বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার বিষয়ে তার ভাইয়ের করা আবেদনের ওপর আইনি মতামত দিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। তবে কী মতামত দেওয়া হয়েছে সেটি জানাননি আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, এই মতামত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং সেখান থেকে এটি যাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে।
আনিসুল হক বলেন, ‘আইনি মতামত দেওয়া হয়েছে। এই আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং সেখান থেকে এটি যাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। তাই কী মতামত দেওয়া হয়েছে সেটা গোপন বিষয়। সেটি জানানো সমীচীন হবে না।’
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দুটি মামলায় ১৭ বছরের কারাদ- পাওয়া খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দি ছিলেন। গত বছরের ২৫ মার্চ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্ত সাপেক্ষে কারাবাস থেকে মুক্তি পান তিনি। ৭৬ বছর বয়সী বিএনপি চেয়ারপারসন দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ নানা রোগে ভুগছেন বলে তার চিকিৎসকরা জানিয়ে আসছেন।
গত ১৩ নভেম্বর থেকে খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরে তার চিকিৎসকরা জানান, পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ ও লিভার সিরোসিসে ভুগছেন তিনি এবং এটি জটিল রোগ হওয়ায় দেশে তার চিকিৎসা সম্ভব নয়। খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানোর দাবি জানিয়ে আসছে তার পরিবার ও বিএনপি। তাকে বিদেশে নিতে আবেদন করেন তার পরিবারের সদস্যরা।
গত ২৩ নভেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসনকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের কাছে স্মারকলিপি দেন বিএনপিপন্থি কয়েকজন আইনজীবী। এরপর আইনমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকদের জানান, আবেদনটি পর্যালোচনা করে শিগগির এ বিষয়ে মতামত দেওয়া হবে।