শিক্ষকের ‘অস্বাভাবিক’ মৃত্যু

৪৪ শিক্ষার্থীকে শোকজ কুয়েট কর্তৃপক্ষের

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সেলিম হোসেনের ‘আস্বাভাবিক’ মৃত্যুর ঘটনায় ৪৪ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিস (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এই নোটিস দেয় কুয়েট ছাত্র কল্যাণ পরিষদ। এসব শিক্ষার্থীকে আগামী ৩ জানুয়ারির মধ্যে নোটিসের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

কুয়েটের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম জানান, শোকজ করা শিক্ষার্থীদের জবাব পাওয়ার পর তা যাবে শৃঙ্খলা কমিটিতে। সেখান থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে উত্থাপন করা হবে।

এর আগে গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয় শিক্ষক সেলিমের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদনটি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্রে তদন্ত প্রতিবেদনটির ব্যাপারে বেশকিছু তথ্য জানা গেছে। জানা গেছে, অধ্যাপক সেলিমের মৃত্যুর ঘটনায় শিক্ষার্থীরা যে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন, তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওই ঘটনায় জড়িত ৪৪ শিক্ষার্থীর ভূমিকা আলাদা করে তদন্ত প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনায় তারা সরাসরি যুক্ত, এমনটা প্রমাণ করা যায়নি। তবে তাকে যে মানসিক নিপীড়ন করা হয়েছিল, তা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তদন্ত কমিটি শাস্তির কোনো সুপারিশ করেনি। বিষয়টা তারা প্রশাসনের হাতে ছেড়ে দিয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কুয়েটের ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য সচিব ও ছাত্রকল্যাণ পরিষদের পরিচালক অধ্যাপক ইসমাঈল সাইফুল্যাহ বলেন, ‘শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনায় যাদের নাম এসেছে, আমরা তাদের শোকজ নোটিস পাঠাচ্ছি। উত্তর দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। উত্তরগুলো পাওয়ার পরই শৃঙ্খলা কমিটির সভা হবে। সেখানে বিষয়গুলো উত্থাপন করা হবে। শাস্তি পাওয়া বা না-পাওয়ার বিষয়ে ওই সভায় সিদ্ধান্ত হবে। ক্যাম্পাস খোলার আগেই এই প্রক্রিয়া শেষ হবে।’

তদন্ত কমিটির প্রধান মহিউদ্দিন আহমাদ বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্তভাবে তারা তদন্ত করেছেন। প্রতিবেদনে পর্যবেক্ষণসহ ৯টি সুপারিশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে জানার পর তারা এ ব্যাপারে কথা বলবেন।

উল্লেখ্য, গত ৩০ নভেম্বর কুয়েটের লালন শাহ হলের প্রাধ্যক্ষ সেলিম হোসেন ক্যাম্পাসের কাছের ভাড়া বাসায় মারা যান। অভিযোগ ওঠে, মৃত্যুর দিন দুপুরে বাসায় ফেরার পথে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অধ্যাপক সেলিমকে বিভাগে তার কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তার ওপর মানসিক নিপীড়ন চালানো হয়। এর আগেও হলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার ওপর মানসিক চাপ দেওয়া হচ্ছিল। কুয়েট শিক্ষক সমিতি বলছে, এটি হত্যাকাণ্ড। অধ্যাপক সেলিমের পরিবারও এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেছে।