সাপ্তাহিক ছুটির দিন গতকাল শুক্রবার জমজমাট হয়ে উঠেছিল রিহ্যাব আয়োজিত শীতকালীন আবাসন মেলা। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চলমান এ মেলায় এদিন দিনভর ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। বিভিন্ন স্টলে গিয়ে আগ্রহী লোকজন তাদের প্রজেক্ট সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন। ক্রেতার আগমনে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন আবাসন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, এবার ক্রেতাদের ফ্ল্যাট ও প্লট কেনার সুবর্ণ সুযোগ থাকছে।
মেলায় ঢুকতেই হাতের ডান পাশে রয়েছে ‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’র দৃষ্টিনন্দন স্টল। এবারের আবাসন মেলায় রূপায়ণ সিটি উত্তরা ডায়মন্ড স্পন্সর হিসেবে অংশ নিয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশের একমাত্র প্রিমিয়াম মেগা গেটেড কমিউনিটি প্রজেক্ট এটি। গতকাল সন্ধ্যার দিকে দেখা যায়, স্টলে গিয়ে প্রজেক্টের বিষয়ে আগ্রহভরে খোঁজখবর নিচ্ছেন গ্রাহকরা। রূপায়ণ কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আধুনিক জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সুপরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছে প্রকল্পটিকে। তাই উচ্চবিত্ত লোকজনের মধ্যে বেশ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে এ প্রজেক্ট নিয়ে।
ঢাকার উত্তরায় এ প্রকল্প প্রায় ১৩৫ বিঘা জমিতে গড়ে উঠেছে। মোট জমির ৬৩ শতাংশ জায়গাই থাকবে ফাঁকা (ওপেন স্পেস) থাকছে বাসিন্দাদের জন্য বিশুদ্ধ অক্সিজেনের জোগানোর জন্য। এছাড়া এখানে থাকছে কমিউনিটি ক্লাব, মসজিদ, খেলার মাঠ, স্কুল, সাড়ে ছয় কিলোমিটার জগিং ট্র্যাক ও গাড়ি চলাচলের পৃথক রাস্তা। আর সবই মিলছে একই গেটের ভেতরে। রূপায়ণ সিটি উত্তরায় আরও থাকছে প্রিমিয়াম কন্ডো অ্যাপার্টমেন্ট, স্কাই ভিলা, বিপণন কেন্দ্র, অফিস স্পেস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ রয়েছে জীবনের প্রয়োজন মেটানোর সব আয়োজন।
মেলায় রূপায়ণ হাউজিংয়ের আরও দুটি স্টল অংশ নিচ্ছে। সেখানেও ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। রূপায়ণ গ্রুপের ব্যবস্থাপক (সেলস) ইকবাল আরিফ জানান, এখানে রূপায়ণ গ্রুপের তিনটি প্রজেক্ট অংশ নিচ্ছে। এগুলো হলো রাজধানীর বসুন্ধরায় ১০৭ কাঠা জায়গার ওপর গড়ে ওঠা রূপায়ণ লেক ক্যাসেল (আবাসিক), রূপায়ণ প্ল্যাটিনাম স্কয়ার (বাণিজ্যিক) ও রূপায়ণ টাউন। এর মধ্যে রূপায়ণ লেক ক্যাসেলে রয়েছে জিমনেশিয়াম, সুপারশপ, মসজিদ, খেলার মাঠ ও মেডিসিন কর্নারসহ উন্নত নাগরিক জীবনের সব সুবিধা। ইকবাল আরিফ বলেন, আজ (গতকাল) সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ১৩ জন গ্রাহক কথা বলে গেছেন। গ্রাহক সাড়া ভালোই পাওয়া যাচ্ছে।
আবাসন কোম্পানি রাতুল প্রপারটিজের উপব্যবস্থাপক (বিক্রয়) কাজী ইবনে সাঈদ বলেন, ছুটির দিন হিসেবে ক্রেতা-দর্শনার্থী আজকে (গতকাল) ভালোই এসেছেন। আমরা গুলশান, ধানম-ি, বসুন্ধরা, মিরপুরে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও ভূমি নিয়ে মেলায় অংশ নিয়েছি। মেলায় গ্রাহক-দর্শনার্থীরা অফার ও হাউজিং ঋণ নিয়ে আবাসন কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেছেন।
লালবাগের বাসিন্দা মুরশেদা খানম বলেন, উত্তরায় আমার পাঁচ কাঠার জমি আছে। এখন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করব, সেখানে কীভাবে ভবন করা হয়। নিজে যদি বিল্ডিং করতে না পারি, তাহলে ভালো কোনো আবাসন কোম্পানিকে ভবন নির্মাণের জন্য দিয়ে দেব।
মেলায় আবাসন প্রতিষ্ঠান ছাড়াও আবাসন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠান ও ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও অংশ নিচ্ছে। সরকারের হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের সহকারী মহাপরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের হাউজিং ঋণ সম্পর্কে গ্রাহকদের অনেকে জানে না। তারা আসছে, দেখছে, জানতে পারছে। মানুষ এই ঋণ নিয়ে বেশ আগ্রহও দেখাচ্ছে।
গত ২৩ ডিসেম্বর শুরু হওয়া আবাসন মেলা চলবে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এবারের মেলায় ২২০টি স্টল রয়েছে। প্রায় ১৫০টি আবাসন প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এছাড়া ১৫টি নির্মাণসামগ্রী এবং ৩০টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের স্টল রয়েছে।
মেলার সিঙ্গেল এন্ট্রির প্রবেশ ফি ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মাল্টিপল এন্ট্রির প্রবেশ ফি ১০০ টাকা। সিঙ্গেল এন্ট্রি টিকিটে একবার ও মাল্টিপল এন্ট্রি টিকিটে পাঁচবার মেলায় প্রবেশ করা যাবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ক্রেতা দর্শনার্থীরা মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন। মেলা উপলক্ষে এন্ট্রি টিকিটের ওপর র্যাফেল ড্রতে থাকছে আকর্ষণীয় পুরস্কার।
২০০১ সাল থেকে ঢাকায় রিহ্যাব হাউজিং ফেয়ার শুরু হয়। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৪টি মেলা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে রিহ্যাব। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৪ সাল থেকে বিদেশে হাউজিং ফেয়ার আয়োজন করে আসছে। এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি, যুক্তরাজ্য, দুবাই, ইতালির রোম, কানাডা, সিডনি, কাতারের একটি করে এবং দুবাইতে দুটি রিহ্যাব হাউজিং ফেয়ার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এসব মেলা আয়োজনের মাধ্যমে রিহ্যাব দেশ-বিদেশে গৃহায়ণ শিল্পের বাজার সৃষ্টি এবং তা প্রসারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছে।