অন্তত ১৫০ রানের লিড চান সুজন

২০১৭ সালের ১২ জানুয়ারি হ্যামিলটন টেস্ট  ফিরে আসছিল যেন। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে সেদিন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে সেরা দিনটি কাটায় বাংলাদেশ। পাঁচ বছর পর আরেকবার নিউজিল্যান্ডে ফুটবল বাংলাদেশের হাসি। মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টের ৩ দিন শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের দখলে। পরিস্থিতি বিচারে ২০১৭ টেস্টের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ এই টেস্টে বাংলাদেশের সাফল্যটা। সেবার ব্যালান্সড দল নিয়ে সাকিব দ্বিশতক করেছিলেন, মুশফিক করেন সেঞ্চুরি। কিন্তু এই টেস্টে সাম্প্রতিক চাপ ঘিরে ছিল বাংলাদেশ দলকে। সঙ্গে তরুণ ব্যাটিং লাইন নিউজিল্যান্ড কন্ডিশনে তাদের পেসারদের কতটুকু সামলাতে পারবে সেই প্রশ্নও ছিল। সব পাশে রেখে দারুণ খেলছে বাংলাদেশ। বল হাতে সাফল্য দেখানোর পর ব্যাটেও দাপট ধরে রেখেছে মুমিনুল হকের দল। দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসা খালেদ মাহমুদ সুজন জানান ৭০ (৭৩) রানের লিডের সঙ্গে আরও ৭০ রান চান। মোট ১৫০ রানের লিড থাকলে স্বস্তির অবস্থানে থাকবেন। 

টেস্টের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ৭৩ রানের লিড বিরাট ব্যাপার। যদিও ম্যাচের এখনো অনেকটা সময় বাকি। বাকি অনেক ছন্দপতনেরও। তবুও এখন পর্যন্ত এই সাফল্য উজ্জীবিত করে তুলছে দলকে। পরিকল্পনার বাস্তবায়না এখন শুভ কিছুর স্বপ্নও দেখতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। আর তা সম্ভব হয়েছে মুমিনুল হক ও লিটন দাশের পঞ্চম উইকেটে দায়িত্বশীল ১৫৮ রানের জুটিতে। দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসা টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন তাই পুরো কৃতিত্ব দিচ্ছেন এই দুই ব্যাটারকেই, ‘মুমিনুল ও লিটনের জুটিটা ছিল অসাধারণ। নিউজিল্যান্ডের এই বোলিং অ্যাটাকটা কিন্তু সবসময়ই নিয়ন্ত্রিত, ওদের বিপক্ষে এ দুজন দারুণ সফলতার সঙ্গে ব্যাট করেছে। মুমিনুল সেরা ইনিংসটা খেলেছে, খুবই দায়িত্বশীল। অনেক বল ছেড়েছে সে, যেমনটা শুরুতে জয় করেছে। এগুলো আসলে পরিকল্পনার সঠিক প্রতিফলন। আর লিটন তার স্বভাবসুলভ সাবলীল খেলাটা দিয়েছে। আল্লাহর রহমতে আমরা এখন এই ম্যাচে ডিমনেট করার অবস্থানে আছি।’

সুজন জানান, নিউজিল্যান্ড বোলাররা যখন নিয়ন্ত্রিত বল শুরু করে তখন উইকেটে সময় কাটানোর পরিকল্পনা ছিল দলের। যেন বল পুরনো হয় এবং প্রতিপক্ষ বোলাররা ক্লান্ত হয়ে পড়ে বা বাজে জায়গায় বল করা শুরু করে। তৃতীয় দিন শুরুতে নতুন বল নিয়ে নিউজিল্যান্ড ভালো শুরু পায়। রান-ই দিচ্ছিল না বলে জানান সুজন। তখন মুশফিক, মুমিনুল ও জয়রা উইকেটে থেকে পরিকল্পনা সফল করেছেন। যা কাজে দিয়েছে দিনের বাকি সময়ে। সুজন জানান, ‘দিনের শুরুতে দ্বিতীয় নতুন বলে টাইট লাইনে বল করছিল ওরা। সিঙ্গেলও দেয়নি আমাদের। তখন মুমিনুল ও মুশফিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলেছে। ওদের পরিকল্পনা সফল করার চেষ্টা ছিল দারুণ এবং তারা সফল। আমরা তরুণ একটা ব্যাটিং লাইন নিয়ে অবশ্যই চাপে ছিলাম। কিন্তু সবাই যেভাবে এগিয়ে এসেছে তা অসাধারণ। মুমিনুল, জয়ের পর লিটনকে দেখে খুব ভালো লেগেছে। ওকে ছন্দে দেখতে সবসময়ই ভালো লাগে। এটা আমাদের অন্যতম সেরা দিন।’

সুজনের চোখে আজকের সকালটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। বাকি চার উইকেটে আরও ৭০ রান চান তিনি। উইকেটে প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যান ইয়াসির আলি রাব্বি ও মেহেদী হাসান মিরাজ থাকায় ভরসা পাচ্ছেন সাবেক অধিনায়ক। হতাশাজনক অবস্থান থেকে দলকে উজ্জীবিত রাখতে বরাবরই চেষ্টা করছেন সুজন। জয়ের চিন্তা না আনলেও চাইছেন সাহসী ক্রিকেট দিয়ে এই টেস্ট ড্র করতে। ছেলেদের সেভাবেই পরামর্শ দিচ্ছেন সুজন, ‘আমি সবার সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলি। চেষ্টা করি প্রেরণা দিতে। একটা গ্রুপকে তো ভালো করতে হবে। এই গ্রুপটাই করতে পারে। প্রক্রিয়া যেন ঠিক থাকে, সাহস নিয়ে খেলতে পারি। তবে ভয় ছিল, সত্যি বলতে কি তরুণ একটা দল। আমরা টিকে থাকতে চাই, ভালো করতে চাই। জিততে যদি নাও পারি আমরা এই টেস্ট ড্র করতে চাই। এখনো ১৮০ ওভার বাকি আছে। এই উইকেটে তাড়াতাড়ি রান করা কঠিন হবে, যদি ভালো বল করি।’