আগামী ফেডারেশন কাপে নিষিদ্ধ বসুন্ধরা কিংস ও উত্তর বারিধারা

আগামী মৌসুমের ফেডারেশন কাপেও অংশ নিতে পারবে না দেশের শীর্ষ ফুটবল ক্লাব বসুন্ধরা কিংস ও উত্তর বারিধারা। চলতি ফেডারেশন কাপে অংশগ্রহণ না করায় তাদের ওপর এই শাস্তি আরোপ করেছে বাফুফের ডিসিপ্লিনারি কমিটি।

টুর্নামেন্টের ফরম্যাটে গোলমাল করা ও অনুপযোগী কমলাপুর স্টেডিয়ামের মাঠে খেলা আয়োজনের প্রতিবাদে গতবারের চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায়। পরে উত্তর বারিধারা এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদও সরে দাঁড়ায়। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিন দল দুটি নিজেদের ম্যাচে অংশ নেয়নি। টুর্নামেন্টের বাইলজ অনুযায়ী রেফারিজ ও ম্যাচ কমিশনার রিপোর্ট ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছিল। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে ডিসিপ্লিনারি কমিটি বসুন্ধরা ও বারিধারার প্রতিপক্ষকে ৩-০ গোলে জয়ী ঘোষণা করেছে। বসুন্ধরা ও বারিধারাকে এই টুর্নামেন্ট থেকে প্রত্যাহার করেছে বলে গণ্য করেছে ডিসিপ্লিনারি কমিটি। গ্রুপের অবশিষ্ট ম্যাচেও তাদের অন্য প্রতিপক্ষকে একই ব্যবধানে জয়ী ঘোষণা করা হবে।

বাফুফের ৫ সদস্যের ডিসিপ্লিনারি কমিটির সিদ্ধান্ত জানিয়ে বাফুফে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, বাফুফের ডিসিপ্লিনারি কোডের ৩১ নম্বর ধারা এবং এবারের বসুন্ধরা গ্রুপ ফেডারেশন কাপের ১৯.৩ ধারা অনুযায়ী সর্বসম্মতভাবে উল্লিখিত সিদ্ধান্ত হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাও একই শাস্তি পেতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি ও বাফুফের পেশাদার লিগ কমিটির সভাপতি সালাম মুর্শেদী বলেছেন, ‘শৃঙ্খলা কমিটি বাইলজ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাইলজে আছে, কেউ না খেললে বড় শাস্তি। তা ছাড়া দর্শক মাঠে এসে ফিরে গেলে এবং টুর্নামেন্টের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আর্থিক দায়দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দলের ওপর বর্তাবে। দলগুলো গত ৬ ডিসেম্বর পি.টি এ-তে (পার্টিসিপেটিং টিমস এগ্রিমেন্টে) সই করেছে। কিন্তু এখন ৩টি ক্লাব সেটা লঙ্ঘন করেছে।’

বাফুফে ৩টি দলকেই কারণ দর্শাও নোটিস দিয়েছে। বসুন্ধরা এর কোনো জবাব দেয়নি। বারিধারা বলেছে, চোটের ভয়ে তারা কমলাপুরে খেলছে না। এই জবাব গ্রহণযোগ্য মনে করেনি ফেডারেশন। ফলে দুই দলকেই বড় শাস্তি দেওয়া হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাকে দেওয়া কারণ দর্শানো নোটিসের উত্তর পাওয়ার শেষ সময় ছিল গতকাল সন্ধ্যা।

দুই ক্লাবকে ৫ লাখ টাকা করে জরিমানাও করেছে শৃঙ্খলা কমিটি। এই জরিমানার পরেও বাফুফে কার্যনির্বাহী কমিটি টুর্নামেন্টের ক্ষতিপূরণ হিসেবে আরও আর্থিক জরিমানা ধার্য করতে পারবে দল দুটির ওপর। ডিসিপ্লিনারি কমিটি কর্র্তৃক জরিমানার অর্থ আগামী এক মাসের মধ্যে বাফুফের ব্যাংক হিসাবে দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ে জরিমানা না দিলে ডিসিপ্লিনারি কমিটি পুনরায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। বারিধারা ও বসুন্ধরার মতো মুক্তিযোদ্ধা সংসদ খেলায় অংশ নেয়নি। তাদের শাস্তিও একই হওয়ার কথা। ডিসিপ্লিনারি কমিটির সিদ্ধান্তের বিপরীতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।