সিরাজগঞ্জে সংঘর্ষ

অস্ত্রধারী ‘যুবলীগ নেতাদের’ এখনো শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ

সিরাজগঞ্জ শহরে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির নেতা কর্মীদের নামে আরও দুটি পৃথক মামলা হয়েছে।

শনিবার রাতে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ বিন আহম্মেদ ও সিরাজগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ মুন্না বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাজ্জাদুর রহমান বলেন, আব্দুল্লাহ বিন আহম্মেদের করা মামলায় ৫৮ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ১০০-১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আর সুলতান মাহমুদ মুন্নার করা মামলায় ১০৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০০-১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আগের দিনের ৪ মামলা, গ্রেপ্তার

এ ঘটনায় গত শুক্রবার পুলিশ বাদী হয়ে ৩টি এবং এক আওয়ামী লীগ কর্মী বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। ওই চার মামলায় মোট ৭ শতাধিক বিএনপির নেতা কর্মীকে আসামি করা হয়েছে।

ওই মামলায় শনিবার সন্ধ্যার পর সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সহসভাপতি নাজমুল হাসান তালুকদার রানা ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হাসান রঞ্জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে এ দুজনকে সিরাজগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে রেজাউল ও ইমন মুন্সী নামের আরও দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, একই আসামিদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হওয়ায় মামলার মোট আসামির সংখ্যা কমে আসবে।

অস্ত্রধারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে

অপরদিকে ওই দিনের সহিংসতার ঘটনায় অস্ত্রধারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া অস্ত্রধারীদের মধ্যে ফুলহাতা শার্ট, ধূসর জিনস প্যান্ট, গলায় লাল মাফলার ও মাথায় ক্রিকেট খেলার হেলমেট পরা অস্ত্রধারী ব্যক্তির নাম বায়েজিদ আহম্মেদ টরি। তার বাড়ি শহরের একডালা কোলগয়লা মহল্লায়। আর গোলাপী, কালো ও ধূসর রঙের ফুলহাতা সোয়েটার ও নেভি ব্লু প্যান্ট পরা অস্ত্রধারী ব্যক্তি সুমন হোসেন। তার বাড়ি শহরের দত্তবাড়ি বিন্দুপাড়ায়।

দুজনই স্থানীয় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে তাদের কোনো দলীয় পদ-পদবি নেই বলে জানান ওই স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, বৃহস্পতিবার ইসলামিয়া কলেজ মাঠের সমাবেশে যাওয়ার পথে বিএনপির নেতা কর্মীদের ওপর ক্ষমতাসীন দল ও অঙ্গসংগঠন হামলা চালায়। পরে উভয় পক্ষের সংঘর্ষ বাধে।

তিনি জানান, সংঘর্ষকালে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা সিরাজগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন কাটাখালী ব্রিজের পশ্চিম পাশে অবস্থান নেয়। এ সময় করা এক ভিডিওতে ওই পাশ থেকেই পিস্তল হাতে গুলি করতে দেখা গেছে। কাজেই পিস্তল প্রদর্শনকারীরা ক্ষমতাসীন দলেরই লোক।

পিস্তল প্রদর্শন প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, পিস্তল প্রদর্শন করার কথা শুনেছি। তাদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

বিএনপির মামলার আবেদন

অন্যদিকে রবিবার দুপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় আওয়ামী লীগের ১৭৩ নেতা কর্মীর নামে মামলার আবেদন করেছে বিএনপি।

জেলা বিএনপির কর্মী নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে ১১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৬০ জনকে আসামি করে জেলার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলার আবেদন করেন।

এ মামলায় সিরাজগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হেলাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক দানিউল হক মোল্লা, জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ ইউসুফ জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আহসান হাবিব খোকা, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ বিন আহম্মেদসহ বেশ কিছু নেতা কর্মীদের আসামি করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম মামলার আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ বিল্লাল হোসাইন শুনানি শেষে আদেশ প্রদানের জন্য রেখে দিয়েছেন।