দরপতন টানা তৃতীয় দিনে

দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে পুঁজিবাজারে যে অস্থিরতা চলছে, তারই ধারাবাহিকতায় গতকালও দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে দরপতন হয়েছে। এ নিয়ে  চলতি সপ্তাহে শুরু হওয়া দরপতন টানা তৃতীয় দিনে গড়াল। অস্থিরতা রোধ ও চাঙ্গাভাব ফিরিয়ে আনতে গত সপ্তাহে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি একাধিক উদ্যোগ নিলেও বাজারে এর প্রভাব পড়েনি। উল্টো চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই টানা দরপতনের ধারা দেখা দিয়েছে। গতকাল দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইতে লেনদনে হওয়া বেশিরভাগ শেয়ারের দরপতনে প্রধান মূল্যসূচক কমেছে ৪৪ পয়েন্ট। এ নিয়ে টানা তিন দিনে সূচকটি কমেছে ১৪৭ পয়েন্ট। 

গতকাল অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচক কমেছে। এ বাজারের প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১৭৩ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট বা দশমিক ৮৬ শতাংশ কমে অবস্থান করছে ১৯ হাজার ৯৮৪ দশমিক ৭৩ পয়েন্টে।

পুঁজিবাজারে টানা ঊর্ধ্বগতির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্বেগ প্রকাশ ও ব্যাংকের বিনিয়োগ কঠোর নজরদারিতে নেওয়ার পর থেকেই অস্থিরতা দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এসইসি মার্জিন ঋণের সুবিধা বাড়ানোসহ বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়ে অস্থিরতা নিরসনের পদক্ষেপ নেয়। তবে দুই নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের কারণে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ব্যাংকগুলো বিনিয়োগে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করে। অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি শ্রেণির বড় বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে সাইড লাইনে ফিরে যান। ফলে এসইসির উদ্যোগ সত্ত্বেও বাজারে লেনদেনের পাশাপাশি সূচক কমতে শুরু করে।

এমন পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করে এসইসি। ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধনের ইস্যুতে আদেশ জারির আগে যেসব কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশের কম শেয়ার ধারণ করছেন, তাদের এক মাসের মধ্যে এ সংক্রান্ত শর্ত পরিপালনের চূড়ান্ত সময় বেঁধে আদেশ দেয়। এছাড়া স্বল্প মূলধনী  কোম্পানি, বিশেষত ৩০ কোটি টাকার কম মূলধনী কোম্পানিগুলো আগামী এক বছরের মধ্যে কে কোন পদ্ধতিতে পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকায় উন্নীত করবে, তা জানিয়ে এক মাসের মধ্যে পরিকল্পনা জানাতে গত সপ্তাহে আদেশ দিয়েছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি। এ আদেশের প্রভাবেই সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলোর অধিকাংশের দর বাড়লেও বড় মূলধনী শেয়ারের দরপতনের কারণে সূচক কমে যায়।

গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৭৭টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের মধ্যে দর বেড়েছে ৮৮টির এবং কমেছে ২৪৯টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৪০টির দর। খাতওয়ারি হিসেবে গতকাল শুধুমাত্র ট্যানারি, কাগজ ও প্রকাশনা এবং সাধারণ বীমার বাজার মূলধন বেড়েছে। এদিকে গতকাল সূচক কমলেও লেনদেন আগের দিনের তুলনায় ৫৫ শতাংশ বা ৩৮৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা বেড়েছে। এদিন ১ হাজার ৮০ কোটি ৮০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা আগের কর্মদিবসে ছিল ৬৯৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।