আজ সেঞ্চুরিয়ানের সুপার স্পোর্ট পার্কে শুরু হচ্ছে ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম টেস্ট। তবে খেলা ঠিকঠাক হবে কি না তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ম্যাচের মধ্যেই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও প্রথম দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে দ্বিতীয় দিন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার আবহাওয়া দপ্তরের সরকারি ওয়েবসাইটে।
সেঞ্চুরিয়ানে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ মানেই পেসারদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠতে পারে বক্সিংডে টেস্ট। ব্যাটারদের জন্য ত্রাস হয়ে উঠতে পারেন জাসপ্রিত বুমরাহ এবং কাগিসো রাবাদারা। মেঘলা আবহাওয়ায় ফাস্ট বোলারদের সুইং পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। ফলে বিরাট কোহলি-ডিন এলগারদের জন্য ভয়ের বার্তা হতে পারে আবহাওয়ার পূর্বাভাস। এবার দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট সিরিজ জিততে চায় ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকায় তারা কোনোদিন টেস্ট সিরিজ জিততে পারেনি। এবার সেই খরা কাটাতে চায়।
ভারত আজ পাঁচ ব্যাটসম্যান পাঁচ বোলার নিয়ে নামবে। সেক্ষেত্রে শ্রেয়াস আয়ার খেলবেন না আজিঙ্কা রাহানে খেলবেন তা নিশ্চিত নয়।
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিষেক ম্যাচেই সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। আজিঙ্কা রাহান ছন্দে না থাকায় আজ সুযোগ এনে দিতে পারে শ্রেয়াসের সামনে। শ্রেয়াস বলেন, ‘যে কোনো পেশাদার ক্রিকেটারের স্বপ্ন টেস্ট ক্রিকেট খেলা। আমি সব সময় ভারতের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে খেলতে চেয়েছি। তবে নিজের ওপর কখনো চাপ দিইনি। নিজের ক্ষমতার ওপর ভরসা রেখেছি। এত দিন পর সুযোগ পেয়েছি এবং আমি তৈরি।’ ইনজুরির কারণে রোহিত শর্মা নেই ভারতীয় দলে। স্বাগতিকদের হয়ে খেলতে পারছেন না আনরিখ নরকিয়া। রবীন্দ্র জাদেজা নেই। তবে ভারতের জন্য ইনজুরির চেয়ে বিতর্ক বেশি সমস্যা তৈরি করছে। বিরাট কোহলির অধিনায়কত্ব কেড়ে নেওয়া নিয়ে জলঘোলা কম হয়নি। যদিও নতুন কোচ রাহুল দ্রাবিড় বক্সিং ডে টেস্টের আগে কোহলির প্রশংসা করে বলেছেন, ‘কোহলির যখন অভিষেক হয় তখন আমি সেখানে ছিলাম। ওর প্রথম টেস্ট ম্যাচের সময়ও আমি ছিলাম এবং ওর সঙ্গে সেই ম্যাচে ব্যাটও করেছি। গত ১০ বছরে ক্রিকেটার হিসেবে যে অভাবনীয় উন্নতি করেছে কোহলি, তা না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। ওর পারফরম্যান্সই সে কথা বলে দিচ্ছে। যেভাবে নেতৃত্ব দিয়েছে তাও অসাধারণ। দলের মধ্যে ফিটনেস এবং শক্তির স্ফুরণ নিয়ে এসেছে ও। ওর সঙ্গে কাজ করার জন্য মুখিয়ে রয়েছি। এখনো উন্নতি করে চলেছে ও।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখানে ক্রিকেট খেলা প্রচণ্ড কঠিন। কিন্তু একই সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ। অধিনায়ক হিসেবে এখানে এসে টেস্ট জিতেছি। ২০০৩ বিশ্বকাপের ফাইনালেও উঠেছি এই দেশেই। অসাধারণ স্মৃতি রয়েছে এ দেশে। এই দেশের সমর্থকদের ক্রিকেটের প্রতি আবেগ রয়েছে। প্রচুর লোক ক্রিকেট দলকে সমর্থন করে। তাই সিরিজের দিকে তাকিয়ে আছি।’ কোচ হিসেবে এই সিরিজে কী প্রত্যাশা করেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে দ্রাবিড় বলেন, ‘ভালো ভাবে প্রস্তুতি নিয়ে ছেলেরা লড়াই করুক, এটাই আমি চাই। এটাই আমি ওদের থেকে আশা করি। জেতার সব থেকে ভালো সুযোগ যেন আমাদের থাকে সেটাই চাই। ফলাফল এমনিই আসবে। সিরিজ জেতা বা হারার চাপ ওদের মাথার ওপর দিতে চাই না।’