বিএনপি চেয়ারপারসন ও খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে দেশের ৩২টি জেলায় সমাবেশ শেষে তার মূল্যায়ন করতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ জেগে উঠেছে, তারা রাজপথের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করতে চায়। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ জেলা সমাবেশে হামলা করে প্রমাণ করেছে তারা আসলেই একটি সন্ত্রাসী দল। দলটির জন্ম থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সন্ত্রাস ছাড়া টিকে থাকতে পারেনি।’ গতকাল রবিবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, ‘দাবি আদায়ে আমরা যে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছি তাতে আমরা দেখেছি দেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছে। অথচ অনির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকার উদ্বিগ্ন হয়ে, ভীত হয়ে শান্তিপূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচিতে আক্রমণ চালিয়েছে। দেশের মানুষ চায় না অনির্বাচিত সরকার আর ক্ষমতায় থাকুক, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করুক। জনগণ খালেদা জিয়া মুক্তি চায় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাক সেটা দেখতে চায়।’
তিনি বলেন, ‘প্রথম থেকেই তারা বিভিন্ন পদ্ধতিতে বাধা দিয়েছে। কখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে, কখনো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দিয়ে আক্রমণ করে আন্দোলনকে দমন করার চেষ্টা করেছে। হবিগঞ্জে ছাত্রদলের কয়েকজনের চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়ে আছে। প্রায় দুই হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছে। পটুয়াখালীতে হামলা করে প্রায় ৩৫ নেতাকর্মীকে আহত করেছে। নওগাঁয় সভাই করতে দেওয়া হয়নি। এছাড়া যেখানে যেখানে সমাবেশের স্থান ঠিক করা হয়েছিল, প্রায় প্রতিটি জায়গায় আওয়ামী লীগও সভা ডাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। ফেনী ও যশোরে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করেই সভা করেছে বিএনপি। ঠাকুরগাঁওয়েও রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য জেলায় পরিবহন চলাচল বন্ধ করে কর্মী-সমর্থকদের সমাবেশস্থলে আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে। সবশেষ সিরাজগঞ্জে আওয়ামী লীগের অস্ত্রধারীরা অসংখ্য মানুষকে হতাহত করে সমাবেশকে পণ্ড করতে চেয়েছে। সব বাধা অতিক্রম করে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে সমাবেশ সফল করেছে।’
সিরাজগঞ্জে হামলার বিষয়ে মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, সিরাজগঞ্জে বিএনপির সমাবেশে হামলা করেছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এদের মধ্যে একডালা মধ্যপাড়ার বায়েজিদ, দত্তবাড়ির সুজয়, কোল গয়লার সুমন ও জনি চারটি পিস্তলসহ প্রকাশ্য দিবালোকে হামলা চালায়। প্রকাশ্য দিবালোকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা সমাবেশে হামলা করে বিএনপির নেতাকর্মীদের গুরুতর আহত করে। তাদের ছবি পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। অথচ বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে মামলা দিয়ে জেলা বিএনপির সহসভাপতি নাজমুল হাসান তালুকদার রানা ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হাসানসহ অন্য নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় পুলিশ।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায়ে আওয়ামী লীগ ১৭৩ দিন হরতাল পালন করেছিল। তখন তারা তৎকালীন হোটেল শেরাটনের সামনে গান পাউডার দিয়ে বাস পুড়িয়ে ১১ জনকে হত্যা করেছিল। এটা নতুন কোনো ব্যাপার নয়। সেই পাকিস্তান আমলে অ্যাসেম্বলির মধ্যে ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলীকে পিটিয়ে হত্যা করার মধ্য দিয়ে শুরু। তারপর সবকিছুর মধ্যে তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।’
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জের বিএনপির সমাবেশে হামলার ঘটনা তুলে ধরেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মশিউর রহমান, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন প্রমুখ।