ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট ভারতে করোনা মহামারির তৃতীয় ঢেউয়ের কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দেশটির কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
করোনার সংক্রমণ হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় শনিবার সব ভারতের রাজ্যে ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা ও কন্ট্রোল রুম স্থাপনসহ ৫ দফার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানায়, দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব রাজেশ ভূষণ সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যসচিবদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে করোনার সংক্রমণ মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
চিঠিতে স্বাস্থ্য সচিব রাজ্যগুলোকে অস্থায়ী হাসপাতাল স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু এবং সংক্রমণ পর্যবেক্ষণে কন্ট্রোল রুম গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন এবং করোনার জন্য নির্দেশিত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো পুনরায় প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, হঠাৎ করে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোতে চাপ পড়তে পারে। তাই ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা উচিত এবং জেলা পর্যায়ে নজরদারি বাড়াতে হবে।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যে দেখা গেছে, শনিবার সকালের আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ২২ হাজার ৭৭৫ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
এর আগের ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছিল ১৬ হাজার ৭৬৪ জন রোগী। একদিনের ব্যবধানে আক্রান্ত বেড়েছে ৩৫ শতাংশ।
শুক্রবার রাজেশ ভূষণ এবং আইসিএমআর প্রধান বলরাম ভার্গব সব রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে চব্বিশ ঘণ্টার র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট বুথ স্থাপন, চিকিৎসা ও প্যারামেডিকেল কর্মীদের নিয়োগের পরামর্শ দেন। এছাড়া, উপসর্গযুক্ত ব্যক্তিদের হোম টেস্ট কিট ব্যবহারে উৎসাহিত করারও পরামর্শ দেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির ঘনবসতিপূর্ণ নগরীগুলোতে খুব দ্রুতগতিতে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, এসব নগরীর মধ্যে রাজধানী নয়া দিল্লি, বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই ও আরেক জনবহুল শহর কলকাতা উল্লেখযোগ্য।
পশ্চিমবঙ্গে ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছে নতুন ৩৪৫০ জন রোগী, এদের মধ্যে অন্তত ১৯৫০ জনকে পাওয়া গেছে রাজ্যের রাজধানী কলকাতায়। রাজ্যটিতে এ পর্যন্ত ১৬ জন ওমিক্রন আক্রান্ত পাওয়া গেছে।
এদিকে, ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার কেন্দ্রীয় পরিবার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী- ভারতের ওমিক্রনে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৩১ জনে। সরকার জানিয়েছে, দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসের এই ভ্যারিয়েন্টটি ২৩টি রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।
গত বছর ভারত কোভিড-১৯ এর ভয়াবহ ঢেউয়ের কবলে পড়েছিল। সংক্রমণের সর্বোচ্চ সময় দৈনিক প্রায় ৪ লাখ রোগী শনাক্ত হয়েছিল। তবে তারপর থেকে নতুন রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়ে ১০ হাজারেরও অনেক নিচে নেমে গিয়েছিল।
কিন্তু এখন ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট মহামারির তৃতীয় আরেকটি ঢেউয়ের কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দেশটির কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। দেশটিতে ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা এখন ১৪৩১ জনে দাঁড়িয়েছে।