ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় আবারও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বাধায় রেলওয়ের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। গত রবিবার বিকেল থেকে কাজ বন্ধ রয়েছে বলে রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে। গতকাল বুধবার সকালে বাংলাদেশ রেলওয়ের সিভিল ডিপার্টমেন্টের প্রকৌশলী সোহেল রানার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, দীর্ঘ নয় মাস বন্ধ থাকার পর গত শুক্রবার থেকে কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু গত রবিবার সন্ধ্যা থেকে বিএসএফের বাধায় এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আবারও তিনটি স্থানের মধ্যে দুটি স্থানে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। শুধু সালদা নদী সেতুর কাজ চলছে। কসবা রেলস্টেশন ও সালদা নদী রেলস্টেশনের কাজ বন্ধ রয়েছে। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় কাগজ না থাকায় বিএসএফ বাধা দিয়েছে।
শূন্যরেখার দেড়শ গজের ভেতর কাজ হচ্ছে এমন অজুহাতে বিএসএফের বাধার মুখে গত ৪ এপ্রিল থেকে বন্ধ ছিল ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ব্রাহ্মণবাড়িয়া কসবা এলাকার ৩টি স্থানের কাজ। জটিলতা নিরসনে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আলোচনা করার পর ২৪ ডিসেম্বর থেকে পুনরায় কাজ শুরু হয়।
রেলওয়ের কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা গ্রুপের কর্মকর্তা অনিল চন্দ্র ভৌমিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত রবিবার বিকেলেই বিএসএফ বাধা দেওয়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পক্ষ থেকে লোকজন এসে কাজ বন্ধ রাখতে বলেন। তাই গত রবিবার সন্ধ্যা থেকে পুনরায় কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন কসবা কোম্পানি কমান্ডার হারুনুর রশিদ বলেন, বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তিনি তমা গ্রুপের স্থানীয় কর্মকর্তাদের কাজ বন্ধ রাখার জন্য বলেছেন। এরপর থেকে কাজ বন্ধ রয়েছে। তিনি জানান, কসবা স্টেশন ও সালদা নদী স্টেশনের কাজ শুরু করার বিষয়ে সীমান্তের ওপারের বিএসএফ অধিনায়কও ভারত সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো নির্দেশনা পাননি।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ওপর দিয়ে যাওয়া ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের সম্প্রসারিত ডুয়েলগেজ রেলপথ প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়।