ঘন কুয়াশার কারণে সাড়ে চার ঘণ্টা ফেরি সার্ভিস বন্ধ থাকায় শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে যাত্রীরা পড়েছেন ভোগান্তিতে। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় সকাল থেকে এ রুটে যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে থাকে। বিকেল ৪টার দিকে ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় ছিল প্রায় পাঁচ শতাধিক যানবাহন। একই কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে গত বৃহস্পতিবার রাত ৩টা থেকে ফেরি বন্ধ করার পর গতকাল সকাল ৭টা থেকে ফেরি চলাচল শুরু হয়। ঘাট এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও শত শত পণ্যবাহী ট্রাক ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে।
শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ঘাটে সরেজমিন দেখা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে কুয়াশার তীব্রতা বেড়ে গেলে ঘাট কর্তৃপক্ষ ফেরি সার্ভিস বন্ধ করে দেয়। চার ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর কুয়াশা কেটে গেলে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পুনরায় ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। এতে রাতে আটকা পড়ে প্রায় সহস্রাধিক যানবাহন। তবে চারটি মিডিয়াম কে-টাইপ ফেরি চলাচল করার কারণে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘাটের যানজট কমতে থাকে।
বরিশালগামী আবদুল মোতালেব শেখ বলেন, ‘আমি শিমুলিয়া ঘাটে সকালে আসছি। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও ফেরিতে উঠতে পারছি না। কখন পাব জানি না। জরুরি কাজে বরিশাল গিয়ে আবারও ঢাকার উদ্দেশে ফিরতে হবে।’
এক কাভার্ড ভ্যানচালক অভিযোগ করে বলেন, ‘তিন দিন ধরে ঘাটে বসে আছি। ভিআইপি ও প্রাইভেট কার পারাপার করা হচ্ছে। আমাদের সিরিয়াল দিচ্ছে না।’
বিআইডব্লিউটিসি শিমুলিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) শাফায়াত আহম্মেদ জানান, দুর্ঘটনা এড়াতে রাত ২টা থেকে ফেরি সার্ভিস বন্ধ করা হয়। পরে কুয়াশা কেটে গেলে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। ছুটির দিন এবং কুয়াশার কারণে ফেরি বন্ধ থাকায় ঘাট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
মাওয়া ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর (টিআই) জাকির হোসেন জানান, সকাল থেকে ঘাটে যানবাহনের চাপ রয়েছে। চারটি ফেরির কারণে এ দুর্ভোগ। আরও ফেরি বাড়াতে পারলে ঘাটে যানজট ও যাত্রী ভোগান্তি কমে যেত। বিকেল ৪টার দিকে শিমুলিয়া ঘাটে প্রায় অর্ধসহস্রাধিক যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে।
এদিকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে গতকাল পর্যন্ত পারাপারের অপেক্ষায় দেড় হাজার যানবাহন। গত বৃহস্পতিবার রাত ৩টা থেকে ফেরি বন্ধ করার পর গতকাল সকাল ৭টা থেকে ফের চলাচল শুরু হলে যাত্রীবাহী বাসযাত্রীদের পাঁচ-সাত ঘণ্টা অপেক্ষা করে ফেরিতে উঠতে হচ্ছে। অন্যদিকে পণ্যবাহী ট্রাকগুলোর দুই-তিন দিন পরও সিরিয়াল মিলছে না ফেরির টিকিটের।
বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মহিউদ্দিন রাসেল বলেন, ফেরি সংকট, কুয়াশার কারণে চার ঘণ্টা বন্ধ এবং সাপ্তাহিক ছুটিতে উভয় ঘাটে যানবাহনের ঢল নেমেছে। ছোট-বড় মিলে ১৬টি ফেরি দিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী বাস, ছোট যানবাহন ও জরুরি পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার করা হচ্ছে।
পাটুরিয়া ফেরিঘাটের ট্রাফিক পুলিশের কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাটুরিয়া প্রান্তে শতাধিক যাত্রীবাহী বাস, ছোট যানবাহন চার শতাধিক এবং সহস্রাধিক পণ্যবাহী ট্রাক ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় আছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে যানবাহন।