সিরাজগঞ্জ শহরে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষের ঘটনায় শনিবার রাতে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আরও দুটি পৃথক মামলা করা হয়েছে। এ নিয়ে দলটির বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা হলো।
ওই দিন সন্ধ্যার পর সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সহসভাপতি নাজমুল হাসান তালুকদার রানা ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হাসান রঞ্জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল রবিবার আদালতের মাধ্যমে তাদের সিরাজগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়। এ ছাড়া পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে রেজাউল ও ইমন মুন্সী নামের আরও দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে গতকাল আওয়ামী লীগের ১৭৩ নেতাকর্মীর নামে আদালতে অভিযোগ দাখিল করেছে বিএনপি। সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির কর্মী নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে ১১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আর ৬০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন জেলার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে।
সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ বিন আহম্মেদ ও সিরাজগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ মুন্নার বাদী হয়ে মামলা করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিরাজগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাজ্জাদুর রহমান। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহর করা মামলায় ৫৮ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ১০০-১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আর মুন্নার দায়ের করা মামলায় ১০৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০০-১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে এ ঘটনায় গত শুক্রবার পুলিশ বাদী হয়ে ৩টি ও এক আওয়ামী লীগ কর্মী বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। ওই চার মামলায় বিএনপির ৭ শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, একই আসামির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হওয়ায় ছয়টি মামলায় মোট আসামির সংখ্যা কমে আসবে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া অস্ত্রধারীদের মধ্যে ফুলহাতা শার্ট, ধূসর জিনস প্যান্ট, গলায় লাল মাফলার ও মাথায় ক্রিকেট খেলার হেলমেট পরা ব্যক্তির নাম বায়েজিদ আহম্মেদ টরি। তার বাড়ি শহরের একডালা কোলগয়লা মহল্লায়। আর গোলাপি, কালো ও ধূসর রঙের ফুলহাতা সোয়েটার ও নেভি ব্লু প্যান্ট পরা অস্ত্রধারী ব্যক্তি সুমন হোসেন। তার বাড়ি শহরের দত্তবাড়ি বিন্দুপাড়ায়। দুজনই স্থানীয় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে তারা কোনো পদে নেই।
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, বৃহস্পতিবার সংঘর্ষকালে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সিরাজগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজসংলগ্ন কাটাখালী ব্রিজের পশ্চিম পাশে অবস্থান নেয়। বিএনপির নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয় পূর্ব পাশে। ভিডিওতে পশ্চিম পাশের লোকজনকেই পিস্তল হাতে গুলি করতে দেখা গেছে। কাজেই পিস্তল প্রদর্শনকারীরা ওই দলেরই লোক।
ওই সংঘর্ষের সময় ধারণ করা কাটাখালী ব্রিজ এলাকার কয়েকটি ভিডিও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে ব্রিজের পশ্চিম পাশে অবস্থানকারীদের মধ্যে তিনজনকে তিনটি পিস্তল প্রদর্শন করতে দেখা যায়।
তিনটি পিস্তল প্রদর্শন প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, পিস্তল প্রদর্শন করার কথা শুনেছি। তাদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে বিএনপি কর্মীর আদালতে করা অভিযোগে সিরাজগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হেলাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক দানিউল হক মোল্লা, সিরাজগঞ্জ জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ ইউসুফ জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক, সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আহসান হাবিব খোকা, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ বিন আহম্মেদসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নাম রয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ বিল্লাল হোসাইন শুনানি শেষে আদেশের জন্য রেখে দিয়েছেন।