কিংসকে ছাপিয়ে সেরা হতে চায় আবাহনী

বসুন্ধরা কিংসের আবির্ভাবের আগে দেশের ফুটবলে একচেটিয়া আধিপত্য ছিল আবাহনীর। ছয়বারের লিগ শিরোপাধারীদের কাছেই ধরা দিত সব সাফল্য। কিন্তু ২০১৮ সালের পর থেকেই বদলে গেছে প্রেক্ষাপট। আবাহনীর মসনদ কেড়ে নিয়েছে কিংস। টানা দুটি লিগ শিরোপা জয়ের পাশাপাশি ফেডারেশন কাপ, স্বাধীনতা কাপেও দেখিয়েছে আধিপত্য। প্রায় প্রতিবারই আবাহনীকেই আক্ষেপে পুড়িয়ে সেরা হয়েছে তারা। এবার আর ভুগতে চায় না আকাশি-হলুদ জার্সিধারীরা। পুড়তে চায় না আরেকটি হারের অঙ্গারে। কিংসকে হারিয়েই তারা ফিরে পেতে চায় সেরার আসন। আজ স্বাধীনতা কাপের ফাইনালে দু’দলের লড়াইটা তাই শুধুই শিরোপার নয়, মর্যাদারও।

শীর্ষ ফুটবলে অভিষেকের পর এটা হতে যাচ্ছে যেকোনো টুর্নামেন্টে দু’দলের চতুর্থ দ্বৈরথ। ২০১৮ সালের ফেডারেশন কাপের ফাইনাল দিয়ে দু’দলের লড়াই শুরু। সেবার জমজমাট ম্যাচে ৩-১ গোলে জিতেছিল আবাহনী। সে বছরই স্বাধীনতা কাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে কিংস আগের হারের শোধ নেয় টাইব্রেকারে জিতে। এরপর এ বছর শুরুতে ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালে আবাহনীকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে কিংস। এর বাইরে দু’দলের লিগে দেখা হয়েছে চারবার। যার তিনবারই জয়ী দলের নাম কিংস। ২০১৮ থেকে সর্বশেষ মৌসুম পর্যন্ত যেখানে কিংস জিতেছে দুটি লিগ, দুটি ফেডারেশন কাপ ও একটি স্বাধীনতা কাপ শিরোপা, সেখানে আবাহনীর ঘরে গেছে একটি ফেডারেশন কাপ। সব মিলিয়ে আকাশির ঐতিহ্যে বড়সড় আঘাত হেনেছে কিংস।

স্বাধীনতা কাপে আবাহনীর পথচলা মোটামুটি সহজই ছিল। সেমিফাইনালে তারা সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবকে হারায় ২-০ ব্যবধানে। কিংসের ফাইনালে আসাটা অবশ্য সহজ হয়নি। সেমিফাইনালে অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল পুলিশ এফসি। যদিও অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে জিতে কিংস উঠে আসে ফাইনালে।

আবাহনীর পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমস এবার কিংসকে হারের তিক্ত স্বাদ দিতে বদ্ধপরিকর। একই সঙ্গে কোচ হিসেবে আবাহনীকে ফের শিরোপার আনন্দে ভাসাতে চান তিনি, আগের বছরগুলোতে কিংস অনেক কিছুই জিতেছে। আমরা এবার জিততে চাই। কিংসের এই ধারাবাহিকতাটা ভেঙে দিতে চাই। এটা ফাইনাল। যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে। তবে ফাইনালে পাথর্ক্য গড়ে দেওয়ার জন্য আমাদের কলিনদ্রেসের মতো ফুটবলার আছে।’ আবাহনীর কলিনদ্রেস যেমন আছেন, কিংসের আছেন ব্রাজিলিয়ান রবসন রবিনহোর মতো পরীক্ষিত ফুটবলার। বুড়িয়ে যাওয়া কলিনদ্রেসের জায়গাতেই কিংসের বড় সহায় হয়ে এসেছিলেন রবিনহো। এই দুজনের লড়াইটাও বাড়তি উত্তেজনা যোগ করবে আজ। লেমসও মনে করেন রবিনহোর মতো বিপজ্জনক ফুটবলারকে কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না, ‘সে খুব ভালো ফুটবলার। আমরা তার কাজটা কঠিন করে তুলতে চাই। তাকে বেশি জায়গা দেওয়া যাবে না।’

কিংসের স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজনের বিশ্বাস, অতীতের মতো তার শিষ্যরা সেরা মঞ্চে আরেকবার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ  দেবে। এই আসরে কিংস এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ১৬ গোল করেছে। গোল খেয়েছে মাত্র একটি। এটাই অন্যরকম আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে কিংস কোচকে, ‘১৬ গোল করে এখন পর্যন্ত আমরা টুর্নামেন্টের সেরা দল এবং মাত্র একটি গোল খেয়েছি। কঠিন গ্রুপে জায়গা হওয়ায় অনেক চ্যালেঞ্জ পাড়ি দিয়ে আমাদের ফাইনালে পৌঁছতে হয়েছে। আর কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ফাইনাল পর্যন্ত খুব কম সময় পেয়েছিলাম আমরা। তাই রিকভারি করাটাও ছিল চ্যালেঞ্জিং। দলে কিছু ইনজুরি সমস্যা আছে বাজে মাঠের কারণে। তবে আমাদের স্কোয়াডের গভীরতার ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে। ফাইনালের কৌশল আমি এখনই জানাতে চাই না। শুধু বলব প্রতিপক্ষ হিসেবে আবাহনী খুব শক্তিশালী। তবে শিরোপা জয়ের জন্য সব চেষ্টাই আমাদের থাকবে।’

মুখোমুখি হিসাবটা আগেই জানা গেছে। যেখানে স্পষ্ট আধিপত্য কিংসের। শক্তিতেও তারাই এগিয়ে। তবে এ মৌসুমে খানিকটা ভিন্নপথে হেঁটে ব্যালেন্সড দল গড়া আবাহনী আজ কিংসকে একচুলও ছাড় দেবে না এটা বলে দেওয়াই যায়। সব মিলিয়ে একটা জমজমাট ফাইনালের প্রত্যাশা করতেই পারেন ফুটবলপ্রেমীরা।