মুক্তিযোদ্ধাদের ‘পদধূলি’ নিলেন শামীম ওসমান

‘সেদিন পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়ার ভয়ে মা-বোনকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে প্রস্তুত ছিলেন বাবা ও ভাই। যদি ধরা পড়ে যাই তাহলে তাদের হত্যা করা হবে পাকবাহিনীর মুখোমুখি হব আমরা। তবু মা-বোনকে ধর্ষিত হতে দিবে না।’

গত শুক্রবার রাত ১০টায় নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে একাত্তরের স্মৃতিচারণা করে আবেগাপ্লুত হয়ে এসব কথা বলেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সাংসদ শামীম ওসমান।

সংবর্ধনা শেষে এমপি শামীম ওসমান জেলা কমান্ডার মোহাম্মদ আলী এবং স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরিদা পারভীনের পা ছুয়ে পদধূলি নেন।

নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের উদ্যোগে একাত্তরে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশ নেওয়া ৩৭ সদস্য ও তাদের পরিবারকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ক্লাবের সভাপতি তানভীর আহমেদ টিটুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক জেলা কমান্ডার মোহাম্মদ আলী, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ফরিদা পারভীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা খবির আহমেদ প্রমুখ।

শামীম ওসমান বলেন, এটার নামই স্বাধীনতা। আজকে স্বাধীন দেশ নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেন। যখন দেখি দেশের মাটিতে পাকিস্তানের জার্সি গায়ে ও পতাকা হাতে স্টেডিয়ামে নিয়ে উল্লাস করে, তখন নিজেকে ঠিক রাখতে পারি না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ভৌগোলিক অবস্থার কারণে এখন একটি গ্রুপ ছোবল মারছে, এতে শুধু আওয়ামী লীগের ক্ষতি হবে, এমনটা নয়। সব দলের, সব মানুষের ক্ষতি হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্ষতি হবে। মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে দুই ভাগে। একটা গ্রুপ সম্মুখে থেকে যুদ্ধ করেছে। পথটা এত সহজ ছিল না। তখন সরকারি দলও ক্ষমতায় ছিল না।