কক্সবাজারে ধর্ষণের শিকার নারী ৯৯৯-এ কোনো ফোন দেননি: পুলিশ

কক্সবাজারে ধর্ষণের শিকার নারী সাহায্য চেয়ে ৯৯৯-এ ফোন দেননি বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মহিউদ্দিন আহমেদ। বৃহস্পতিবার রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের লাইভ আলোচনায় তিনি এ দাবি করেন।

কক্সবাজারে স্বামী-সন্তান নিয়ে বেড়াতে এসে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন ওই নারী পর্যটক। তিন যুবক মিলে ওই নারী পর্যটককে ধর্ষণ করে হোটেলে রেখে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে র‌্যাব-১৫ কক্সবাজারের একটি দল ঘটনাস্থল থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

বুধবার রাত ২টার দিকে কক্সবাজার হোটেল-মোটেল জোনের জিয়া গেস্ট ইন নামের হোটেল থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ২/৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ওই নারীর স্বামী বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, কক্সবাজারে নারী পর্যটক ধর্ষণের ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড হয়েছে।

ধর্ষণের শিকার নারী অভিযোগ করেন, ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে স্বামী-সন্তানসহ কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন ওই নারী পর্যটক। ওঠেন শহরের হলিডে মোড়ের একটি হোটেলে। সেখান থেকে বিকেলে যান সৈকতের লাবনী পয়েন্টে। সেখানে অপরিচিত এক যুবকের সঙ্গে তার স্বামীর ধাক্কা লাগলে; কথা-কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে সন্ধ্যার পর পর্যটন গলফ মাঠের সামনে থেকে তার আট মাসের সন্তান ও স্বামীকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে কয়েকজন তুলে নিয়ে যায়। এ সময় আরেকটি অটোরিকশায় ওই নারীকে তুলে নেয় তিন যুবক। পর্যটন গলফ মাঠের পেছনে একটি ঝুপড়ি চায়ের দোকানের পেছনে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে তিনজন। এর পর তাকে নেয়া হয় জিয়া গেস্ট ইন নামে একটি হোটেলে। সেখানে আরেক দফা তাকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেন ওই তিন যুবক। ঘটনা কাউকে জানালে সন্তান ও স্বামীকে হত্যা করা হবে জানিয়ে কক্ষ বাইরে থেকে বন্ধ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তারা। 

ভুক্তভোগী ওই নারী অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে পুলিশের জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে তিনি কোনো সহায়তা পাননি। পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদের এক সদস্য তাকে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি র‌্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মুনীর-উল-গীয়াস জরুরি সেবার নম্বরে ফোন কর সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

৯৯৯-এ কল করেও সাহায্য না পাওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা হয়। 

এ বিষয়ে বেসরকারি টেলিভিশনের লাইভ টক শোতে প্রশ্ন করা হলে কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ৯৯৯-এ কল করা হলে তার কের্ড থাকে। এ ধরনের অভিযোগ বিষয়ে কোনো কল ৯৯৯-এ আসেনি। 

তিনি বলেন, ওই নারী প্রথমে তার স্বামীকে ফোন করেন। এরপর তারা র‌্যাবকে ফোন করলে তাকে উদ্ধার করা হয়।