সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ধারাবাহিকতা না মেনে নিজেই এক বিশাল প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। প্রাজ্ঞ পাঠকের মনোলোক থেকে সাধারণ মানুষের উচ্চারণে তিনি অনন্য আসন অধিকার করে আছেন বলেও উল্লেখ করেন তারা।
গতকাল সোমবার বাংলা একাডেমিতে একক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। সৈয়দ শামসুল হকের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলা একাডেমির আয়োজনে অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা তারিকুল আহসান সৈয়দ হককে নিয়ে আলোচনা করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) নূরুন্নাহার খানম। একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন নাট্যজন আতাউর রহমান। অনুষ্ঠানে সৈয়দ শামসুল হক রচিত ‘আমার পরিচয়’ কবিতার আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী রূপা চক্রবর্তী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আতাউর রহমান বলেন, নাট্যকলাসহ বাংলা সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্র সৈয়দ শামসুল হকের মৌলিক অবদানে ঋদ্ধ। এক বহুপ্রভা সৃষ্টি মানবের নাম সৈয়দ শামসুল হক; যিনি তারুণ্যের প্রথম প্রভাত থেকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বিচিত্রমুখী সৃষ্টি সুরের গান গেয়ে গেছেন।
অধ্যাপক মোস্তফা তারিকুল আহসান বলেন, সৈয়দ শামসুল হক বিচিত্র ও বিপুল সৃষ্টিতে সবসময়ই স্বাতন্ত্র্যের স্বাক্ষর রেখেছেন এবং আমাদের শিল্প-সাহিত্যের সীমানা সম্প্রসারিত করেছেন। কবিতা, গল্প, উপন্যাস ও কাব্যনাট্যে নাগরিক বোধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং সমকালীন জীবনজিজ্ঞাসা সঞ্চারণের মধ্য দিয়ে তিনি পাঠককে সততই নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করেন। তাই অগ্রসর মানুষের জন্য সৈয়দ শামসুল হক-পাঠের কোনো বিকল্প নেই।
সভাপতির বক্তব্যে কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, সৈয়দ শামসুল হক চিরজীবিত বিশ্ববাঙালি। অন্তর-স্বভাবে এক উধাও বাউল। কিন্তু বহিরঙ্গে নিত্য সৃজনমুখর মানুষ ছিলেন তিনি। তার প্রতিটি অক্ষর নতুনতার স্বাক্ষর। নিজের সৃষ্টিশীলতাকে তিনি বারবার নিজেই অতিক্রম করে গেছেন। বাংলা এবং সমগ্র বিশ্বের পরিপ্রেক্ষিতেই পরিণত হয়েছেন ব্যতিক্রমী সৃষ্টিস্বরে। এ কথা বললে মোটেও অত্যুক্তি হবে না যে, বাংলা ভাষার সর্বকালের অন্যতম মৌলিক লেখকের নাম যেমন সৈয়দ শামসুল হক, তেমনি বিশ্বসাহিত্যের প্রেক্ষাপটেও তিনি অনন্যতার দাবিদার।