নিখোঁজ স্বজনের খোঁজে সুগন্ধার তীরে আহাজারি

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে বরগুনাগামী লঞ্চ এমভি অভিযান-১০ এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আরো লাশের সন্ধানে নেমেছে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ড। শনিবার সকাল থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। তবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কোনো লাশ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়নি ।

নিখোঁজের স্বজনদের দাবি, কমপক্ষে শতাধিক মানুষ নদীতে লাফিয়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের সন্ধানে সুগন্ধার তীরে অপেক্ষায় আছেন স্বজনরা। কেউ আবার ট্রলার নিয়ে নদীর বিভিন্ন প্রান্তে খুঁজে বেড়াচ্ছেন প্রিয়জনকে। নিখোঁজ স্বজনের মৃতদেহ যেন বাড়ি নিয়ে যেতে পারেন, সেই অপেক্ষায় আছেন তারা।

সকাল থেকে স্বজন হারানো আবুল কালাম, ফরিদা বেগম, নজরুল ইসলামসহ অনেককে পোনাবালিয়া ইউনিয়নের সুগন্ধা নদীর তীর সরই, দিয়াকুল  ও গাবখান নদীর মোহনায় ট্রলার নিয়ে ছুটতে দেখা গেছে।

স্বজন হারানো নজরুল ইসলাম সকাল খেকেই বোন ও দুলাভাইয়ের খোঁজে সুগন্ধা নদীর পাড়ে পাড়ে ঘুরছেন।

তিনি জানান, অভিযান লঞ্চে তার বোন, দুলাভাই ও ভাগ্নে ছিল। লঞ্চ দুর্ঘটনার পর থেকে তাদের আর খোঁজ মেলেনি। তাদের সন্ধানেই তিনি বরগুনা থেকে ঝালকাঠি এসেছেন।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব তোফায়েল হাসানের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের তদন্ত দল ঝালকাঠির লঞ্চঘাট এলাকায় উপস্থিত ছিলেন।

সাবেক মন্ত্রীসহ তদন্ত কমিটির লোকজন লঞ্চের ইঞ্জিন রুমসহ বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখেন।

এ সময় শাহজাহান খান বলেন,  লঞ্চ দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটন এবং দোষিদের চিহ্নিত করতে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। এদের রিপোর্ট অনুযায়ী আমরা বুঝতে পারব দুর্ঘটনার আসল কারণ। যারা এর জন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অভিযান লঞ্চের আগুন ক্যান্টিন থেকে নয়, ইঞ্জিনের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।

এ ছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের গঠন করা তদন্ত কমিটি, ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনাকবলিত লঞ্চটি পরিদর্শন করেন।

এদিকে সকাল ৮টা থেকে ঝালকাঠি ও বরিশালের ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এবং কোস্ট গার্ডের একটি টিম লঞ্চ ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মো. কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ঝালকাঠির সেচ্ছাসেবকরা পৌর মিনি পার্কে এ পর্যন্ত নিখোঁজ ৫১ জনের তালিকা পেয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

তবে পুলিশ জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত ৩৭ জন নিখোঁজের তথ্য পেয়েছেন।

ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো, জোহর আলী বলেন, যেহেতু কতজন মানুষ নিখোঁজ আছে আমরা তা সঠিকভাবে জানি না, তাই নিখোঁজদের মৃতদেহ উদ্ধারে আরো দু-তিনদিন অভিযান চলবে। ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ডের পাশাপাশি প্রশাসন, পুলিশ এবং স্থানীয়রা নদীতে অনুসন্ধান চালাচ্ছে ।