লৌহজংয়ে খাল দখলে বিলুপ্তির পথে আলু চাষ!

দেশের এক-তৃতীয়াংশ আলু উৎপাদনের জেলা হিসেবে খ্যাত মুন্সীগঞ্জ। তবে এ জেলার লৌহজং উপজেলায় আলু চাষ এখন বিলুপ্তির পথে। খালগুলো প্রভাবশালীদের দখলে এবং প্রতি বছর বর্ষার পানি নদী সংযুক্ত খাল দিয়ে বেরোতে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় জমিগুলো আলু চাষের উপযোগী করতে কিংবা বীজ বপন করতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে

কৃষকদের। এ উপজেলায় নদীভাঙন, খাল দখল, খাল ভরাট ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কৃষি খাতে বছরে অন্তত তিন হাজার কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে কৃষকদের। ফলে কৃষি পেশাও পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে অনেকে।

জানা যায়, জেলার ছয়টি উপজেলার মধ্যে লৌহজং আলুর আবাদ ও উৎপাদনে চতুর্থ স্থানে ছিল। পদ্মা নদীবেষ্টিত উপজেলাটি বিভিন্ন খাল-নালা দিয়ে ঘেরা। এতে বর্ষায় জমিগুলোতে পলি পড়ে তার উর্বরাশক্তি বৃদ্ধি করে অন্যান্য স্থানের চাইতে অনেক বেশি। তবে চলতি মৌসুমে বীজআলু বপনের সময়ে অতিবাহিত হলেও এখনো জমি পরিচর্যা করতে পারেননি কৃষকরা। কিছু কৃত্রিম সংকটের কারণে জমি থেকে সংশ্লিষ্ট খালগুলো দিয়ে পানি বেরোতে সময় নিচ্ছে। বেশির ভাগ খাল প্রভাবশালীদের দখলে ও পলি জমে থাকার কারণে মুখগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এখনো পানিতে ভরা আলু আবাদের বেশিরভাগ জমি। গত মৌসুমে ৪২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে ১ লাখ ৩৫ হাজার মেট্রিকটন আলু উৎপাদন করা হয়েছে। এ বছরের শুরুতে ৪০০ হেক্টর জমিতে আলু রোপণ করা হলেও টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে পুরোটাই নষ্ট হয়ে যায়।

কৃষক রমজান আলী জানান, গত বছর আড়াইশ মণ আলু পেয়েছি। এ বছর আলু রোপণ করব না। কারণ এখনো জমিতে পানি রয়েছে। এখন আলু রোপণ করলে অনেক লোকসান হবে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত খাল খনন ও দখল উচ্ছেদ করা হোক।

উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জাকির হোসেন ব্যাপারী বলেন, পাশর্^^বর্তী উপজেলাগুলোয় ইতিমধ্যে আলুর বীজ বপন শুরু হয়ে গেছে এবং নতুন আলু বাড়তি দামে বিক্রিও করে ফেলছে। কিন্তু লৌহজং উপজেলায় এখনো আলুর জমিগুলো প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি। যদি খাল খনন ও দখলমুক্ত না করা যায় তাহলে কৃষক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং এখানে আলু চাষ বিলুপ্তির পথে চলে যাবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম জানান, উপজেলার বেশ কিছু এলাকার জমি এখনো প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি। কারণ বেশিরভাগ খালের মুখ বালু দিয়ে ভরাট কিংবা দখল হয়ে গেছে। ফলে বর্ষায় পানি প্রবেশ করতে পারলেও তা বেরোতে দেরি হচ্ছে। যদি দ্রুত খালগুলো খনন করা যেত তাহলে উপজেলার কৃষকেরা সঠিক সময়ে আলু রোপণ করতে পারতেন।

খাল দখল ও খননের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল আউয়াল বলেন, লৌহজংয়ের বেশ কিছু শাখা খাল রয়েছে, যেগুলো পলি পড়ে ভরাট হয়েছে। অনেক জায়গায় খাল দখলেরও অভিযোগ পেয়েছি। আমরা এর তালিকা তৈরি করছি। দ্রুত খাল দখলমুক্ত ও খনন করার ব্যবস্থা করা হবে।