আক্রমণাত্মক ফুটবলের প্রদর্শনী ছিল না কারও খেলাতেই। প্রতিপক্ষের রক্ষণে সেভাবে চড়াও হতে পারেনি দুদল। তবে চট্টগ্রাম আবাহনী করল ভুল। যেটা কাজে লাগিয়ে ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালে উঠে এসেছে মোহামেডান। তারা জিতেছে ২-১ ব্যবধানে।
প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য। বিরতির পর দুই গোলে এগিয়ে যায় মোহামেডান। শেষ দিকে এক গোল শোধ দিয়ে কেবল হারের ব্যবধান কমিয়েছে ২০১৭ সালের রানার্স-আপ চট্টগ্রাম আবাহনী। গতবার সেমিফাইনাল খেললেও এবার মারুফুল হকের শিষ্যদের থামতে হলো শেষ আটে।
গেল আসরে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের কাছে টাইব্রেকারে হেরে কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকেই বিদায় নিয়েছিল মোহামেডান। এবার অবশ্য শন লিনের দল শেষ চারে এসে ফেডারেশনের উত্তেজনা জিইয়ে রেখেছে। এমনিতেই বসুন্ধরা কিংস সরে দাঁড়ানোয় আসরের আকর্ষণ অনেকটাই ফিকে হয়ে গিয়েছিল। ম্যাচের শুরুতে অবশ্য দারুণ একটা দ্বৈরথের আভাস মিলেছিল। দ্বিতীয় মিনিটেই গোলের সুযোগ পেয়েছিল মোহামেডান। ডান দিক থেকে ওবি মোনেকের নিচু ক্রস নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি সুলেমানে দিয়াবাতে ও শাহেদ মিয়া। এরপর থেকে দুদলই খেলতে থাকে সাবধানী ফুটবল। ৩৫ মিনিটে পোস্ট ছেড়ে অনেকটাই বেরিয়ে হাত দিয়ে বল ঠেকিয়ে চট্টগ্রাম আবাহনীর আক্রমণ নষ্ট করেন মোহামেডানের গোলকিপার সুজন হোসাইন। ফাউলের বাঁশি বাজান রেফারি। যদিও তাকে লালকার্ড দেখাননি রেফারি। রেফারির সিদ্ধান্ত মানতে না পেরে ম্যাচ কমিশনার সৃজিত কুমার ব্যানার্জির কাছে আবেদন জানাতে প্রেস বক্সে চলে আসেন চট্টগ্রাম আবাহনীর ম্যানেজার আরমান আজিজ। সৃজিত ভিডিও দেখে পরে বিষয়টি দেখার প্রতিশ্রুতি দিলে চলে যান আরমান। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে শাখাওয়াত হোসেন রনির শট ফিরিয়ে দেন মোহামেডান কিপার। ৬৩ মিনিটে মোহামেডানের মোনেকের জোরালো কোনাকুনি শট দূরের পোস্ট দিয়ে বেরিয়ে যায়। দুমিনিট পর অবশ্য এগিয়ে যায় ফেডারেশন কাপের ১০বারের চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান। অনিক হোসেনের ছোট পাসে বক্সের ভেতর থেকে শাহেদের প্লেসিং শট আরাফাত হোসেনের পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়।
৭৩তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ হয় সাদা-কালোদের। গোলরক্ষক সাইফুল ইসলামের পাস পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি কামরুল। বলের দখল নিতে ছুটে আসেন মোহামেডানের শাহরিয়ার ইমন। তাড়াহুড়ো করে কামরুল ক্লিয়ার করতে শট নেন। যা ইমনের পায়ে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে থ্যাঙ্কগড হেডে ব্যবধান কমান। কিন্তু তা দলের হার এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।
সহজ জয়ে সেমিতে সাইফ
শুরু থেকেই সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের মুহুর্মুহু আক্রমণ রুখে দিচ্ছিলেন স্বাধীনতা ক্রীড়া সংঘের কিপার সারোয়ার হোসেন। এভাবেই কেটে যায় ৪২ মিনিট। এরপরই ভাঙে সব প্রতিরোধ। সেটা সেই সারোয়ারেরই ক্ষণিকের ভুলে। সুযোগসন্ধানী গোলে দলকে এগিয়ে নেন রহিমউদ্দিন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান দ্বিগুণ করে সাইফের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেন মারাজ হোসেন। গোটা ম্যাচেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে সাইফ। তবে তাদের আক্রমণগুলো দারুণভাবে রুখে দিচ্ছিলেন সারোয়ার। সপ্তম মিনিটে এমফন সানডে উদোহর শট আটকানোর পর আসরোর গফুরোভের ফিরতি শটও রুখে দেন তিনি। এরপর আরও ৪টি সুযোগ নষ্ট হয় সাইফের ৪২ মিনিটে অবশ্য জামালের কর্নার আয়ত্তে নিতে পারেননি সারোয়ার। গ্লাভস ফসকে গেলে রহিম সহজেই বল জালে জড়ান। ৭১তম মিনিটে গফুরভের অসাধারণ থ্রু ধরে নিখুঁত শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মারাজ।