ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে থাকছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে ৩৫ বছর আগে নির্র্মিত বেশ কয়েকটি ভবন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত সরকারি সাতটি আবাসিক ভবনের চারটিই জরাজীর্ণ হয়ে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে দুটি ভবন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। বাকি দুটিতে ঝুঁকি নিয়ে বাস করতে হচ্ছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

উপজেলা নির্বাহী অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য বনবীথি, কৃষ্ণকলি, কনকচাঁপা, কামিনী, ক্যামেলিয়া ও গ্যাজেটেড কোয়ার্টার নামে সাতটি আবাসিক ভবন রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে ১৯৮৪ সালে। আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনটি তৈরি করা হয় ১৯৬৪ সালে। এ ভবনটি সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনগুলোর ছাদের ঢালাই উঠে গিয়ে রড বেরিয়ে পড়েছে। এমনকি দরজা-জানালাও ভেঙে গেছে। দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও পলেস্তারাও খসে পড়ছে। জরাজীর্ণ ভবনগুলোর পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমেছে। ঝুঁকি নিয়ে এসব জরাজীর্ণ ভবনে পরিবারসহ থাকতে হচ্ছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

ভবনে বসবাসকারীরা জানান, মৃদু ভূমিকম্পেও ভবনগুলো ভীষণভাবে কেঁপে ওঠে, পলেস্তারা খসে পড়ে। এমনকি বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। এসব ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অনেক কর্মকর্তা পরিবার নিয়ে বাইরে ভাড়া বাসায় থাকেন। আবার অনেকে পরিবার গ্রামের বাড়িতে রেখে নিজে মেসে থাকেন। এসব ভবন অপসারণ করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

গ্যাজেটেড কোয়ার্টারের বাসিন্দা উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী আবদুর রাকিব ও উপজেলা বিআরডিবি প্রকল্প কর্মকর্তা মোর্শেদা খানম বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই ছাদ থেকে পানি পড়ে। দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটলও ধরেছে। ভেতরের অবস্থা এতটাই নাজুক, যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় আপাতত এটি নতুন করে নির্মাণ করা হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন ‘ভবনগুলো পর্যায়ক্রমে টেন্ডারের মাধ্যমে ভেঙে নতুন করে তৈরি করতে হবে। এগুলো সংস্কার করলে হবে না। আমি থাকা অবস্থায় ভবনগুলো করে যাব।’

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের বড় ধরনের কাজ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে করা হয়। সরকারিভাবে কিছু ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।’