ্নটা শুনে নো কমেন্টস বলে সেটা এড়িয়ে যাওয়া। ও নো কমেন্টস বললেই পরের ব্যক্তি নিজের প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারত এবং তাতেই কাজ হয়ে যেত। কাউকে প্রশ্নের মাঝে এমন বাধা দেওয়া একেবারেই শোভনীয় নয়।’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আসর জুড়ে দুর্দান্ত খেললেও সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৫ উইকেটে হেরে যায় পাকিস্তান। প্রথমে পাকিস্তান ৪ উইকেটে ১৭৬ রান করে। জবাবে এক ওভার বাকি থাকতে অস্ট্রেলিয়া ৫ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।
ম্যাথু ওয়েড ১৭ বলে ৪১ রান করে অপরাজিত থাকেন। শাহিন আফ্রিদির ১৯তম ওভারে তিনটি ছয় মেরে অস্ট্রেলিয়াকে জিতিয়ে দেন ওয়েড। সেই ওভারেই তৃতীয় বলে ওয়েডের ক্যাচ ফেলে দেন হাসান আলি।