খাওয়ানোর ইচ্ছে পূরণ মুদি দোকানির

দিনাজপুর শহরের রামনগর এলাকার মুদি দোকানি রাহাত হোসেন। ওই এলাকার মৃত ইউনুস আলী কাইনুসের ছেলে। ছোটবেলা থেকেই রাহাতের স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে স্বাবলম্বী হলে সমাজের গরিব, অসহায়, প্রতিবন্ধীদের জন্য এক বেলা খাবারের ব্যবস্থা করবেন। তার এই ইচ্ছা অবশেষে পূরণ হলো গতকাল শুক্রবার।

এদিন পৌর শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের রামনগর ঈদগাহ মাঠে এক ব্যতিক্রমী দাওয়াতের আয়োজন করেন রাহাত। যেখানে দাওয়াত পেয়েছেন ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী, স্বামী পরিত্যক্তসহ সমাজের অসহায় মানুষ। দাওয়াতপ্রাপ্ত প্রায় ৭০০ মানুষকে খাওয়ানো হয় পোলাও, মুরগির রোস্ট, বুটের ডাল ও ডিম। মাঠে সবাই একসঙ্গে বসে খাওয়া শেষে আয়োজকের জন্য মোনাজাত করেন। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে আয়োজক রাহাতের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সহায়তা করেন এলাকার ৫০ জন যুবক ও কিশোর।

রাহাত হোসেন বলেন, ‘ছোটবেলায় যখন আমার কাছে কোনো ভিক্ষুক ভাত খেতে বা সাহায্য চাইতে আসত, তখন থেকে আমার মাথায় এই চিন্তা শুরু হয়। আমি চিন্তা করতাম বড় হয়ে নিজে স্বাবলম্বী হলেই সমাজের এই অসহায় মানুষদের জন্য কোনো একদিন একবেলা খাবারের ব্যবস্থা করব। অবশেষে আল্লাহর রহমতে এই ইচ্ছা আমার পূরণ হলো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আসলে আমাদের সমাজের ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধীসহ অসহায়রা মাসে এক দিনও ভালো খাবার খেতে পারে না। তাই আমি তাদের জন্য পোলাও, মুরগির রোস্ট, বুটের ডাল ও ডিমের আয়োজন করেছি। আমি ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন করার চেষ্টা করব।’

অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করা শুভ ইসলাম বলেন, ‘আমরা তো সমাজের মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের জন্য নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করি। কিন্তু সমাজের এই অসহায় মানুষদের জন্য কয়জন ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এই আয়োজনে অংশ নিতে পেরে আমি খুব আনন্দিত।’

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর জুলফিকার আলী স্বপন বলেন, ‘এমন ব্যতিক্রমী দাওয়াতের আয়োজন শুনে আমি এখানে এসেছি। খুব ভালো লেগেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন কেউ করতে চাইলে আমি সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।’